প্রতিবছর এই দিনে বজবজ থেকে শিয়ালদা একটি বিশেষ ট্রেন চালায় রেল! কারণ গর্বিত করবে

শিকাগো (Chicago) থেকে স্বামী বিবেকানন্দের (Swami Vivekananda) ১২৮তম প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ১৯ ফেব্রুয়ারি বজবজ (Budge Budge) থেকে শিয়ালদহ (Sealdah) পর্যন্ত একটি বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূর্ব রেল (Eastern Railways)। ১৮৯৭ সালে মার্কিন শহর থেকে কলকাতায় ফেরার পথে বিবেকানন্দ মাদ্রাজ (বর্তমানে চেন্নাই) স্টিমারে যাত্রা করেছিলেন, যা মহানগরী থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে হুগলি নদীর তীরে বজবজে নোঙর করেছিল।

১৮৯৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার বজবজ থেকে ট্রেনে করে কলকাতায় আসেন বিবেকানন্দ। স্বামী বিবেকানন্দ ১৮৯৩ সালে বিশ্ব ধর্ম মহাসভায় ঐতিহাসিক বক্তৃতা দিয়েছিলেন, কিন্তু চার বছর পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ভ্রমণ করে বক্তৃতা দেওয়ার পরে ভারতে ফিরে আসেন।

   

এই উপলক্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে, পূর্ব রেল এই ট্রেন ছালায় বলে খবর। যদিও এই বিষয়টি কিন্তু নতুন নয়। বিগত কয়েক বছর ধরেই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এই কাজ করে চলেছে পূর্ব রেল। রেলের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, বক্তৃতার প্রায় চার বছর পর ১৮৯৭ সালে আমেরিকা থেকে ফেরার পথে স্বামীজি মাদ্রাজ থেকে স্টিমারে কলকাতা থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত বজবজ ডকে নামেন এবং তারপর ১৮৯৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বজবজ থেকে ট্রেনে কলকাতায় আসেন।

পূর্ব রেল জানাচ্ছে, ১৯ ফেব্রুয়ারি একটি বিশেষ ইএমইউ ট্রেন সকাল ৯ টা ৫৫ মিনিটে বজবজ থেকে যায়। যাত্রাপথে সব স্টেশনে থামার পর ১০ টা ৫২ মিনিটে শিয়ালদহ পৌঁছায়। যদিও ইতিহাসের দিকে একটু ফিরে তাকালে সেই দিনটা ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

vivekananda
১৮৯৭ সালে যখন আচমকা ভারতে ফেরার ঘোষণা করেন স্বামী বিবেকানন্দ তখন সর্বত্র যেন শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কলকাতায় দারভাঙ্গা মহারাজের সভাপতিত্বে স্বামী বিবেকানন্দকে স্বাগত জানানোর জন্য একটি কমিটি গঠিত হয়। কমিটি সিদ্ধান্ত নেয় যে স্বামীজি বজবজে পৌঁছানোর পরের দিন বজবজ থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত একটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হবে। সেই মতো, ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর অনুগামীদের সঙ্গে নিয়ে বিশেষ ট্রেনে করে বজবজ থেকে রওনা হন।

আপনি জানলে অবাক হবেন, স্বামীজিকে সেদিন স্বাগত জানাতে ২০,০০০ লোকের জনসমাগম চোখে পড়ার মতো ছিল। শিয়ালদহ স্টেশনে তাঁকে স্বাগত জানানোর জন্য অপেক্ষা করছিলেন হাজার হাজার মানুষ। ইতিমধ্যেই কলকাতার মানুষজন সংবাদপত্রে স্বামী বিবেকানন্দের অবাক করা কার্যকলাপ সম্পর্কে বিস্তারিত পড়েছিলেন।  এছাড়াও, আমেরিকা ও ইংল্যান্ডের বাসিন্দাদের লেখা কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসাপত্রগুলিও পড়েছিলেন, যা তখন সংবাদপত্রে ছাপা হয়েছিল। এই সবকিছুই জনসাধারণের মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দর প্রতি আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলেছিল।

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর