শামি, ঝুলনের জন্যই BJP-র প্রার্থী তালিকা ঘোষণায় দেরি? থাকছে আরও একটি মহাচমক

বর্তমানে ভারতজুড়ে চলছে ভোটের মরশুম। শাসক থেকে বিরোধী, সব দলই এখন প্রচার থেকে প্রার্থী বাছাইয়ে ব্যস্ত। যেহেতু লোকসভা ভোট, তা পশ্চিমবঙ্গেও চলছে নির্বাচনী উৎসব। কিছুদিন আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে আয়োজন করা হয় ‘জনগর্জন সভা’। আর সেখান থেকেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলার ৪২ আসনে তৃণমূল প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।

৪২ জনের মধ্যে কয়েকটি নামে বেশ চমক ছিল। তৃণমূলের তরফে দুই বিশ্বজয়ী ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান ও কীর্তি আজাদকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও দিদি নম্বর ওয়ান খ্যাত বিশিষ্ট অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এবারের ভোটের টিকিট দিয়েছে তৃণমূল। আরেকটি নাম হল, প্রাক্তন IPS অফিসার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তিনিও তৃণমূলের প্রতীকে ভোটের ময়দানে।

   

অন্যদিকে, বিজেপি ২ মার্চ নিজেদের ২০ জনের প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। তবে তার একদিন পরই তাল কাটে। আসানসোলে বিজেপি বিখ্যাত ভোজপুরি গায়ক পবন সিংকে টিকিট দিয়েছিল। কিন্তু পবন সিং কিছু বিতর্কের কারণে আসানসোল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বলে জানিয়ে দেন। পবনের এই সিদ্ধান্তের পর বিজেপির মোট প্রার্থী হয় ১৯ জন। মানে এখনও ২৩ আসনে বিজেপির প্রার্থী দেওয়া বাকি।

এসিকে এত আসনে প্রার্থী দেওয়া বাকি থাকলেও, বিজেপির মধ্যে তেমন কোনও হেলদোল দেখা যাচ্ছে না। একদিন আগে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ও রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দিল্লি গিয়েছিলেন। শোনা যাচ্ছিল যে, তাঁদের দিল্লি যাওয়ার কারণ প্রার্থী চূড়ান্ত করা। এমনকি এও শোনা যাচ্ছিল যে, ১৯ মার্চ বিজেপির দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতে পারে। কিন্তু তা হয়নি।

এখন প্রশ্ন উঠছে, কেন প্রার্থী তালিকা প্রকাশে এত দেরি করছে বিজেপি? বিশিষ্টদের মতে, তৃণমূলের মতোই প্রার্থী তালিকায় বড় চমক দিতে পারে গেরুয়া শিবির। কেমন চমক? কিছুদিন আগে পর্যন্ত শোনা যাচ্ছিল যে, বিজেপি ভারতের দুই ক্রিকেটারকে এবার রাজনীতিতে নামাতে পারে। প্রথম জন হলেন ভারতীয় মহিলা দলের বোলার ঝুলন গোস্বামী। দ্বিতীয়জন হলেন টিম ইন্ডিয়ার সুপারস্টার মহম্মদ শামি।

বিজেপিতে ঝুলন গোস্বামী?

তবে এই দুজনার নামে গুঞ্জন থাকলেও ঝুলন গোস্বামী রাজনীতিতে নামার জল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, তিনি রাজনীতি আসতে ইচ্ছুক নন। তবে বিজেপি কী আদৌ সেই আশা ছেড়েছে? জানা যাচ্ছিল যে, বনগাঁ কেন্দ্র থেকে বিজেপি ঝুলন গোস্বামীকে প্রার্থী করতে পারে। কিন্তু বনগাঁয় বিজেপি ইতিমধ্যে নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে।

বিজেপির প্রার্থী মহম্মদ শামি?

ওদিকে, মহম্মদ শামি আবার এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়াই দেননি। বিশ্বকাপের পর থেকেই শামি আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে বলে দাবি নানান মহলের। কখনও শামি নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করছেন, আবার কখনও মোদী মহম্মদ শামির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হচ্ছেন। তাহলে কী সত্যিই শামি এবার ভোটে দাঁড়াচ্ছেন বাংলায়? যদিও তার উত্তর জানা যায়নি। তবে বড়সড় চমকের অপেক্ষায় রয়েছে বঙ্গবাসী।

কৃষ্ণনগরের রাজমাতা বিজেপিতে?

এদিকে শুধু শামি আর ঝুলন নয়, বিজেপির আরও একটি বড় চমক দিতে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। অনেকেই দাবি করছেন যে, বিজেপি এবার কৃষ্ণনগর আসনে বড় চমক দিতে পারে। গুঞ্জন অনুযায়ী, কৃষ্ণনগরে আসনে তৃণমূল প্রার্থী মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে বিজেপির প্রতীকে আসরে নামতে পারেন কৃষ্ণনগরের রাজমাতা। যদিও, এসব এখনও গুঞ্জনই। কিন্তু এই তিন নামে যদি সিলমোহর পড়ে যায়, তাহলে তিন জায়গায় বিরোধীরা যা কড়া টক্করের মধ্যে পড়বে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর