২৪ পেলেই পাশ, উচ্চমাধ্যমিকের সিলিবাসে বড় বদল! জানুন কী পরিবর্তন আসল

আপনার সন্তানও কি সামনের বছর উচ্চ মাধ্যমিক দেবে? বই কিনে ফেলেছেন? যদি না কিনে থাকেন তাহলে আপনার এবং আপনার সন্তানের জন্য রইল বড় খবর। বাংলার উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থায় ফের একবার আমূল পরিবর্তন ঘটল। ইতিমধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের তরফে জানানো হয়েছে যে সামনের বছর থেকে সেমিস্টার পদ্ধতিতে পরীক্ষা হবে। এই সেমিস্টার পরীক্ষা হবে দুভাগে। যাইহোক, এই বিষয়টা নিয়ে ঢোঁক গিলতে না গিলতেই এবার সংসদ আরও এক বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে সকলকে চমকে দিল।

সংসদের এক সিদ্ধান্তের কারণে সকলেরই চোখ কপালে উঠে যাওয়ার জো। দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ মাধ্যমিকের সিলেবাস বদল হবে, এই নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ছিল। কিন্তু এবার সেই জল্পনাতেই শিলমোহর পড়ল। হ্যাঁ অর্থাৎ এবার উচ্চ মাধ্যমিকের সিলেবাস আগের থেকে আমূল পাল্টে গেল। পড়ুয়াদের কার্যত ফের একবার প্রথম থেকে শুরু করতে হবে বলে মনে হচ্ছে।

   

সংসদ সভাপতি চিরঞ্জিত ভট্টাচার্য নতুন সিলেবাস প্রকাশ করেছেন। ওয়েস্ট বেঙ্গল কাউন্সিল অফ হায়ার সেকেন্ডারি এডুকেশন (WBCHSE) বৃহস্পতিবার ১৩টি ভোকেশনাল বাদে সমস্ত বিষয়ের জন্য সেমিস্টার পদ্ধতির অধীনে সংশোধিত এবং দ্বিখণ্ডিত পাঠ্যক্রমের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।

একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির জন্য দুটি করে চারটি সেমিস্টার হবে। নতুন সিলেবাস অনুযায়ী উচ্চমাধ্যমিকের ৬২ টি বিষয়ের মধ্যে ৪৯ টির সিলেবাস পরিবর্তন করা হচ্ছে আর ১৩ টির সিলেবাস অপরিবর্তিত থাকছে। এই ১৩টি বিষয় ভোকেশনাল। প্রতি শিক্ষা বর্ষে প্রত্যেক বিষয়ে পড়াশোনার জন্য ২০০ ঘন্টা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। প্রথম সেমিস্টারের জন্য ১০০ ঘন্টা, দ্বিতীয় সেমিস্টারের জন্য ৮০ ঘণ্টা এবং রেমিডিয়াল ক্লাস বা হোম অ্যাসাইনমেন্টের জন্য ২০ ঘন্টা। যার মধ্যে থাকবে প্রজেক্ট এবং ইন্টার্নশিপ। এবারের সিলেবাসে এবার যুক্ত হতে চলেছে শ্রীজাতর কবিতা, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, ভারতের বিদেশনীতি, পরমাণু নীতি ইত্যাদি নানান নতুন বিষয়।

এছাড়া পরীক্ষা হবে সেমিস্টার পদ্ধতিতে। নতুন সিলেবাস অনুযায়ী, একাদশ শ্রেণিতে যে দুটি পরীক্ষা হবে সেই দুটি পরীক্ষা হবে প্রথম ও দ্বিতীয় সেমিস্টার এবং দ্বাদশ শ্রেণীতে যে দুটি পরীক্ষা হবে সেই দুটি পরীক্ষা তৃতীয় ও চতুর্থ সেমিস্টার হিসেবে ধরা হবে। প্রত্যেক সেমিস্টারের জন্য ৩৫ নম্বর অর্থাৎ এক একটি ক্লাসে ৭০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা এবং ৩০ নম্বরের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা হবে। অন্যদিকে ৮০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হলে ২০ নম্বরের প্র্যাকটিক্যাল থাকবে। লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর হবে প্রাকটিক্যাল পরীক্ষা। ৭০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় ২১ নম্বর পেলেই পাশ, অন্যদিকে ৮০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হলে ২৪ নম্বর পেলেই পড়ুয়ারা পাশ করে যাবেন।

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর