রেশন কার্ড থাকলেই ১০০০ টাকা, যুবকদেরও ১ লক্ষ টাকা ঋণ! বড় ঘোষণা রাজ্য সরকারের

লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বড় ঘোষণা করার রাজ্যে শোরগোল ফেলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কেউ হয়তো ভাবতেও পারেননি যে মুখ্যমন্ত্রী এমন ঘোষণা করার দেবেন। রাজ্য সরকারের এক জনদরদী সিদ্ধান্তের কারণে আমূল বদলে যেতে চলেছে বহু মানুষের জীবন। আপনার কাছেও কি রেশন কার্ড (Ration Card) রয়েছে? তাহলে আপনার জন্য রইল একদম সোনায় সোহাগা খবর। ভোটের আগে এবার রাজ্যের মানুষকে বিশেষ করে যাদের কাছে রেশন কার্ড রয়েছে তাঁদের ১০০০ টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার (State Government)। শুনতে অবিশ্বাস্যকর মনে হলেও এটাই দিনের আলোর মতো সত্যি। সরকার সোমবার সমস্ত রেশন কার্ডধারীদের এককালীন ১০০০ টাকা সহায়তা দেওয়ার এবং রাজ্যের ২ লক্ষ যুবককে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনা সুদে ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভাবছেন বাংলায় নাকি? এই ঘটনা ঘটতে চলেছে ওড়িশা (Odisha) রাজ্যে। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের খাদ্য সরবরাহ ও গ্রাহক কল্যাণ মন্ত্রী অতনু সব্যসাচী নায়ক মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের (Naveen Patnaik) মন্ত্রিসভা ৯৫.৯০ লক্ষ পিডিএস সুবিধাভোগী পরিবারকে ১০০০ টাকা জীবিকা সহায়তা বিতরণ সহ মোট ২৬ টি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।’

   

মন্ত্রী বলেন, বাজারের দাম বৃদ্ধির কারণে গণবণ্টন ব্যবস্থার (পিডিএস) সুবিধাভোগী পরিবারগুলি ভোগের জন্য বিভিন্ন আইটেম আনতে অসুবিধার মুখোমুখি হয়, যে কারণে এককালীন সহায়তা সরবরাহ করা হবে। সরকার পিডিএস পরিবারগুলির প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য ২০ কেজি এবং ১০ কেজি ক্ষমতার দুটি পাটের ব্যাগ বিনামূল্যে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সব্যসাচী নায়ক বলেন, পাটের ব্যাগ সংগ্রহ ও বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিলের পরিমাণ হবে ২৭৮.৬৯ কোটি টাকা।

একইভাবে, পরিবার পিছু এককালীন ১০০০ টাকা করে জীবিকা নির্বাহের জন্য আরও ৯৫৯.০৫ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানান মন্ত্রী। রাজ্য বাজেট থেকে মোট ১,২৩৭.৭৪ কোটি টাকা খরচ করা হবে। তিনি বলেন, যুবকদের স্বনিযুক্তি সৃষ্টির জন্য সরকারের নতুন প্রকল্প ‘স্বয়ম’-এর অধীনে, ১৮-৩৫ বছর বয়সী ১ লক্ষ যোগ্য গ্রামীণ এবং সমসংখ্যক শহুরে যুবক-যুবতীরা নতুন ব্যবসা শুরু করতে বা বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনা সুদে ঋণ পাবেন।

money

এই প্রকল্পটি দুই বছরের জন্য চালু থাকবে এবং রাজ্যের কোষাগার থেকে ৬৭২ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। এই ঋণের জন্য কোনও জামানত বা প্রসেসিং ফি লাগবে না এবং পরিশোধের সময়কাল হবে চার বছর, যার মধ্যে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নির্ধারিত তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত স্থগিতের সময়কাল অন্তর্ভুক্ত থাকবে। রাজ্য মন্ত্রিসভা মুখ্যমন্ত্রী মাসচ্যাজিবি কল্যাণ যোজনা (এমএমকেওয়াই) প্রকল্পটিও অনুমোদন করেছে, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ৪৪৮ কোটি টাকার বাজেট ব্যয় সহ বাস্তবায়িত হবে। মুখ্যসচিব প্রদীপ কুমার জেনা জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল প্রত্যক্ষভাবে ১১,০০০ মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী সদস্য এবং ১ লক্ষেরও বেশি মৎস্যজীবীকে পরোক্ষভাবে জীবিকা নির্বাহের সুবিধা দেওয়া।

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর