সিম বিক্রি দিয়ে শুরু করেন ব্যবসা, আজ ৩০০ কোটির সাম্রজ্য প্রতিষ্ঠা করেছেন যতীন

ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য থাকে যাতে ঝুঁকি কম হয় এবং কম বিনিয়োগে বেশি উপার্জন সম্ভব হয়। কিন্তু এরইমধ্যে কিছু লোক আছেন যারা এই নিয়মের ব্যতিক্রম, তারা বেছেই নেন বিপজ্জনক পথ। তবে যেখানে ঝুঁকি বেশি সেখানে আয়ের পরিমান বহুগুণ বেশি হয়ে যায়। আজ আপনাদের এমন এক ব্যক্তির কথা বলতে চলেছি যিনি কঠোর পরিশ্রমের ওপর ভিত্তি করেই নিজেই ব্যবসা দাঁড় করিয়েছেন এবং বর্তমানে অনেকের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন।

সেই ব্যক্তির নাম যতীন আহুজা। তিনি দিল্লীর বাসিন্দা এবং বর্তমানে তিনি ‘বিগ বয় টয়’ কোম্পানির মালিক। আজ এই কোম্পানি থেকেই কোটি কোটি টাকার আয় করছেন যতীন। কিন্তু এসমস্ত তার পক্ষে মোটেই সহজ ছিল না। বহুবার সমস্যার সম্মুখীন হন তিনি, কিন্তু যতীনের মধ্যে ছিল কিছু করে দেখানোর আকাঙ্ক্ষা, বড় মানুষ হওয়ার স্বপ্ন। তাই যদি কখনো কোনো বিষয়ে ব্যর্থও হয়েছেন, তাও কোনোদিনই হাল ছাড়েননি তিনি। আসলে আমাদের লক্ষ্য বহুদূরের হলে, সাময়িক ব্যর্থতার তেমন কিছুই প্রভাব পড়েনা।

যতীন আহুজা দিল্লির বাসিন্দা, আজ তার এই বিগ বয় টয় কোম্পানি থেকে কোটি কোটি টাকা আয় করছেন তিনি। কিন্তু জানলে অবাক হবেন যে, মাত্র ১৭ বছর বয়সেই এই ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় বেশ তুখোড় থাকায় তার বৈষয়িক জীবন বেশ সহজ হয়ে যায়। দিল্লির একটি স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনা শেষ করেন এবং মাত্র ১০ বছর বয়সেই যতীন তার বন্ধুর কাছে ৩ টাকার একটি কলম অনেক বেশী দামে বিক্রি করেন, এখানেই তার ব্যবসায়িক বুদ্ধির পরিচয় পাওয়া যায়। এরপর দ্বাদশ পাস করার পর, যতীন বি.টেক করার মনস্থির করেন।

পড়াশোনা শেষ করে তিনি ব্যাবসা করার পরিকল্পনা করেন। এরপর তৎকালীন দিনে তিনি বিভিন্ন ফ্যান্সি মোবাইল নাম্বারের ব্যবসাও শুরু করেন। যতীন এইসময় ৯৯৯৯৯ সিরিজের ১২০০ সিমও কিনেছিলেন, যেখান থেকে তার আয় হয় ২৪ লক্ষ টাকা। এরপর গাড়ির ব্যবসা শুরু করলেও সেখানে সাফল্য মেলেনি এবং বিক্রি হয়ে যায় তার কোম্পানি, কিন্তু এর পরেও যতীন হাল ছাড়তে রাজি ছিলেন না।

interview jatin ahuja big boy toyz 1

এর পর যতীন নিজেই বিভিন্ন গাড়ির সংস্কারকার্য শুরু করেন। এই কাজের জন্য বাবার কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকাও নিয়েছিলেন যতীন। তার পরেই শুরু হয়েছিল তার কোম্পানি ‘বিগ বয় টয়েজ’। সেখানে তিনি পুরানো যানবাহনকে বিলাসবহুল বানিয়ে বিক্রির কাজ করেন। কয়েক বছরের মধ্যে যতীনের এই কোম্পানির টার্নওভারও পৌঁছে যায় প্রায় ৬ কোটিতে। আজ তারা অনেক বিলাসবহুল গাড়িও বিক্রি করেছে। তবে হরিয়ানার গুরুগ্রামের ৩৭ নম্বর সেক্টরে যতীনের কোম্পানির একটি শোরুমও রয়েছে। একই সাথে বর্তমানে যতীন এই কোম্পানি থেকে বছরে ৩০০ কোটি টাকা আয় করছেন।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button