মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হতেই বড় মন্তব্য শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর! শোরগোল পড়ে গেল গোটা রাজ্যে

চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা (Madhyamik Pariksha) নিয়ে বড় মন্তব্য করতে দেখা গেল রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী (Education Minister) ব্রাত্য বসুকে (Bratya Basu)। মাধ্যমিক পরীক্ষা শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু সোমবার বলেন, এবারের পরীক্ষা সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। চলতি বছরে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া রুখতে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তরফে QR Code ব্যবহার করা হয়েছিল, যদিও তা রোখা সম্ভব হয়নি। পরপর দুই থেকে তিনদিন এই ঘটনা ঘটে।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (West Bengal Board Of Secondary Education) প্রশ্নপত্রে কিউআর কোড ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ক্ষেত্রে দ্রুত উৎসের সন্ধান করতে সক্ষম হয়েছিল। মোট ৩৬ জন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল হয়েছে, যার মধ্যে ২৩ জনই মালদহের। মালদহ থেকে ৩৭টি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে ব্রাত্য বসু বলেছেন যে গত বছরের তুলনায় এই বছর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। ২,৬৭৫টি পরীক্ষা কেন্দ্রে মোট ৯,২৩,০৪৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন। পরীক্ষার আগে পর্ষদ বৈঠক করে প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে পারে।

   

তিনি বলেন, প্রশ্নগুলো নিয়ে কোনো অভিযোগ ছিল না। পড়াশুনা করলে পাশ করবে। এ বছর যে সব পড়ুয়ার পরীক্ষা বাতিল হয়েছে, তাঁদের কথা উল্লেখ করে বসু বলেন, “আমরা কোনও পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে চাই না।” এদিকে এই প্রশ্নপত্র ফাঁসকাণ্ডে একটি বড় দাবি করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জামতারা গ্যাং-এর কথা উল্লেখ করেছেন। এদিকে এহেন দাবিকে ঘিরে শিক্ষা মহলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার হলে মোবাইল ও ইয়ার-পড নিয়ে যাওয়ার জন্য এ বছরের মাধ্যমিকের ৩৬ জন পড়ুয়াকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ব্রাত্য বসু বলেন, এই প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘জামতাড়া গ্যাং’-এর মতো কাজ করেছে। এর পেছনে রাজ্য প্রশাসন ব্যবস্থার পাশাপাশি পরীক্ষা ব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করার চক্র রয়েছে। এখানে আর্থিক লাভের কাজও হয়েছে। এই চক্রের সদস্যরা বাংলার কয়েকটি জেলা থেকে বেশ কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ তৈরি করে কাজ করত। রাজ্য বোর্ড এই বিষয়ে জিরো টলারেন্স অবস্থান নিয়েছে। আগামী বছর পরীক্ষার আগে এই অপকর্মের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচার চালানো হবে।

bratya basu

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘আমরা ছাত্রছাত্রীদের বারবার মোবাইল ফোন নিয়ে স্কুলে যেতে বারণ করেছি। তারপরেও ওরা মোবাইল নিয়ে স্কুলে যাবে কেন? উচ্চ মাধ্যমিকে পরীক্ষার্থীও কম। ছাত্রছাত্রীদের ধরতে আমাদের ভালোও লাগে না। এ বার যারা প্রশ্নের ছবি তুলেছিল, তাদের প্রত্যেকে ধরা গিয়েছে।’

জামতাড়া গোষ্ঠীই কেন? এই বিষয়ে ব্রাত্যর জবাব, ‘টাকা বড় ফ্যাক্টর। ওরা দেখাতে চাইছিল, আমরা প্রশ্ন বিক্রি করি। তোমরা আমাদের কাছে প্রশ্ন পাবে। একইসঙ্গে সরকারকে বদনাম ও কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা।’ পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় জানান, মূলতঃ মালদা জেলার কয়েকটি স্কুলেই এই সব বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। ব্রাত্য বসু আরও জানান,  ‘প্রশ্ন ফাঁস রুখতে আমরা বদ্ধপরিকর ছিলাম। অসাধু চক্র এই কাজকর্ম করছিল। মালদায় বর্ডার আছে। বাইরের গ্যাং থাকতেই পারে। পুলিশ তদন্ত করছে।’

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর