হঠাৎ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চলে আসে ১৮ কোটি, সব টাকা খরচও করে ফেলেন তরুণী! তারপরই ঘটে

ভাবতে পারেন ব্যাংকের ভুলের কারণে এক্কেবারে ১৮ কোটি টাকা খরচ করে দিয়েছেন তরুণী। ঘটনাটা সুদূর অস্ট্রেলিয়ার। সেখান থেকে এমনই তথ্য এসেছে যা শুনলে রীতিমত অবাক হয়ে যাবেন আপনি! আর অংক দেখেও মাথায় হাত ব্যাংক কর্তৃপক্ষের। কী হয়েছে পুরো ব্যাপারটাই জানাতে চলেছি আপনাদের।

কোটি টাকার শপিং, বিলাসবহুল জীবনশৈলী পুরোটাই ব্যাংকের খরচে! এদিকে অ্যাকাউন্টে কোনো টাকাই নেই, কিন্তু কেনাকাটার বহর দেখে লজ্জা পাবেন কোটিপতিরাও। কিন্তু কীভাবে ব্যাংকের ১৮ কোটি টাকা ক্ষতি হয়ে গেল তাই ভাবছেন তো? তাহলে আপনাদের জানিয়ে দি যে, এই পুরো ভুলটাই ব্যাংক কর্তৃপক্ষের। তারা ওই তরুণীকে ওভারড্রাফট এর সুবিধা দিয়েছিল।

কী এই ওভারড্রাফট : ওভারড্রাফট আসলে এক প্রকার লোন। যেখানে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা না থাকলেও টাকা তুলতে পারেন। এক্ষেত্রে ব্যাংক আপনাকে একটি স্বল্প মেয়াদী ঋণ দেয়, যা আপনাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শোধ করতে হয়। আর এক্ষেত্রে ব্যাংক ওই তরুণীকে আনলিমিটেড ওভারড্রাফট-র সুবিধা দেওয়াতেই এত ক্ষতি হয় ব্যাংকের।

ওই তরুণীর বাড়ি অস্ট্রেলিয়াতে নয়। তিনি মালয়েশিয়ার নাগরিক , অস্ট্রেলিয়া গিয়েছেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে। সিডনিতে বসবাসরত এই শিক্ষার্থীকে অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টপ্যাক ব্যাংক ওভারড্রাফট এর সুবিধা দেয়, তাও আবার সীমাহীন। বিষয়টি জানতে পেরে ওই তরুণীকে তলব করলেও ততদিনে বেশ দেরী হয়ে গিয়েছে।

২১ বছর বয়সী ক্রিস্টিন জিয়াক্সিন এই ওভারড্রাফট ফ্যাসিলিটির সীমাহীন সুবিধা উপভোগ করেন। আর তাই দিয়েই ক্রিস্টিন নিজের গয়না, পার্টি, ভ্রমণ এবং বিবিধ বিলাসবহুল দ্রব্যে কোটি কোটি টাকা উড়িয়েছেন। বিলাসবহুল জীবন যাপন শুরু করার পাশাপাশি নিজের জন্য দামী অ্যাপার্টমেন্টও নিয়েছেন তিনি। এবার নিজের অন্য অ্যাকাউন্টে মোটা অংকের টাকাও স্থানান্তর করেন তিনি।

জানা যাচ্ছে যে, বিগত ১ বছরে ক্রিস্টিন প্রায় ১৮ কোটি টাকা খরচ করেছেন। কিন্তু আদালতে বিষয়টি উঠলে ক্রিস্টিনের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ খারিজ হয়ে যায়। কোনো এক রহস্যময় উপায়ে ছাড়া পেয়ে যান তিনি। এদিকে ওই সুবিধার বাজে ভাবে ফায়দা তোলার পর ক্রিস্টিন জানান যে, তিনি নাকি ভেবেছিলেন যে তার বাবা-মা ওই অর্থ পাঠাচ্ছেন। তাছাড়া তার আইনজীবীর মতে ব্যাংকের ভুলের কারণে এতকিছু হয়েছে তাই ক্রিস্টিন মোটেই দায়ী নন।

পরবর্তীতে অবশ্য ক্রিস্টিনের কাছ থেকে ৯ কোটি টাকার সম্পত্তি আদায় করে তদন্তকারী অফিসাররা। এদিকে তিনি যে এতটাকার কারচুপি করেছেন সেই নিয়ে ধন্ধে খোদ তার বয়ফ্রেন্ডও। তিনি জানান এসবের ব্যাপারে কিছুই জানতেন না তিনি।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button