পুরনো দিনের কামরা অতীত! শিয়ালদা, হাওড়া লাইনে হাই-ফাই লোকাল ট্রেন! উদ্যোগ রেলের

লোকাল ট্রেন (Local Train) যে কোনো শহরের হৃদয়। এই লোকাল ট্রেনে করে প্রত্যেকদিন কয়েক লক্ষ মানুষ এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলেছে যে যার গন্তব্যে। লোকাল ট্রেন কলকাতার ক্যানভাসে একটি প্রাণবন্ত আখ্যান আঁকে যেন। তবে রোজকার লোকাল ট্রেনে যাতায়াত করা কিন্তু মোটেই মুখের কথা নয়।

সিংহভাগ লোকাল ট্রেনকে দেখলেই মনে হবে মুড়ির টিন। ভিড়ে ঠাসাঠাসি করে, আবার মাঝেমধ্যে বহু মানুষকে দেখা যায় হয় ট্রেনের সিট নিয়ে নয়তো দাঁড়ানোর জায়গা নিয়ে মারামারি অবধি করতে। তবে এসবের অন্ত ঘটতে চলেছে এবার। ট্রেন যাত্রা এখন আরও মাখন হতে চলেছে। শিয়ালদহ (Sealdah), হাওড়া (Howrah) ডিভিশনের লোকাল ট্রেনগুলির চেহারাই বদলে দেওয়ার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে ভারতীয় রেল (Indian Railways)।

   

ট্রেনের অন্দরসজ্জা থেকে শুরু করে, বসার আসন, সর্বোপরি ভারী দরজা, ইত্যাদি সবকিছুতেই বিরাট পরিবর্তন ঘটাতে চলেছে রেল। নিত্য রেল যাত্রীদের ভ্রমণ যাতে আরও সহজ হয় তার জন্য বিরাট পরিবর্তন ঘটাতে চলেছে ভারতীয় রেল। রেলের ইঙ্গিত অনুযায়ী, আগামী দিনে এই শহর ও শহরতলির বুক চিড়ে ছুটে চলা লোকাল ট্রেনগুলিতে মানুষ উঠলে সেটা ট্রেন না মেট্রো ধরতে পারবেন না।

ইতিমধ্যেই যাঁরা হাওড়া ডিভিশনের যাত্রী তাঁরা জানবেন, হাওড়া বর্ধমান মেইন লাইনের বেশ কিছু লোকাল ট্রেনের ক্ষেত্রে এমন পরিবর্তন আনা হয়েছে। যে সকল লোকাল ট্রেনে যাত্রীদের চলাফেরা থেকে শুরু করে দাঁড়ানোর জন্য অনেক বেশি জায়গা দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি এই সকল লোকাল ট্রেনে চালু করা হয়েছে টিভি। হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন। টিভিতে বিজ্ঞাপন দেখানোর পাশাপাশি মাঝেমধ্যেই দেখানো হচ্ছে কার্টুন থেকে শুরু করে চার্লি চ্যাপলিনের মতো শো। আর এই ব্যবস্থা নিত্য রেলযাত্রীদের ভ্রমণের আনন্দকে আরও দ্বিগুণ করে দিয়েছে।

Local train

লোকাল ট্রেনের দরজা মানেই হল সেই মান্ধাতার আমলের ভারী দরজা, যেটা খুলতে দারা সিংয়ের মতো গায়ে শক্তি না হলে খোলা সম্ভব নয়। তবে আগামী দিনে এই দরজাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন বেশ কিছু লোকালের দরজা এমন লাগানো হয়েছে যেটি ব্যবহার করে সকলের মুখ থেকে একটাই কথা বেরোচ্ছে, ‘এ তো মাখন নয়তো এ তো পালক’।

লোকাল ট্রেনের জানালা থেকে শুরু করে ফ্যান, আলো সবকিছুতেই পরিবর্তন আনা হয়েছে।এছাড়াও মেট্রোর মতো লোকাল ট্রেনে লাগানো হয়েছে পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম। এর ফলে যাত্রীরা ট্রেনে বসেই কোন স্টেশন আসছে তা বুঝতে পারবেন।

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর