লেখাপড়া করে বড় হওয়াই লক্ষ্য, ছোট্ট ভাইকে কোলে নিয়ে স্কুলে যায় দিদি! মন ছুঁয়ে যাবে এই খুদের কাহিনী

একসময় ভারতকে বলা হত ‘সোনে কি চিড়িয়া’ অর্থাৎ ধন সম্পদ এবং ঐশ্বযের দেশ ছিল ভারত। কিন্তু এরপর বহিরাগত আগ্রাসন এবং বৃটিশরা ভারতের সমস্ত সম্পদ লুঠ করে নিয়ে যায় এবং দেশকে ভিতর থেকে ফাঁপা করে দেয়। স্বাধীনতার এত বছর পরও ভারত সেই দারিদ্র্যতা থেকে বের হতে পারেনি।

ভারতে এমন অনেক গ্রাম রয়েছে, যেখানে খুব অল্প বয়সেই শিশুরা একসাথে তাদের ঘরের দায়িত্ব এবং তাদের ভাইবোনদের যত্ন নিতে শুরু করে। একই সাথে দারিদ্র্যের আগুনে পুড়ে যায় তাদের শৈশব। তাদের এই শৈশবকাল অত্যন্ত নিষ্পাপ, তাই ছোট শিশুদের আপনি যেভাবে গড়ে নেবেন তারা সেভাবেই গড়ে ওঠবে।

বর্তমান যুগে প্রতিনিয়ত শিক্ষার গুরুত্ব বাড়ছে। একমাত্র শিক্ষাই সমাজ ও জাতির ভিত্তি স্থাপনের শক্তি হিসেবে কাজ করে। সরকারও বিভিন্ন জন কল্যাণমূলক শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষাকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীদের খুবই মন দিয়ে পড়াশুনা করা প্রয়োজন। শিক্ষা শুধু চাকরি পাওয়ার জন্য নয়, অন্যকে চাকরি দেওয়ার জন্যও প্রয়োজন।

আজ আমরা সেরকমই এক ১০ বছর বয়সী মেয়ের কথা বলব যে গোটা ভারতের মন জয় করে নিয়েছে। ১০ বছর বয়সী ওই মেয়েটি তার ছোট বোনকে কোলে নিয়ে স্কুলে যায়। এই ঘটনা ভারতের মণিপুর রাজ্যের একটি মেয়ের, যা হতবাক করেছে নেটিজেনদের এবং মুগ্ধ করেছে মণিপুরের বিদ্যুৎ, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী বিশ্বজিৎ সিংকে।

মণিপুরের মেইনিংসিনলিউ পামেই চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী। তার বাবা-মা কৃষিকাজে ব্যস্ত থাকায় সে তার ছোট বোনকে নিজেই দেখাশোনা করে এবং তাকে তার সাথেই স্কুলে নিয়ে যায়। সেই মেয়েটির ছবি দেখে বিশ্বজিৎ সিং লিখেছেন যে ‘শিক্ষার প্রতি, তার উৎসর্গ আমাকে অবাক করে দিয়েছে।’

বর্তমানে এই মেয়ের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ ভাইরাল হচ্ছে। এই ছবিটি যখন মণিপুরের বিদ্যুৎ, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী বিশ্বজিৎ সিং দেখেন, তখন তিনি মেয়ের শিক্ষার প্রতি আগ্রহের প্রশংসা করেন এবং পামেইকে পূর্নসাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দেন। টুইটারে মন্ত্রী লেখেন যে, “শিক্ষার প্রতি তার নিষ্ঠা আমাকে অবাক করেছে। পামেই মণিপুরের তামেংলং-এর ১০বছর বয়সী মেয়ে, তার ছোট বোনের দায়িত্বের সাথে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে সে, তার বাবা-মা চাষবাস করে এবং শ্রমিক হিসাবে সংসার চালায়। এই মেয়েটি সেসব মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা, যারা সামান্য ঝামেলাতেই ডিপ্রেশনে চলে যায়।”

manipur girl attends classes with sister in lap

মণিপুরের বিদ্যুৎ, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী বিশ্বজিৎ সিং আরও লিখেছেন যে, তিনি এখন পামেইকে সাহায্য করবেন, এর জন্য তিনি পামেইয়ের বাবা-মা এবং আত্মীয়দের সাথে কথা বলেছেন এবং তাদের সাথে দেখা করার জন্য তাদের এখানে নিয়ে আসতে বলেছেন।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button