শুধু ভারতই নয়, পণ্য কিনছে না কেউই! জোর ধাক্কা চীনের অর্থনীতিতে, ৭ বছরে সর্বনিম্ন স্তরে রপ্তানি

এবার বড়সড় ধাক্কা খেল চিন (China)। যত সময় এগোচ্ছে দেশের অর্থনীতি (China Economy) একপ্রকার নিম্নস্তরে চলে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্বের অর্থনৈতিকবিদরা। স্বাভাবিকভাবেই সকলে প্রশ্ন তুলছেন, চিনের মতো দেশের এরকম খারাপ পরিস্থিতির দিকে কীভাবে এগোচ্ছে?

চিনের অর্থনীতিতে খারাপ বছর ২০২৩

এমনিতেই ২০২৩ সালটা চিনের অর্থনীতির জন্য একটি খারাপ বছর ছিল। অনেকেই আশা করেছিলেন যে নতুন বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের ছবিটা একটু অন্যরকম হবে, কিন্তু সে গুড়ে বালি।   শুক্রবার প্রকাশিত কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের পর প্রথমবারের মতো চিনি রফতানি কমেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন চিনা পণ্য কেনা কমিয়ে দিয়েছে। দেশের কর্মকর্তারা বলেছেন, ২০২৪ সালে এহেন মন্দা থেকে পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে।

মুদ্রাস্ফীতির চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে চিন

   

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিও মুদ্রাস্ফীতির চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। ২০২৩ সালে খুচরা মুদ্রাস্ফীতি ছিল ১৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল। বিশ্বের বহু দেশ চিনা পণ্য কম কিনছে। শুধু তাই নয়, চিনেও জিনিসের চাহিদা খুবই দুর্বল। এভাবে দুর্বল চাহিদার দ্বৈত ধাক্কার সম্মুখীন হচ্ছে চীন। জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো শুক্রবার জানিয়েছে, নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে খুচরা মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে, তবে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ০.৩% কম।

রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে চিনে

এদিকে ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সাল জুড়ে দাম বেড়েছে মাত্র ০.২ শতাংশ, যা ২০০৯ সালের পর সবচেয়ে দুর্বল রিডিং। সেই সময় বৈশ্বিক মন্দার কারণে খুচরা মুদ্রাস্ফীতি ০.৭% হ্রাস পেয়েছিল। গত বছর চিনের আমদানিও কিন্তু রীতিমতো তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এটি ৫.৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২.৫৬ ট্রিলিয়ন ডলারে। এর ফলে চিনে ৮২৩ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত হয়েছে। ২০২৩ সালে চিনের রফতানি ছিল ৩.৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার।

china export

এদিকে ২০২২ সালে চিনের রফতানি আগের বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ বেড়েছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে চিনে বিদেশী চালান হ্রাস পেয়েছিল, যখন রফতানি ৭.৭% হ্রাস পেয়েছিল। শুক্রবার বেইজিংয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমসের মুখপাত্র লিউ ডেলিয়াং বলেন, ‘গত বছর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার দুর্বল ছিল। মন্থর বাহ্যিক চাহিদা চিনের রফতানিতে প্রভাব ফেলেছে। চ্যালেঞ্জ বাড়ছে বৈশ্বিক বাজারে।‘

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর