DA নিয়ে দেওয়া মমতা ব্যানার্জীর তত্ব খারিজ! প্রকাশ্যে বড় তথ্য, মাথায় বাজ সরকারি কর্মীদের

বাংলায় (West Bengal) ডিএ বা মহার্ঘ্য ভাতা (Dearness allowance) নিয়ে জট যেন কাটতেই চাইছে না। দীর্ঘদিন ধরে কলকাতার বুকে বকেয়া এবং কেন্দ্রীয় হারে ডিএ-র দাবিতে শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা উপেক্ষা করতে বিক্ষোভ দেখিয়েই চলেছেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা।

mamata da wb

   

মামলা গড়িয়েছে হাইকোর্ট (Calcutta High Court), সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court Of India) অবধিও। যদিও এই নিয়ে জট যেন কাটতেই চাইছে না কোনোভাবেই। এদিকে যত সময় এগোচ্ছে ততই কেন্দ্রের সঙ্গে বাংলার DA-র ফারাক বেড়েই চলেছে। সুপ্রিম কোর্টে এখন এই মামলা বিচারাধীন। আদৌ কি আর মিলবে ডিএ? সেই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এরই মাঝে ডিএ নিয়ে প্রকাশ্যে চমকে দেওয়ার মতো উঠে এসেছে। যা দেখে সকলেই কার্যত চমকে গিয়েছেন।

এই ডিএ নিয়ে সম্প্রতি বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বিধানসভা প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে তিনি বকেয়া ডিএ নিয়ে দাবি করেছিলেন, সরকারি কর্মীদের ডিএ মৌলিক অধিকার নয়, সরকারের ঐচ্ছিক বিষয়। আর এই মন্তব্য শুনে কার্যত রক্ত গরম হয়ে গিয়েছিল বিক্ষোভরত কর্মীদের। তাঁর আরো দাবি ছিল, যেহেতু পূর্বতন বাম সরকার অনেক টাকার বোঝা চাপিয়ে দিয়ে গিয়েছে, সেটা পূরণ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে রাজ্য সরকার। কিন্তু তারপরও মমতার সরকার ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৯০% ডিএ দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু সেটা কি আদৌ সত্যি?

এই বিষয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের সরকারি কর্মীরা বেতন ২০ হাজার টাকারও কম পাচ্ছেন প্রতিমাসে। মুখ্যমন্ত্রী সরকারি কর্মীদের DA নিয়ে যে তথ্য দিয়েছেন তা অসত্য।  কেন্দ্রের সরকারি কর্মীরা ৪৬ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। সেই তুলনায় রাজ্যের সরকারি কর্মীরা কিছুই পাচ্ছেন না। এই রাজ্যের সরকারি কর্মীরা দিনের পর দিন আন্দোলন করছেন। কোর্টে যাচ্ছেন। শহিদ মিনারে শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা উপেক্ষা করে বসে রয়েছেন বকেয়া পাওয়ায় আশায়। রাজ্যের পুলিশও ডিএ পাচ্ছে না। একজন কনস্টেবল মাসে ২০ হাজারের কম বেতন পাচ্ছেন।

বিরোধী দলনেতার এহেন দাবিকে ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। একটি হিসেবের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে গ্রুপ সি কর্মীদের হিসেবে ২০১৬ সালে গ্রুপ C-র কর্মী হিসেবে যিনি কাজে যোগ দিয়েছেন তাঁর এন্ট্রি পয়েন্ট ছিল ২২ হাজার ৭০ টাকা। এরপর ২০২২ সাল পর্যন্ত তাঁদের ইনক্রিমেন্ট হয়ে বেতন দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ১০০ টাকা। ৩৬ শতাংশ ফারাক অর্থাৎ ৯৭৫৬ টাকা। তাহলে তিনি ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা কম পাচ্ছেন।

অন্যদিকে ২০১৬ সালে এ রাজ্য যিনি গ্রুপ ডি-র কর্মী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তার এন্ট্রি পয়েন্ট ছিল ১৭ হাজার টাকা। এরপর ২০২২ সাল পর্যন্ত ইনক্রিমেন্ট হয়ে তাঁদের বেতন দাঁড়ায় প্রায় ২১ হাজার টাকা। রাজ্যের কর্মীদের AICPI অনুযায়ী ডিএ-র ফারাক ৩৬ শতাংশ। অর্থাৎ ২১ হাজার টাকার ৩৬ শতাংশ অর্থাৎ মাসে ৭৫৬০ টাকা। তাহলে বছরের হিসেবে প্রায় ৯০ হাজার ৭২০ টাকা মতো কম পাচ্ছেন গ্রুপ ডি-র কর্মীরা।

fd money 2

এবার আসা যাক অপার ডিভিশন ক্লার্কের কথায়। আপার ডিভিশন ক্লার্কদের হিসেবে ২০১৬ সালে আপার ডিভিশন কোনও ক্লার্কের বেতন যদি ২৮৯০০ টাকা থেকে থাকে তাহলে তিনি ২০২২ সালে ইনক্রিমেন্ট হওয়ার পর বেতন পান প্রায় ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা। সেই হিসেবে বার্ষিক ১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা কম পাচ্ছেন আপার ডিভিশন ক্লার্কের কর্মীরা। এদিকে এই হিসেব দেখে সকলেই চমকে গিয়েছেন।

সম্পর্কিত খবর