ঝুলি নিয়ে ভারতের শরণাপন্ন মুইজ্জু! গোঁয়ারতুমি ছেড়ে বন্ধু হন, পরামর্শ মলদ্বীপের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির

যত সময় এগোচ্ছে দ্বীপরাষ্ট্র মলদ্বীপ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে যে ভারতের সঙ্গে পাঙ্গা নেওয়া মোটেই উচিৎ হয়নি। একসময়ে যখন ‘India Out’ মিশন নিয়ে মলদ্বীপের গদিতে বসেছিলেন চিনপন্থী মহম্মদ মইজ্জু তখন হয়তো ভাবেননি যে একসময়ে ভারতের কাছেই হাত পাততে হবে।

যাইহোক, মাঝে গঙ্গা দিয়ে বেশ খানিকটা জল প্রবাহিত হয়েছে। কয়েকদিন আগে অবধি যেখানে ভারতের সঙ্গে ঠান্ডা যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল মলদ্বীপ, এখন সেখানে রীতিমতো ভিক্ষের ঝুলি নিয়ে ভারতের কাছে দ্বারস্থ হল মইজ্জু সরকার। আর এরই মাঝে মইজ্জু সরকারকে বিশেষ পরামর্শ দিলেন দেশের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মহম্মদ সোলি। তিনি সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ভারত নয়, মালদ্বীপের সমস্যার আসল কারণ চীন।

   

মূলত এখন ঋণ সমস্যায় জর্জরিত মলদ্বীপ সরকার। ভারতের ঋণ মেটানোর জন্য বেশ কিছুটা সময় চেয়েছে সরকার। এদিকে মলদ্বীপের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজুকে একগুঁয়েমি মনোভাব ছেড়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আলোচনায় বসার পরামর্শ দিয়েছেন দেশটির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মহম্মদ সোলিহ। সোলিহ এমন এক সময় এ বক্তব্য দিলেন যখন মলদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুকে বিশ্বজুড়ে চীনপন্থী নেতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সোলিহ মইজ্জুকে তার “অনমনীয়” মনোভাব ত্যাগ করতে এবং আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রতিবেশীদের সাথে আলোচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন।   ৪৫ বছর বয়সী মুইজ্জু গত বছরের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৬২ বছর বয়সী সোলিহকে পরাজিত করেন।

মাফান্নুর চারটি সংসদীয় আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মালদ্বীপের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এমডিপি) প্রার্থীদের সমর্থন আদায়ের জন্য মালেতে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সোলিহ বলেন, তিনি মিডিয়া রিপোর্ট দেখেছেন যা থেকে বোঝা যায় যে মুইজু ঋণ পুনর্গঠনের জন্য ভারতের সাথে কথা বলতে চান। ভারতের কাছে মালদ্বীপ ঋণ নিয়েছে ৮০০ কোটি টাকা (মালদ্বীপের মূদ্রায়)। যেখানে চীনের কাছে মালদ্বীপের ঋণ রয়েছে ১৮০০ কোটি। অতএব মালদ্বীপের বোঝা বাড়িয়েছে চীন‌।  এহেন অবস্থায় ভারতের কাছে ঋণ মকুবের আর্জি করা যেতে পারে। তবে তার জন্য ভারত বিরোধীতার জেদ ধরে না বসে থেকে ভারতের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা উচিত।

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর