মা হারা সন্তান, পড়ার টাকা যোগাতে রিক্সা চালান বাবা! UPSC-তে সফল হয়ে ছেলে আজ IAS

আইপিএস (Indian Police Service) বা  আইএএস (Indian Administrative Service) অফিসার হওয়া কিন্তু মুখের কথা নয়। বছরের পর বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম, একাধিক ব্যর্থতা ইত্যাদি অনেক কিছু সীমা পার করে কেউ একজন জীবনে বড় অফিসার হতে পারেন। আজ এই প্রতিবেদনে তেমনই একজন মানুষকে নিয়ে আলোচনা হবে যার সংগ্রামের কাহিনী শুনলে আপনিও চমকে উঠবেন।

আজ এই প্রতিবেদনে আলোচনা হবে IAS অফিসার গোবিন্দ জয়সওয়ালকে (Govind Jaiswal) নিয়ে। এই IAS গোবিন্দ জয়সওয়ালের সাফল্যের পিছনে তাঁর বাবা (Father) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। যে গল্প শুনলে আপনারও কিন্তু চোখে জল আসতে বাধ্য। একজন বাবা তার সন্তানকে নিজের পায়ে দাড় করাতে কত বড় ত্যাগ করতে পারেন তা এই প্রতিবেদনটি না পড়লে হয়তো জানতে পারবেন না।

   

গোবিন্দকে তাঁর সাফল্যের বীজ প্রস্তুত করতে সাহায্য করেছিলেন তাঁর বাবা নারায়ণ। এই নারায়ণবাবু গোবিন্দের ইচ্ছা পূরণ করার জন্য যথাসাধ্য কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন।  গত ২০০৬ সালের প্রথমবারের জন্য ইউপিএসসি (Union Public Service Commission) পরীক্ষা দিয়েছিলেন। আর সেবারই কামাল করে দেখান তিনি। প্রথম প্রচেষ্টাতেই গোবিন্দ সর্বভারতীয় ৪৮ স্থান অর্জন করেন। আজ তার সংগ্রামের গল্প শুধু UPSC পরীক্ষার্থীদেরই নয়, সবার জন্যই অনুপ্রেরণাদায়ক।

তাঁর পুরো পরিবার উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে থাকত। ১৯৯৫ সালে গোবিন্দের বাবা নারায়ণের ৩৫টি রিকশা ছিল, কিন্তু স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে তাঁকে ২০টি রিকশা বিক্রি করে দিতে হয়েছিল। ১৯৯৫ সালে মারা যান স্ত্রী। এরপর ছেলেকে একা হাতে বড় করার লড়াই শুরু হয় নারায়ণবাবুর। এদিকে, গোবিন্দ যখন UPSC-র প্রস্তুতির জন্য ২০০৪-০৫ সালে দিল্লিতে পড়াশোনা করতে চেয়েছিলেন, তখন তার কাছে পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না।

ias

তবে ছেলের এই স্বপ্ন পূরণে বাবা নারায়ণ জয়সওয়াল আরও ১৪টি রিকশা বিক্রি করেন। তার একটি মাত্র রিকশা অবশিষ্ট ছিল, যা তিনি নিজেই চালাতে শুরু করেন। এমনকি গোবিন্দের বাবা তার ছেলেকে IAS করার জন্য রিকশা চালকও হয়েছিলেন। পায়ে সমস্যা থাকা সত্ত্বেও গোবিন্দ পড়াশোনা চালিয়ে যান। গোবিন্দ গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন এবং ২০০৬ সালে ইউপিএসসির প্রথম প্রয়াসে ৪৮ তম স্থান অর্জন করে IAS হয়েছিলেন।

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর