লটারির টিকিট কেটে খুলে গেল কপাল! রাতারাতি ভিখারি থেকে রাজা বীরভূমের চা বিক্রেতা

লটারি (Lottery) জিনিসটা এমনই যে কার কখন ভাগ্য বদলে যায় কেউ বলতে পারে না। অনেকেরই জীবনে লটারি কাটার নেশা তিব্র থাকে। এমনও অনেক আছেন যারা প্রত্যেকদিন লটারির টিকিট (Lottery Ticket) কাটতে পছন্দ করেন। আবার অনেকেই আছেন যারা কিনা ৯ মাসে ৬ মাসে একবার লটারি কাটেন। বহু মানুষ এমন রয়েছেন যারা অল্প সময়ের মধ্যে বেশি টাকা লাভের আশায় লটারির টিকিট কাটেন। আপনি কোনটা করেন?

যাইহোক, আজ এই প্রতিবেদনে এমন একজন মানুষকে নিয়ে আলোচনা হবে যিনি জীবনে অনেক কষ্ট করেছেন। তবে তাঁর ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছে একটি লটারির টিকিট। বলা হয়ে থাকে যে কোনও ব্যবসাই (Business) ছোট নয় এবং ব্যবসার চেয়ে বড় কোনও ধর্ম নেই। একজন ব্যক্তি যখন সম্পূর্ণ সততার সাথে কোনো ব্যবসা করেন, তখন তিনি অবশ্যই তাতে সফলতা পান। হোক না সেটা চা বিক্রির ব্যবসা। ডিয়ার লটারিতে টিকিট (Ticket) কেটে ভাগ্যের চাকা এক কথায় ঘুরে গিয়েছে পেশায় চা বিক্রেতা (Tea Seller) অরুণ গড়াই-এর। হ্যাঁ শুনতে অবাক লাগলেও এটাই দিনের আলোর মতো সত্যি একদম।

   

বীরভূমের (Birbhum) দুবরাজপুর (Dubrajpur) থানার অন্তর্গত দুবরাজপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কলুপাড়ার বাসিন্দা অরুণ গড়াই হয়তো স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি যে একটি লটারির টিকিট তাঁর ভাগ্য রাতারাতি বদলে দেবে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, প্রায় প্রতিদিনই ১০০ থেকে ১২০ টাকার পর্যন্ত লটারির টিকিট কাটতেন। সেই রকমই লটারির নেশায় তিনি একদিন টিকিট কাটেন। এরপরেই ফলাফল বেরোতেই অরুণবাবু জানতে পারেন যে তিনি এবার ১ কোটি টাকার মালিক হয়ে গিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই এহেন ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

অরুন গড়াই জানান, দুবরাজপুর কোর্টের সামনে তার ছোট চায়ের দোকান রয়েছে। সেখানে চা বিক্রি করেই সংসার চালাতেন। ওই চায়ের দোকান থেকেই যে রোজগার হতো তা দিয়েই ১০০ থেকে ১২০ টাকার লটারির টিকিট কাটতেন। লটারিতে পুরস্কার জিতে নিজের ভাগ্য বদলানোর আশাতেই টিকিট কাটতেন। মাঝে মাঝে অল্পস্বল্প পুরস্কারও পেতেন। কিন্তু তিনি কোনদিন ভেবে উঠতে পারেননি, তার এইভাবে প্রথম পুরস্কার কোটি টাকা হবে। বেজায় খুশি তিনি।

lottery winning

সোমবার তিনি ৩০ টাকার ৫ সেমের টিকিট কাটেন। এরপর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার কাছে টিকিট বিক্রেতার থেকে ফোন আসে এবং জানানো হয়, তার কাছে থাকা টিকিটে প্রথম পুরস্কার হিসাবে এক কোটি টাকা জিতেছেন। এরপরই তিনি এলাকার স্থানীয় কাউন্সিলর ভাস্কর রুজকে বিষয়টি জানান এবং তারা থানায় আসেন নিরাপত্তা ও পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য।

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর