১০০ শতাংশ সম্পন্ন, বুটেল ট্রেন নিয়ে বড় সুখবর শোনাল রেল! কবে গড়াবে চাকা?

বুলেট ট্রেন (Bullet Train) নামটা শুনলেই মানুষের প্রথমেই মাথায় চলে আসে জাপানের (Japan) কথা। চোখের পলক ফেলতে না ফেলতেই কখনও আপনার সামনে দিয়ে এই ট্রেন চলে যাবে আপনি হয়তো টেরই পাবেন না। এদিকে জাপানের এহেন অগ্রগতি দেখে বহু ভারতবাসী ভাবতেন যে যদি এই ট্রেন ভারতের বুকেও যদি চলাচল করে তাহলে কেমন হয়? এদিকে দেশবাসীর সেই স্বপ্ন পূরণ করতে তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে ভারত সরকার (Central Government)। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলছে কাজ। তবে এবার ভারতবাসীর এই স্বপ্নের প্রকল্প নিয়েই বড় আপফ্রট প্রকাশ্যে এল, যা শুনে আপনিও খুশিতে লাফাতে শুরু করে দেবেন। কারণ বুলেট ট্রেনে উঠতে হয়তো আর বেশিদিন বাকি নেই আপনার।

১০০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে

কারণ ন্যাশনাল হাই-স্পিড রেল কর্পোরেশন লিমিটেড (National High Speed Rail Corporation Limited) সোমবার জানিয়েছে যে তারা গুজরাট, মহারাষ্ট্র এবং দাদরা ও নগর হাভেলিতে মুম্বাই-আহমেদাবাদ রেল করিডোর (এমএইচআরসি) এর জন্য ১০০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ আর রেলের (Indian Railways) পথে কোনওরকম বাঁধাই থাকল না তা বলাই চলে। জমি অধিগ্রহণের প্রথম বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার সাড়ে পাঁচ বছর পর, সরকার আহমেদাবাদ এবং মুম্বাইয়ের মধ্যে দেশের প্রথম হাই-স্পিড রেল (বুলেট ট্রেন) প্রকল্পের জন্য ১০০% জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করেছে।

বুলেট ট্রেন নিয়ে আপডেট দেন রেলমন্ত্রী

   

রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সোমবার (Ashwini Vaishnaw) ঘোষণা করেছেন, গুজরাট, মহারাষ্ট্র এবং দাদরা ও নগর হাভেলিতে একটি বড় প্রকল্পের জন্য ১,৩৮৯.৫ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। মুম্বাই ও আহমেদাবাদের মধ্যে একটি উচ্চ গতির রেললাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। এনএইচএসআরসিএল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রকল্পের সমস্ত চুক্তি গুজরাট ও মহারাষ্ট্রকে দেওয়া হয়েছে, ১২০.৪ কিলোমিটার গার্ডার স্থাপন করা হয়েছে এবং ২৭১ কিলোমিটার পিলার স্থাপন করা হয়েছে।

এমএইচআরসি করিডোর ট্র্যাক সিস্টেমের জন্য জাপানের শিনকানসেনে ব্যবহৃত শক্তিশালী কংক্রিট (আরসি) ট্র্যাক বেড স্থাপনের কাজও সুরাট এবং আনন্দে শুরু হয়েছে। এই প্রথম ভারতে জে-স্ল্যাব ব্যালাস্টলেস ট্র্যাক সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে। এনএইচএসআরসিএল জানিয়েছে, তারা গুজরাটের ভালসাদ জেলার জারোলি গ্রামের কাছে ৩৫০ মিটার ব্যাসের ১২.৬ মিটারের প্রথম পর্বত সুড়ঙ্গের নির্মাণ কাজ মাত্র ১০ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করেছে।

নির্মাণ হয়েছে প্রথম ইস্পাত সেতুর

গুজরাটের সুরাট জেলায় জাতীয় মহাসড়কে ৭০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৬৭৩ মেট্রিক টন ওজনের প্রথম ইস্পাত সেতু নির্মিত হয়েছে। এ ছাড়া এ ধরনের ২৮টি সেতুর মধ্যে ১৬টি নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। এমএএইচএসআর করিডোরে ২৪টি নদীর মধ্যে ছয়টি নদীর ওপর সেতুর কাজ শেষ হয়েছে- পার (ভালসাদ জেলা), পূর্ণা (নবসারি জেলা), মিন্ধোলা (নবসারি জেলা), অম্বিকা (নবসারি জেলা), আউরাঙ্গা (ভালসাদ জেলা) এবং ভেঙ্গানিয়া (নবসারি জেলা)।

নর্মদা, তাপ্তি, মাহি এবং সবরমতী নদীর কাজ চলছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারতের প্রথম সাত কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রের নিচে রেল টানেলের কাজ শুরু হয়েছে। সুড়ঙ্গটি মহারাষ্ট্রের বান্দ্রা কুর্লা কমপ্লেক্স এবং শিলফাটার মধ্যে ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গের অংশ এবং মুম্বাই এইচএসআর স্টেশন নির্মাণের জন্য খনন কাজও শুরু হয়েছে।

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর