শুধু বন্দে ভারত, রাজধানী এক্সপ্রেসই নয়! অন্য ট্রেনেও মিলবে এই বড় সুবিধা! সিদ্ধান্ত রেলের

ভারতীয় রেলকে (Indian Railways) দেশের লাইফ লাইন বলা হয়। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়ার জন্য সকলের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছে এই রেল ব্যবস্থা। কারণ এই রেল ব্যবস্থা একদিকে যেমন সস্তায় তেমনি আরামদায়ক। এদিকে যাত্রীদের সুযোগ সুবিধার কথা মাথায় রেখে যত সময় এগোচ্ছে ততই একেবারে সিদ্ধান্ত নিয়ে সকলকে চমকে দিচ্ছে সরকার। আপনি যদি রেলপ্রেমী হয়ে থাকেন তাহলে এই প্রতিবেদনটি রইল শুধুমাত্র আপনার জন্য।

রেলে ভ্রমণের সময় অনেক সময়ই দেখা যায় বহু রেল যাত্রী নিরাপত্তার আশঙ্কায় ভোগেন। সেক্ষেত্রে যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বহু ট্রেনের ইতিমধ্যেই সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে রেলে তরফে। এমনকি কোচের পর কোচে নিরাপত্তা কর্মীদেরও সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রেলের লক্ষ্য যাতে যাত্রীরা নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারেন। তবে এখানেই আর সীমাবদ্ধ রইল না রেল। সকলের কথা মাথায় রেখে আরো এক বড় সিদ্ধান্তের পথে হাঁটলো ভারতীয় রেল। যা শুনে আপনিও চমকে উঠবেন এক প্রকার।

   

রেলওয়ে বোর্ড প্রযুক্তির সাহায্যে রেলযাত্রীদের সুরক্ষা ও সুরক্ষা জোরদার করার পদক্ষেপ নিয়েছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ৫,০০০ ট্রেনের ইঞ্জিনের বাইরে এবং ৫৪,০০০ কোচের পাশাপাশি কেবিনে সিসিটিভি বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইন্টারনেট প্রোটোকল ভিত্তিক ক্যামেরা অনলাইন মনিটরিং সক্ষম করবে।

রেলবোর্ডের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, ক্রম বর্ধমান ট্রেন দুর্ঘটনা রোধে সিসিটিভি ক্যামেরা সহায়ক বলে প্রমাণিত হবে। ট্রেন দুর্ঘটনা এড়াতে এবং সকলের নিরাপত্তার কথা ভেবে সিসিটিভি বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। আরও একটি সিদ্ধান্তে রেলবোর্ড ৫৪ হাজার কোচে সিসিটিভি বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিটি কোচে প্রবেশ ও প্রস্থান গেটে আটটি ক্যামেরা থাকবে। আর এই কাজ করতে রেলের ২২০০ কোটি টাকা খরচ হবে বলে খবর।

রেলওয়ের বেশ কিছু প্রিমিয়াম ট্রেন যেমন রাজধানী এক্সপ্রেস, শতাব্দী এক্সপ্রেস, দুরন্ত এবং বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের মোট ৭,০০০ কোচে ইতিমধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। এই প্রকল্পের প্রসার ঘটিয়ে রেলবোর্ড মেল-এক্সপ্রেস, প্যাসেঞ্জার ট্রেন এবং লোকাল ট্রেনে সিসিটিভি বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ৫ হাজার লোকাল ট্রেনের কোচে সিসিটিভি বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে ৭৫ হাজারের কাছাকাছি কোচে সিসি ক্যামেরা বসানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে রেলের। ট্রেনেট আসনের মাঝে যাতায়াতের পথকেও সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার কথা ভাবা হয়েছে। রেলের তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ‘সেন্টার ফর রেলওয়ে ইনফরমেশন সিস্টেম’ ওই কাজ করবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে এই কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে রেলের।

সম্পর্কিত খবর