দুই ভাগে ভাঙবে এই মহাদেশ, তৈরি হবে নতুন মহাসাগার! জায়গা চিহ্নিত করলেন বিজ্ঞানীরা

পৃথিবীর তিনভাগ আর এক ভাগ স্থল…আমরা ছোট থেকেই সকলে এই কথাটি শুনে আসছি। সে বইয়ের পাতায় হোক বা মানুষের মুখ…বারবারই এই কথাটি আমরা শুনে আসছি। এর কারণ, পৃথিবীতে বেশিরভাগটা এখনও জল। বিজ্ঞানীদের গবেষনায় বারবার এই তথ্য উঠে এসেছে। এছাড়া পৃথিবীতে মোট ৫টি মহাসাগর রয়েছে।

তবে সেই দিন আর বেশি দূরে নয় যেখানে এবার এই সংখ্যাটা বেড়ে ৬ হবে। কী শুনে চমকে উঠলেন তো? কিন্তু এটাই সত্যি। অন্তত বিজ্ঞানীদের গবেষণায় এইরকমই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এমনকি বিজ্ঞানীরা একটা জায়গা নাকি খুঁজেও পেয়ে গিয়েছেন ইতিমধ্যে। বলা হচ্ছে, নাকি খুব শীঘ্রই দুটি ভাগে ভাগ হয়ে যেতে পারে আফ্রিকা মহাদ্বীপ। আরও বিস্তারিত জানতে ঝটপট পড়ে ফেলুন আজকের এই প্রতিবেদনটি।

   

পৃথিবীর ৭১ শতাংশ জলে ঢাকা, যে কারণে পাঁচটি মহাসাগর রয়েছে। এই মহাসাগরগুলি হল প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক, ভারত, দক্ষিণ এবং আর্কটিক মহাসাগর। ভূতাত্ত্বিকদের মতে, আফ্রিকা মহাদেশ তার সমৃদ্ধ এবং বৈচিত্র্যময় ভূদৃশ্যের সাথে একটি বিরল ভূতাত্ত্বিক ঘটনা অনুভব করছে যা একটি নতুন মহাসাগর গঠনের দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে। আফার ত্রিভুজ প্রক্রিয়ায় তৈরি হতে শুরু করেছে। আফার ত্রিভুজ একটি ভূতাত্ত্বিক নিম্নচাপ যেখানে নুবিয়ান, সোমালি এবং আরবীয় প্লেট তিনটি টেকটোনিক প্লেট মিলিত হয়েছে। এটি আফার অঞ্চল থেকে পূর্ব আফ্রিকা পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে যে বিভাজন প্রক্রিয়াটি ঘটে তা টেকটোনিক প্লেটগুলির ধীরে ধীরে বিচ্ছেদের ফলাফল, এমন একটি ঘটনা যা লক্ষ লক্ষ বছর ধরে ঘটে চলেছে।

বিশ্বের ষষ্ঠ মহাসাগর

২০০৫ সালের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা এই ধীরগতির প্রক্রিয়াটিকে বিশ্বের নজরে আনে। ইথিওপিয়ার মরুভূমিতে ৩৫ মাইল দীর্ঘ একটি ফাটল শুরু হয়েছিল, যা আফ্রিকা মহাদেশের বিচ্ছেদের একটি চিহ্ন বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই ফাটলটি গভীরতায় কাজ করা টেকটোনিক শক্তির একটি উপরিভাগের প্রকাশ, কারণ সোমালি প্লেটটি নুবিয়ান প্লেট থেকে দূরে সরে যায়, পৃথিবীর ভূত্বককে প্রসারিত করে এবং পাতলা করে। ২০০৫ সালে ইথিওপিয়ার মরুভূমিতে যে ফাটল দেখা দিয়েছিল তা আফ্রিকা মহাদেশকে বিভক্ত করার একটি চিহ্ন ছিল। তাহলে কি এই বিষয়টি দেখেই বিজ্ঞানীরা ছয় নম্বর মহাসাগর তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন? উঠছে প্রশ্ন।

ভূতাত্ত্বিকরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে ৫ থেকে ১০ মিলিয়ন বছরের মধ্যে টেকটোনিকের কারণে আফ্রিকা মহাদেশ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে একটি নতুন মহাসাগরীয় অববাহিকা গঠন করতে চলেছে। যদিও এই বিষয়টি মানবজাতির পক্ষে খারাপ খবর। যদি নতুন জলাধার তৈরি হয় তাহলে এর ফলে আফার অঞ্চল এবং লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরের পূর্ব আফ্রিকার রিফট উপত্যকায় বন্যা দেখা দেবে। ফলস্বরূপ, পূর্ব আফ্রিকার এই অংশটি তার নিজস্ব পৃথক মহাদেশে বিকশিত হবে।

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর