আজানের শব্দ যেন থাকে মসজিদের মধ্যেই! পুলিশের নোটিশ ঘিরে শোরগোল

ব্যাঙ্গালুরুঃ বর্তমানে সারা দেশেই চলেছে মসজিদে লাউডস্পিকার ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক। মহারাষ্ট্রের রাজ ঠাকরে থেকে বলিউড গায়িকা অনুরাধা পড়োয়াল সবাই এই ইস্যুতে নিজের নিজের মত জারি করেছেন। এই বিতর্কে নয়া নাম কর্ণাটক। ধর্মীয় বিতর্কে বরাবরই শিরোনামে কর্ণাটক। প্রথমে হিজাব বিতর্কের পর এবার মসজিদে মাইক বন্ধ করার দাবীতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে সারা দেশে।

কয়েকদিন আগেই সেই রাজ্যের হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি মসজিদে মাইক বন্ধ করার দাবি তোলে। এবার সেই পথ অনুসরণ করে বড় পদক্ষেপ নিল পুলিশ। বুধবার কর্ণাটক পুলিশ নোটিশ পাঠায় সমস্ত মসজিদে। সেখানে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে নির্দিষ্ট শব্দসীমার (ডেসিবেল) মধ্যে বাজাতে হবে লাউডস্পিকার।

এই ঘটনার জেরে শোরগোল সারা দেশজুড়েই। এর আগে হিজাব বিতর্কে দেশ তো বটেই আন্তর্জাতিক স্তরেও হয়েছিল বিতর্ক। এছাড়া হালাল মাংসের বিক্রি নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিল রাজ্যের মধ্যে থাকা হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি। এইসব ঘটনাগুলি শুধু রাজ্যের মধ্যেই থেমে থাকেনি। হয়েছে দেশজুড়ে এই নিয়ে বিতর্ক। এসবের মাঝে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি মসজিদে মাইকের বিরোধীতা করে মাঠে নামে। তাদের বক্তব্য মসজিদে নামাজ পড়ার সময় চলবেনা মাইক বাজানো। এবার যদি এই সিদ্ধান্ত না মানা হয় তাহলে উচ্চস্বরে ভজন বাজাবে তারা।

সংগঠনের তরফে একটি ভিডিও পোস্ট করে এও জানানো হয় যে, রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা অবধি চলবেনা মাইক বাজানো। এই অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের রায়কেও হাতিয়ার করেছে তারা। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের এই রায় না মানায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মুসলিমরা।

এরই মধ্যে কর্ণাটক পুলিশ রাজ্যের সমস্ত মসজিদে নোটিশ পাঠিয়ে জানিয়েছে যে, সুপ্রিমকোর্টের রায় মেনে মসজিদগুলিকে একটি নির্দিষ্ট ডেসিবেলের মধ্যেই বাজাতে হবে মাইক। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য থাকবে প্রশাসন। মাইকের আওয়াজ যাতে কোনোভাবেই মসজিদের বাইরে না আসে, তা নিশ্চিত করতে বলা হয় সমস্ত মসজিদ কর্তৃপক্ষকে।

কর্ণাটকের মন্ত্রী কে এস এসাইয়াওরাপা এই ব্যাপারে জানিয়েছেন যে, ‘মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হচ্ছে। মসজিদের মাইকের আওয়াজে ছাত্রছাত্রী এবং অসুস্থ মানুষদের সত্যিই খুব অসুবিধা হয়।’ প্রসঙ্গত কয়েকদিন আগেই এই ইস্যুতে সরব হয়েছিল কর্ণাটকের পাশের রাজ্য মহারাষ্ট্রের নব নির্মান সেনার সভাপতি রাজ ঠাকরে।

raj thackeray mosque

রাজ ঠাকরে শিবাজি পার্কের একটি সমাবেশে দাড়িয়ে প্রশ্ন করেছিলেন,” মসজিদে এত উচ্চস্বরে লাউডস্পিকার বাজানো হয় কেন? যখন ইসলাম ধর্মের যাত্রা শুরু হয়েছিল তখন কি লাউডস্পিকার ছিল?” অবশ্য এখানেই থেমে না থেকে তিনি আরও বলেন যে, মসজিদে লাউডস্পিকার বন্ধ না হলে হনুমান চলিশা বাজাবেন তিনি। দিনকয়েক আগে বিখ্যাত বলিউডের গায়িকা অনুরাধা পড়োয়ালও মসজিদের আজানে লাউডস্পিকার ব্যবহার নিয়ে পরশ তোলেন।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button