১ নয়, হাওড়া স্টেশনের এই প্ল্যাটফর্মটিই চালু হয় সর্বপ্রথম! নম্বর জানেন না ৯৯% মানুষ

হাওড়া রেলওয়ে স্টেশন (Howrah railway station) হল হুগলি নদীর (Hooghly River) পশ্চিম তীরে নির্মিত কলকাতা (Kolkata) শহরের কাছের একটি রেলওয়ে স্টেশন। কলকাতায় শিয়ালদহ নামে আরও একটি বড় রেলওয়ে স্টেশন রয়েছে। এর পাশাপাশি শালিমার, সাঁতরাগাছি ও কলকাতা রেল স্টেশনও রয়েছে। এর ভবনটি ১৮৫৪ সালে নির্মিত হয়েছিল। হুগলি নদীর তীরে নির্মিত হাওড়া রেলওয়ে স্টেশন এই সেতুর মাধ্যমে কলকাতার সাথে হাওড়ার সংযোগ স্থাপন করে।

সমগ্র ভারতের মধ্যে হাওড়া রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের বগি থাকার ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি। পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার কাছে অবস্থিত হাওড়া পশ্চিমবঙ্গের একটি শিল্প শহর এবং পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। হাওড়া প্রাথমিকভাবে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত।

   

আচ্ছা আপনি কি জানেন যে হাওড়া স্টেশন আজ যে জায়গাটিতে দাঁড়িয়ে আছে সেটির ইতিহাস জানেন? যদি না জেনে থাকেন তাহলে আজকের এই প্রতিবেদনটি রইল শুধুমাত্র আপনার জন্য। অনেকেই হয়তো জানেন না ১৬৫ বছর পূর্বের হাওড়া স্টেশনের ইতিহাস। বিভিন্ন রিপোর্টের মাধ্যমে জানা যায়, হাওড়া স্টেশন একটি গির্জা জমি অধিগ্রহণের আগে জমিটি ছিল এক পর্তুগিজ ব্যক্তির। ১৮৫১ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির তৎকালীন মুখ্য ইঞ্জিনিয়ার জর্জ টার্নবুল সর্বপ্রথম হাওড়া ব্রিজ
নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা জানান।

যদিও জল ও জায়গার অভাব সেই মুহূর্তে সমস্যা সৃষ্টি করলেও ১৮৫২ সাল নাগাদ স্টেশন নিয়ে টেন্ডার পাস হয়। ১৯০১ সালে রেলপথে পরিবহনের অতিরিক্ত চাহিদার জন্য একটি নতুন স্টেশন বিল্ডিং তৈরী হয় সেই বর্তমান লাল বিল্ডিং। ব্রিটিশ স্থপতি হালসে রিকার্ডো এই স্টেশনের ডিজাইন তৈরী করেন। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয় ১৯০৫ সালের ১ ডিসেম্বর। ২৬,৫০০ টন স্টিল দিয়ে তৈরী এই স্টেশন থেকে প্রথম রেল চলাচল শুরু হয়েছিল ১৮৫৪ সালে।

howrah

এরপর ১৯৬৯ সালে প্রথম “রাজধানী এক্সপ্রেস” যাত্রা শুরু করে নিউ দিল্লির উদ্দেশ্যে। ১৯৮০ সালে স্টেশনটি ৮টি নতুন স্টেশন সহযোগে আরোও বিস্তৃত হয়।তবে প্রথমদিকের স্টেশন বলতে বিরাট কিছু ছিল না। তখন হাওড়াকে জংশন স্টেশন হিসেবেও ভাবা হয়নি। একটি মাত্র প্ল্যাটফর্ম; আর সঙ্গে ছিল লাল ইটের একতলা একটি বাড়ি। সেটিই ছিল আদি হাওড়া স্টেশন। ভেতরে একটিই ছোটো জানলা ছিল, সেখান দিয়েই টিকিট সংগ্রহ করতে হত। সেই সঙ্গে তৈরি হল কিছু টিনের ঘর। ওগুলোই ইঞ্জিন মেরামতের কারখানা। এছাড়াও ছিল একটি স্টোর রুম। এই হল প্রথম হাওড়া স্টেশনের রূপ। এই চেহারা আজ আর নেই, শুধু রয়ে গেছে প্রথম লাইনটি। এখনকার হাওড়া স্টেশনের ১৭ নম্বর লাইনটিই হল সেই লাইন। তবে শুধু পার্সেল গাড়ি আসে এখন।

কিছুদিন আগে রেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাওড়া জংশন থেকে প্রতিদিন ৩৫০-র বেশি ট্রেন ছাড়ে। হাওড়া জংশন রেলওয়ে স্টেশনটি পূর্ব রেলের অন্তর্গত। ১৮৫৩ সালে মুম্বাই থেকে প্রথম ট্রেন এবং ১৮৫৪ সালে হাওড়া জংশন থেকে দ্বিতীয় ট্রেন চালু হয়। স্বাধীনতা আন্দোলনের অনেক বিপ্লবী হাওড়া স্টেশনে মিলিত হয়ে আগাম পরিকল্পনা করতেন। কাকোরি কাণ্ডের আগে হাওড়া রেল স্টেশন থেকে গ্রেফতার হন ভারতের বিখ্যাত স্বাধীনতা সংগ্রামী যোগেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

 

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর