অভাবের সংসার, সোনা বন্ধক রেখে পড়াশোনা! হুগলির মেয়ে আজ রেলের লোকো পাইলট

গতকাল ছিল আন্তর্জাতিক নারী দিবস (International Women’s Day)। আর এই বিশেষ দিনে বহু নারীর (Womens) কাহিনী প্রকাশ্যে উঠে আসে। আজ এই প্রতিবেদনে তেমনই একজন দাপুটে নারীর গল্প তুলে ধরা হবে যার কাহিনী শুনলে আপনিও চমকে উঠতে বাধ্য। এই কাহিনী একটি প্রত্যন্ত গ্রামের ছাপোষা নারীর ট্রেনের চালক (Loco Pilot) হয়ে ওঠার। যার বাড়িতে অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। একবেলা খেলে অন্য বেলা কী খাওয়া হবে সেই নিয়ে চিন্তার শেষ থাকত না। এহেন অবস্থায় দাঁড়িয়ে একটি মেয়ের জীবন কীভাবে আমূল বদলে যেতে পারে তা নিয়ে আলোচনা হবে।

আজ আলোচনা হবে হুগলীর (Hooghly) দাদপুরের আসমাতারাকে নিয়ে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে একটি মেয়ে কীভাবে অদম্য জেদ নিয়ে নিজের লক্ষ্যে স্থির থাকতে পারে সেটা আসমাতারাকে না দেখলে বোঝা যাবে না। মায়ের গয়না বন্ধক রেখে পড়াশোনা করে নিজের লক্ষ্য অর্জন করেছেন দাদপুরের আসমাতারা। সে এখন কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে লোকো পাইলট। হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন।

   

সে এখন খড়গপুর ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট লোকোপাইলটের কাজ করছে বলে খবর। এদিকে আসমাতারার এহেন সাফল্যে গর্বিত গোটা দাদপুর। জানা যায়, রসুলপুর গ্রামের প্রাথমিক স্কুলে তিনি পড়াশোনা শেষ করেন। এরপর ভর্তি হন মহেশ্বরপুর হাইস্কুলে। সেখান থেকে মাধ্যমিক পাশ করে ধনিয়াখালি মহামায়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর দুর্গাপুরে বেঙ্গল কলেজে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেন। এদিকে মেয়েকে নিজের সাফল্যে পৌঁছে দিতে কোনওরকম খামতি রাখেননি মা নুরজাহান বেগম ও বাবা জাকির হোসেন। বাবার সামান্য দুই বিঘা জমি। চাষাবাদ করে যা উপার্জন হতো তা নিয়েই তিন সন্তানকে নিয়ে চলত তাঁদের পরিবার। আসমাতারা পরিবারের বড় সন্তান। মেয়ে মেধাবী হলেও পড়াশোনার খরচ চালাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছিল পরিবার।

তবে সেই কথায় আছে না, সৎ থাকলে কোনও কাজেই বাধা আসে না। ইউটিউব দেখে অনলাইনেই পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছিলেন আসমাতারা। ব্যাঙ্কের চাকরির ক্ষেত্রে অনেকবার বিফল হয়েছেন। এরপর আসমাতারা ভর্তি হন ইঞ্জিনিয়ারিং-এ। ইঞ্জিনিয়ারিং-এর পড়াশোনা করতে যথেষ্ট খরচ হয়। এরপর নিজের সোনার গয়না বিক্রি করে তিনি মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগান। শুধু তাই নয়, গবাদিপশুর দুধ বিক্রি করেও মেয়েকে পড়াশোনা শিখিয়েছে তাঁরা।

নিজের ও পরিবারের সংগ্রাম সম্পর্কে আসমাতারা জানান, ‘আমার লক্ষ্য ছিল সরকারি চাকরি। সেই মতো পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছি। বিভিন্ন জায়গায় চাকরির আবেদন করেও পাইনি। আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম। তবুও ভেঙে পড়িনি। ফের প্রস্তুতি শুরু করেছিলাম। এরপর কলকাতায় চলে আসি। ব্যাঙ্কিং পরীক্ষাগুলির জন্য নিতে শুরু করি। পরে রেলের চাকরির জন্য যোগাযোগ করি’। এরপর ২৬ বছর বয়সেই রেলের খড়গপুর ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট লোকোপাইলট হয়েছেন আসমাতারা। এই নারী দিবসে তাঁর মতো নারীকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন সকলে।

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর