অবশেষে ফাঁস ভারতীয় রেলের বেগুনকোদর স্টেশনের ভূতুড়ে রহস্য, প্রকাশ্যে হাড়হিম করা তথ্য

পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলার ভারতীয় রেলের (Indian Railways) বেগুনকোদর স্টেশনের নাম কে না শুনেছে। এই স্টেশন তাঁর ভৌতিক কর্মকাণ্ডের জন্য শুধু ভারতেই নয়, গোটা বিশ্বেই বিখ্যাত। পাঁচ বছর আগে রেল, পুলিশ, প্রশাসন ও বিজ্ঞান মঞ্চ রাত জেগে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়ে প্রমাণ করেছিল যে, বেগুনকোদরে আর কিছু থাকুক আর নাই থাকুক, ভূত নেই। এবার সেই স্টেশনের ভৌতিক কর্মকাণ্ড ফাঁস করলেন স্থানীয় এক বৃদ্ধ।

কথায় আছে, ওই স্টেশনের মাস্টার নাকি ভূত দেখেছিলেন। তবে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলেই প্রমাণিত হল। আসলে, ওই স্টেশন মাস্টারের চার মেয়ে ছিল, আর তাঁরা ইভটিজিংয়ের শিকার হওয়ার কারণে ভূতের গল্প ফেঁদে সেখান থেকে পালাতে চেয়েছিলেন তিনি। বেগুনকোদরের স্থানীয় বাসিন্দা ৭১ বছর বয়সী অঙ্গদ কুমার সেই পাঁচ দশকের পুরনো রহস্য ফাঁস করলেন।

অঙ্গদবাবু জানান, এখানে ভূত বলতে কিছুই নেই। সম্পূর্ণ কল্পনা আর বানানো গল্প। স্টেশন চালু হওয়ার সময় দায়িত্ব পান স্টেশন মাস্টার বৈদ্যনাথ সরকার। তাঁর চার মেয়ে ছিল। আর সেই মেয়েরা ইভটিজিংয়ের শিকার হওয়ায় তিনি ভূতের গল্প বানিয়ে এলাকা ছাড়তে চেয়েছিলেন।

বৃদ্ধ জানান, স্টেশন মাস্টারের বড় মেয়ে চায়নার সঙ্গে তাঁর মেয়ে নিদ্রার বন্ধুত্ব ছিল। আর স্টেশন মাস্টারের পরিবারের সঙ্গে তাদের আত্মীয়র সম্পর্কও গড়ে উঠেছিল। বৃদ্ধ জানান, তাদের থেকে জমি নিয়েই রেল সেখানে স্টেশন বানায়। তাঁর জন্য তাদের অর্থ দেওয়া হলেও, তাঁর পরিমাণ ছিল নগণ্য। মাত্র ৩৬০০ টাকায় ২০ বিঘা জমি হস্তান্তর হয়েছিল। তবে, রেল পুরো জমি ব্যবহার না করায়, বাকি জমিতে চাষ করেন অঙ্গদবাবু।

১৯৬০ সালে এই স্টেশন গড়ে ওঠে, এবং ভূতের গল্পের কারণে ১৯৬৬ সালে স্টেশন বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০০৬ সালে পুরুলিয়া প্রশাসন এবং পশ্চিমবঙ্গের বিজ্ঞানমঞ্চ ভূতের ভয় ঘুচিয়ে এই স্টেশনকে পুনরায় চালু করতে তৎকালীন সাংসদ বাসুদেব আচারিয়ার দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

এরপর ২০০৭ সাল থেকে স্টেশন পুনরায় চালু হয়। কিন্তু রেলের শর্ত ছিল যে, শুধুমাত্র দিনের বেলাতেই সেখানে ট্রেন থামবে। তারপর থেকে এখনো সেই নিয়মই চলে আসছে। বিজ্ঞানমঞ্চ রহস্য ফাঁস করলেও এখনো অনেকে সেখানে ভূতের সন্ধানে যান। এবং এখনো নাকি মানুষের সেখানে গেলেই গা ছমছমে ভাব হয়। অন্যদিকে, রাতের বেলায় স্টেশনে ট্রেন না দাঁড়ানোর কারণে সেখানে আলো, বাতির তেমন ব্যবস্থাও নেই। আর সেই কারণেই চারিদিকটা কেমন ভৌতিক হয়ে যায়।

pic

তবে, এই কারণে অনেকের আবার ভালো আয়ও হচ্ছে। স্টেশনে ভৌতিক কাহিনীর কারণে সেখানে গড়ে উঠেছে ‘ঘোস্ট ট্যুরিজম”। বহু ইউটিউবার সেখানে গিয়ে রাতের বেলায় ভিডিও করে মোটা টাকাও কামিয়ে নিচ্ছে। এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ জানিয়েছে যে, এলাকাবাসীর ক্ষতি করে সেখানে ঘোস্ট ট্যুরিজম চালানো যাবে না। তাঁরা এও ঘোষণা করেছে যে, ভূত দেখাতে পারলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কারও দেওয়া হবে।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button