IIT-র ছাত্র, মানুষের উপকারে আমেরিকা ছেড়ে চলে আসেন ভারতে! চিনে নিন ই-রিকশার জনককে

বাস (Bus), অটোর (Auto) পাশাপাশি একটা জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার ক্ষেত্রে আরও একটি যানবাহন মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। আর সেটা হল টোটো বা ই রিকশা (Electric rickshaw)। আপনিও নিশ্চিয়ই কখনো না কখনো এই টোটোতে উঠে থাকবেন নিশ্চয়ই? কিন্তু এই টোটো জিনিসটার আবিষ্কার কর্তা কে জানেন?

এই টোটোর আবিষ্কার কর্তা যে কে সে সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষই জানেন না। তিনি পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার। আপনিও কি জানতে চান কে সেই মানুষ যিনি টোটো আবিষ্কার করেছেন? তাহলে সেটা জানতে বিস্তারিত পড়ে ফেলুন এই প্রতিবেদনটি। তিন চাকার এই যানবাহনটির নাম হল আসলে ই রিকশা। কিন্তু বাঙালিরা আদর করে এই যানবাহনটি টোটো, টুকটুক নামে ডাকেন। আবার অনেক রাজ্যে এই জিনিসটাকে টমটম নামেও ডাকেন।

   

এই ব্যাটারি চালিত বাহনটি আসায় বহু বেকার ছেলে সম্মানের সঙ্গে কিছু টাকা রোজগার করতে পারছেন। এই টোটো চালিয়েই বহু মানুষের সংসার চলছে। শুধুমাত্র তাই নয়, এই টোটো রাস্তায় নামায় নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে বহু মধ্যবিত্ত ঘরের মানুষ স্বল্প টাকায় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারছেন। উপরে শেড থাকায় রোদ হোক বা বৃষ্টি বেঁচে যান সাধারণ যাত্রীরা। একটি টোটো সর্বসাকুলে পাঁচ জন যাত্রীকে নিয়ে যাতায়াত করতে পারে।

সব থেকে বড় কথা এই টোটো চালাতে পেট্রোল বা ডিজেল কোনও কিছুরই প্রয়োজন হয় না। যে কারণে এর থেকে কোনোরকম দূষণও ছড়ায় না। এই পরিবেশবান্ধব টোটোর রক্ষণাবেক্ষণ-এর খরচ অবধি কম। কিন্তু জানেন কি এই যুগান্তকারী গাড়িটির আবিষ্কার কে করেছেন? জানলে চমকে উঠবেন আপনিও।

e rickshaw

তিনি একজন ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার। এই ভদ্রলোকের নাম হল ড. অনিল রাজবংশী (Anil Kumar Rajbanshi )। তিনি গ্রামীণ উন্নয়নকে একটি আলাদা জায়গাতেই পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন। জানা যায়, তিনি ছিলেন লখনউয়ের বাসিন্দা। পড়াশোনা করতেন আইআইটি কানপুরে (IIT Kanpur)। ই-রিকশা আবিষ্কারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য পদ্মশ্রী পুরষ্কারে (Padma Shri) ভূষিত হন ড. অনিল কুমার রাজবংশী। তিনি নাকি গ্রামীণ এলাকায় মানুষের চলাচলের জন্য সস্তা অথচ টেকসই যান আবিষ্কার করতে চেয়েছিলেন তিনি। যে কারণে তিনি আমেরিকা ছেড়ে ফের ভারতে পাড়ি জমান।

এরপর সকলকে চমকে দিয়ে ১৯৯৫ সালে অনিল কুমার রাজবংশী ব্যাটারিচালিত রিকশা আবিষ্কারের কাজ শুরু করেন। ২০০০ সালে তিনি একটি ব্যাাটারিচালিত রিকশা আবিষ্কার করেন। যার নাম দেন- এলেক্সা। হালকা ওজনের এই বাহনটি তৈরি করার পথটা সহজ ছিল না অনিল কুমারের। এটির বহু যন্ত্রাংশ তাঁকে আনাতে হয় বিদেশ থেকে। আমেরিকায় তাঁর বন্ধু ডেভিড উইলসন এই ব্যাপারে তাঁকে খুবই সাহায্য করেন।

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর