লাগু CAA, এভাবে বাড়িতে বসেই হয়ে যান ভারতীয় নাগরিক! রইল সহজ পদ্ধতি

সিএএ নিয়ে এখন আলোচনা তুঙ্গে। গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, দেশজুড়ে লাগু হয়ে গেল CAA। এদিকে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯ বাস্তবায়নের জন্য সরকার বিধিগুলি সকলকে জানানোর পর সরকার একটি নতুন পোর্টাল চালু করেছে। এর মাধ্যমে যে কেউ সহজেই নাগরিকত্বের জন্য আবেদন জানাতে পারবেন।

শুধুমাত্র তাই নয়, খুব শীঘ্রই মোবাইলের মাধ্যমেও রেজিস্ট্রেশনের জন্য সিএএ-২০১৯ চালু করতে পারে সরকার। কেউ কেউ জানেন তো আবার কেউ কেউ হয়তো জানেন না যে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ২০১৯ সংসদে পাস হয়েছিল। পরে বিলটি রাষ্ট্রপতির সম্মতি পায়। এরপর মাঝখান থেকে গঙ্গা দিয়ে বয়ে গেছে বেশ কিছুটা জল। ২০১৯ সালের পর এবার ২০২৪ সাল, মাঝে কেটে গিয়েছে ৪ বছর। এরপর গতকাল কেন্দ্রীয় সরকার সন্ধের দিকে গোটা দেশজুড়ে সিএএ লাগু করে দেয়। এখন আপনিও নিশ্চয়ই ভাবছেন যে কারা কারা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন জানাতে পারবেন?

   

জানা গিয়েছে, সিএএ-র মাধ্যমে পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, পার্সি এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সংখ্যালঘুরা ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ পাবেন। কিন্তু নাগরিকত্ব পেতে কীভাবে আবেদন করতে হবে জানেন সে সম্পর্কে? তাহলে পড়ে নিন এই আর্টিকেলটি।

caa

১) প্রথমে আবেদনকারীদের indiancitizenshiponline.nic.in ওয়েবসাইটে যেতে হবে।

২) হোমপেজেই ‘INDIAN CITIZENSHIP ONLINE FORMS’-র নীচে একাধিক অপশন আছে। আপনি যে ক্যাটেগরিতে আবেদন করতে চাইছেন, তাতে ক্লিক করতে হবে। ‘Registration As a Citizen of India Under Section 5(1)(a) of the Citizenship Act, 1955 Made by a person of Indian Origin’ ক্যাটেগরিতে আবেদন করতে চান, তাহলে ওই লিঙ্কে ক্লিক করতে হবে।

৩) এরপর নতুন একটি পেজ খুলে যাবে। কারা আবেদন করতে পারবেন, কী কী নথি লাগবে, পাসপোর্ট সংক্রান্ত তথ্য পড়ে নিতে হবে। তারপর ‘Apply Online’-এ ক্লিক করুন।

৪) একটি নতুন পেজ খুলে যাবে। সেই পেজের শুরুতেই একটি ‘Temporary Application Id’ থাকবে। সেটা লিখতে হবে। তারপর যাবতীয় তথ্য পূরণ করতে হবে আবেদনকারীদের। এরপর ক্লিক করতে হবে ‘Save and Next’ বাটনে। ঠিকানা, পরিবার, অপরাধ সংক্রান্ত ইতিহাস তথ্য দিতে হবে আবেদনকারীদের।

৫) এরপর স্ক্রিনে দেখতে পারবেন ‘Photo/Documents’-র জায়গা। সেখানে নিজের ও নথির ছবি আপলোড করতে হবে। ‘আপলোড ফোটো’ অপশনে গিয়ে আবেদনকারীর ছবি আপলোড করতে হবে। আপনি যে যে তথ্য দিয়েছেন, তা সঠিক হয়েছে কিনা, সেটা দেখার জন্য ‘View Application’-তে ক্লিক করতে হবে আবেদনকারীদের। যদি সবকিছু ঠিক থাকে, তাহলে ‘FINAL SUBMIT TO THE MINISTRY’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। যে প্রক্রিয়ার পরে আবেদনপত্রে কোনও ভুল থাকলেও আর সংশোধন করা যাবে না।

৬) এরপর ‘FINAL SUBMIT TO THE MINISTRY’ বাটনে ক্লিক করার পরে একটি ‘MHA File Number’ জেনারেট হবে। সেই নম্বর রেখে দিতে হবে আবেদনকারীদের। যে ‘ডায়লগ বক্সে’ ওই নম্বর দেখাবে, তা ‘Close’ করে নথি আপলোড করতে হবে। স্ক্যান করা পিডিএফ নথি লাগবে। সেই নথি আপলোড হয়ে যাওয়ার পরে ‘Print Application’ বাটনটা কার্যকর হবে। তারপর প্রিন্ট-আউট করে রেখে দিতে হবে নিজের আবেদনপত্র।

৭) এবার ‘Online Payment’-র ট্যাবে যেতে হবে। সেখানে আবেদনকারীর নাম, ফর্ম, টাকা, MHA ফাইল নম্বর থাকবে। নীচেই ‘Payment Gateway’-র ‘Payment’ আছে। তাতে ক্লিক করতে হবে। অনলাইনে ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, নেট ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে টাকা দিতে পারবেন। টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া সফল হলে একটি রশিদ মিলবে। সেটা নিজের কাছে রেখে দিতে হবে।

৮) অনলাইনে যে আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন এবং সেটার স্বপক্ষে বিভিন্ন নথি জমা দিতে হবে জেলাশাসক বা ডেপুটি কমিশনারের অফিসে।

৯) যদি নাগরিকত্বের আবেদন গৃহীত হয়, তাহলে আবেদনপত্রে দেওয়া ঠিকানায় একটি চিঠি পাঠানো হবে। সেইসঙ্গে রেজিস্টার্ড ইমেল আইডি ও মোবাইল নম্বরে পাঠানো হবে বার্তা।

১০) এরপর চিঠি পাওয়ার পরে indiancitizenshiponline.nic.in-তে গিয়ে নিজের ক্যাটেগরি অনুযায়ী ‘Form X’ বা ‘Form XI’ বা ‘Form XII’ পূরণ করতে হবে এবং জেলাশাসকের অফিসে সব অরিজিনাল কপি জমা দিতে হবে। আবেদনকারীদের ক্লিক করতে হবে ‘Apply Form X/XII’ বাটনে।

১১) তারপর আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। ‘Modify/Print Form X/XII’ বাটনে ক্লিক করতে হবে তাঁদের। রেজিস্টার্ড ইমেল আইডিতে ওটিপি আসবে। সেটা ‘Submit and Continue’-তে ক্লিক করতে হবে।

১২) একটি নতুন পেজ খুলবে। সেখান যাবতীয় তথ্য পূরণ করে ‘Save and Next’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।

১৩) এবার আবেদনকারীর ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করতে হবে। আপলোড করার পরে ফর্ম জমা দেওয়ার জন্য ‘Form X Final submit to the Ministry’-তে ক্লিক করতে হবে প্রার্থীদের। ‘Close’ বাটনে ক্লিক করতে হবে এবং অনলাইন ফি জমা দিতে হবে।

১৪) অনলাইনে টাকা দেওযার পরে পূরণ করা ফর্মটা নিয়ে গিয়ে জেলাশাসকের অফিসে জমা দিতে হবে আবেদনকারীদের। অরিজিনাল সার্টিফিকেট, টাকা দেওয়ার রশিদ, ছবি, স্বাক্ষর-সহ যাবতীয় নথি নিয়ে যেতে হবে আপনাকে।

১৫) যদি নাগরিকত্বের আবেদন গৃহীত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার বা জেলাশাসকের কাছে তাঁর নাগরিকত্বের শংসাপত্র পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর