আগামীকাল পদত্যাগ করবেন ‘ভগবান’! শুনে বড় বয়ান দিলেন হতাশ চাকরিপ্রার্থীরা

আর কালো কোট গায়ে চাপিয়ে অর্ডার অর্ডার বলতে শোনা যাবে না কলকাতা হাইকোর্ট-এর (Calcutta High Court) দাপুটে বিচারপতি হিসেবে খ্যাত অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে (Abhijit Gangopadhyay)। সময়ের আগেই বিচারপতির (Justice) পদ থেকে পদত্যাগ করার কথা ঘোষণা করে সকলকে এক কথায় অবাক করে দিয়েছেন জাস্টিস গঙ্গোপাধ্যায়। এবার তাঁর পরবর্তী গন্তব্য যে রাজনীতির ময়দান সেটাও তিনি কিন্তু জানাতে ভোলেননি।

আগামীকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার বিচারপতির পদ থেকে ইস্তফা দেবেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, চলতি বছরের আসন্ন লোকসভা ভোটে তিনি প্রার্থীও হতে পারেন। কিন্তু কোন দলে যে তাঁর আগমন ঘটবে সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। এদিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (Recruitment Scam) একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। আর এই রায় দেওয়ার কারণে মাসের পর মাস ধরে চাকরির দাবিতে ধর্ণায় বসা চাকরি প্রার্থীদের কাছে একপ্রকার ‘মসিহা’, ‘ভগবান’ হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

   

এদিকে এই ‘ভগবান’-এর বিচারপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা শুনে স্বাভাবিকভাবেই সকলের চোখ কপালে উঠেছে। কেউ কেউ বলছেন, ‘আমরা চাই ওনার পদত্যাগের আগে যেন আমরা একটা ভালো জায়গায় পৌঁছাতে পারি। আমরা চাই পদত্যাগের আগে যেন উনি অর্ডার দিক যে যে সকল চাকরিপ্রার্থীরা রাস্তায় বসে ধর্ণা দিচ্ছেন তাদের যাতে নিয়োগ হয় সে বিষয়ে উনি যেন একটা স্টেপ নেয়। ১০৮৫ দিন ধরে আমরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছি। উনিই পারেন আমাদের বিচার দিতে।’

অন্য একজন বলছেন, ‘আমরা চাই উনি ওনার পদে থাকুক। যেভাবে উনি বিচার ব্যবস্থাটিকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে গেছিলেন সে জায়গাটা যেন আরো থাকুক। এতে আমাদের সুবিধা হবে। আমার আশা করব রাজ্য সরকার এবং হাইকোর্ট তাঁর দেখানো পথেই যেন আমাদের সুবিচার করেন। বঞ্চিত চাকরি প্রার্থীরা যেন চাকরি ফেরত পাব। বিচারপতির পদ থেকে পদত্যাগ করলেও তিনি যে আমাদের হয়ে লড়বেন এটা আমাদের আশা।’

abhijit job seekers

এদিকে সাংবাদিক বৈঠকে চাকরি প্রার্থীদের উদ্দেশে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বড় মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তেমন কিছু আমার বলার নেই বিচারপতি হিসেবে। অসহায় মানুষগুলির জন্য উপদেশ দিতে পারতাম, কাউকে সুপারিশ করতে পারতাম। এই ভাবেই আমি পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতাম। এটা একেবারেই ব্যতিক্রমী। ২৩-২৪ বছরের আইনজীবী জীবনে এরকম কোনও বিচারপতি দেখিনি, যাঁরা অসহায়দের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। বিচারপতি হওয়ার পর কোন এজলাসে কী হচ্ছে দেখতে পাই না। কিন্তু আমি দেখেছি, আমার দেশের মানুষ খুব অসহায়। আইনি বিষয়েও তো বটেই। তাই বোধ বুদ্ধি অনুযায়ী, ক্ষমতার মধ্যে থেকে বলেছি। সেটা তো আর সম্ভব নয় আমার পক্ষে। কিন্তু আশা করব, আদালতের অন্য অনেক বিচারপতির থেকে এই সুবিধা পাবেন। আশা করা ছাড়া আর কী উপায় আছে?’

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর