দীর্ঘদিন থমকে কাজ, অবশেষে সুখবর! বাংলায় চালুর মুখে আরেকটি নয়া ট্রাক, বড় তথ্য দিল রেল

২০১০ সালে তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ঘোষণার ১৪ বছর পরেও বাংলার নন্দীগ্রামে (Nandigram) প্রতিশ্রুত রেল স্টেশনটি (Train Station) পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ২০০৭ সালে নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য টার্নিং পয়েন্ট ছিল কারণ এটি তাকে এবং তার দলকে বাংলার ক্ষমতার কেন্দ্রে নিয়ে গিয়েছিল।

তাই দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১০ সালে প্রথম রেল বাজেটে (Railway Budget) নন্দীগ্রামকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং নন্দীগ্রামকে দেশের রেল মানচিত্রে আনার জন্য ১৮৫ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেন। এদিকে মাঝখানের সময়ে গঙ্গা দিয়ে বেশ খানিকটা জল বয়ে গিয়েছে। তবে এখনও অবধি শ্রীহীন অবস্থাতেই পড়ে রয়েছে বাংলার এই না হওয়া রেল স্টেশনটি। বিগত কয়েক বছর ধরে এই রেল স্টেশনকে সম্পূর্ণ করার দাবি তোলা হচ্ছে স্থানীয়দের তরফে, যদিও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

   

এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে শুরু হওয়া অমৃত ভারত স্টেশন স্কিমের আওতায় দেশের একাধিক রেল স্টেশনের হাল ফেরানোর কাজ শুরু হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে বাংলারও বহু রেল স্টেশনের নাম। এরই মাঝে নতুন করে নাম উঠে এল এ নন্দীগ্রাম রেল স্টেশনের। রেলের (Indian Railways) কাছে এই না হওয়া প্রকল্পটি যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের হতে চলেছে বলে মনে করছে বিশিষ্ট মহল। খোদ আকারে ইঙ্গিতে এমনটাই জানিয়েছে পূর্ব রেল (Eastern railway zone)।

nandigram rail

দক্ষিণ-পূর্ব রেল সূত্রে খবর, কাঁথির দেশপ্রাণ থেকে নন্দীগ্রাম পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকার জমি অনেকটাই নিচু। সেই জমি ভরাট করার জন্য প্রয়োজনীয় মাটি আশেপাশে মিলছে না। তাই প্রায় ১০ কিলোমিটার দূর থেকে মাটি কেনার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার অনিলকুমার মিশ্র জানিয়েছেন, “১৮.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রেললাইনের কাজ দ্বিতীয় বার শুরু হয়েছে। দু’টো বড় সেতুর কাজ চলছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হচ্ছে এখানকার নিচু জমি ভরাট করতে গিয়ে। ১৮ লক্ষ কিউবিক মিটার মাটির দরকার, যা কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না।”

দক্ষিণ-পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার বলছেন, ‘‘তিন জন ঠিকাদারের প্রত্যেকে ৫-৬ হাজার কিউবিক মিটার মাটি সরবরাহ করবেন। ছ’মাসের মধ্যে সেই কাজ শেষ হতে পারে। তার পরে লাইন বসানো শুরু হবে।’’ পূর্ব রেলের আশ্বাস, আর কয়েক বছরের মধ্যে চালু হতে পারে দেশপ্রাণ-নন্দীগ্রাম ট্রেন পরিষেবা।

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর