বিক্রি হয়ে যাচ্ছিল আম্বানির স্বপ্নের মহল, শেষ মুহূর্তে বাঁচিয়ে দেয় আপনরাই

আজ দেশের শীর্ষ ধনীর শিরোপা উঠেছে গৌতম আদানির (Gautam Adani) মাথায়। কিন্তু তার আগে এই শিরোপা ছিল আম্বানি পরিবারের মুকেশ আম্বানির মাথায় (Mukesh Ambani)। কিন্তু বেশ কয়েক বছর আগে সেই মুকুট ছিল আম্বানি পরিবারের ছোট ছেলে অনিল আম্বানির কাছে। কিন্তু সময়ের ফেরে তিনি দেউলিয়া ঘোষনা করেন নিজেকে। কিন্তু জানেন কী ঋণের ভারে যখন তার বাড়ি বিক্রি হতে বসেছিল তখন তাকে কে বাঁচিয়েছিল?

অনিল আম্বানির বাড়ি মুম্বাইয়ের বান্দ্রার পালি এলাকায়। ধনীদের বাস ওই পুরো এলাকাতে। সেখানে এক গগনচুম্বী ইমারত তৈরি হয় অনিল আম্বানির জন্য। কিন্তু পরে অসমাপ্ত ওই বিরাট টাওয়ারটি নিলাম হতে বসে। পিরামল ক্যাপিটাল এবং হাউজিং ফাইন্যান্স এই টাওয়ার এবং সেখানের ১.৪ একর জমি নিলামে তোলে। কিন্তু পরে দেখা যায় সেই বাড়ি বিক্রি হয়নি। জানা যায় যে, এটি নিছকই একটি পারিবারিক সমস্যা।

এই বছরের শুরুর দিকেই পিরামল ক্যাপিটাল ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনালের (NCLT) দ্বারস্থ হয়েছিল। দেউলিয়া এবং দেউলিয়াত্ব কোড, ২০১৬ এর ধারা ৭ এর অধীনে রিলায়েন্স পাওয়ারের বিরুদ্ধে আবেদন দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলায় প্রকাশ্যে আসে ৫০০ কোটি টাকারও বেশি ঋণ খেলাপি সংক্রান্ত বিষয়। কিন্তু কিভাবে ঘটে ওই ঘটনা?

তদন্তে উঠে এসেছে যে, রিলায়েন্স পাওয়ার এবং তার সহযোগী সংস্থা রিলায়েন্স ন্যাচারাল রিসোর্স, DHFL থেকে ঋণ নেয়। পরে পিরামল গ্রুপ DHFL কে অধিগ্রহণ করে মিশিয়ে নেয় তাদের সাথে। ২০২১ সালেই সেই চুক্তি সম্পন্ন হয় ৩৪,২৫০ কোটি টাকার বিনিময়ে। সেইসময় দেউলিয়া হয়ে গিয়েছিল DHFL। বাজারে ঋণ ছিল ৯০ হাজার কোটি টাকার। আর সেখানেই নিলামে তোলা হয় দেউলিয়া হয়ে যাওয়া অনিল আম্বানির পালি হিলের টাওয়ার।

১৩ জুলাই NCLT-এর মুম্বাই বেঞ্চে মামলার শুনানির সময় পিরামল ফাইন্যান্স এবং রিলায়েন্স পাওয়ার জানায় যে, তারা এই বিষয়টিকে মিমাংসা করার চেষ্টা করছে। দুই সদস্যের বেঞ্চ তাদের আদেশ দেয় যাতে বলা হয় যে, উভয় পক্ষই পারস্পরিক সম্মতিতে এ অনুরোধ জানিয়েছে। আর এই জন্য তারা ছয় সপ্তাহ সময় চেয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে, তার আগেই এই মামলার নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে দুই পক্ষকেই।

আসলে এই টাওয়ারের কাজ শুরু হয় প্রায় এক দশক আগে। কিন্তু এরপর ২০০৫ সালে আম্বানি ভাইরা পৃথক হলে এই টাওয়ার আসে অনিল আম্বানির কাছে। কিন্তু ঋণের ভারে জর্জরিত অনিল আম্বানি ৮০০ কোটি টাকায় এই নির্মিয়মান টাওয়ারটিকে বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সেই চুক্তি আর সম্পন্ন হয়নি। তবে জানা যায় যে, ওই সম্পত্তি বিক্রি করতে চাননা কেউই।

প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি যে, ১১ তলার ওই বিলাসবহুল বিল্ডিংটিতে প্রথম পাঁচ তলায় রয়েছে ব্যবস্থাপনা কক্ষ, বিভিন্ন এজেন্টদের ডরমেটরি, স্টোরেজ, নিরাপত্তা, ড্রাইভার এরিয়া ইত্যাদি। সেখানে বৈদ্যুতিক রুম, জিম এবং রান্নাঘরও রয়েছে। নিচতলায় ও প্রথম তলায় রয়েছে পূজা মণ্ডপ। ভবনে রয়েছে একটি অ্যাডমিন হল, প্রবেশদ্বার। এমনকি ক্লাব হাউসও রয়েছে সেখানে।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button