সময় কাটাবেন সদ্যোজাত কন্যার সঙ্গে! হেলায় মোটা বেতনের চাকরি ছাড়লেন খড়গপুর IIT-র প্রাক্তনী

চাকরি, বিশেষত মোটা বেতনে চাকরির মায়া ছাড়া কি সহজ ব্যাপার ? কিন্ত বড় বেতনের সাথে আসে বড় দায়িত্ব। কাজের চাপ বাড়ে। চাকরির কারণে অনেকেই সন্তানসুখ উপভোগ করতে পারেননা। মোটা বেতনের চাকরির কারণে অনেকেই ঘরছাড়া থাকেন। কিন্ত সন্তান জন্মের পর দেরাদুনের বাসিন্দা অঙ্কিত জোশী যা করলেন তা কল্পনা অতীত।

মায়েরা সন্তানের সাথে সময় কাটানোর সুযোগ পেলেও কাজের চাপে থাকার জন্য বাবাদের সেই সুযোগ থাকেনা। কিন্তু হবে না বললেই তো আর হলোনা, সেই অসাধ্য সাধন করে দেখালেন অঙ্কিত জোশী। বাবা হওয়ার সুখের কারণে হেলায় ছাড়লেন মোটা বেতনের ভাইস প্রেসিডেন্টের চাকরি। নিজের কন্যা সন্তানের সাথে সময় কাটানোর জন্য দিয়েছেন তিনি।

   

আদতে তিনি IIT খড়গপুরের ছাত্র। কয়েক মাস আগে এক বেসরকারি কোম্পানিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে যোগ দেওয়ার সুবাদে তাকে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতে হতো। সেই কাজের জন্য নিজের সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে সময় দিতে পারেননি তিনি। চাকরি ছাড়া নিয়ে তিনি বলেন, “আমি জানি, এটা একটা অদ্ভুত সিদ্ধান্ত।”

অনেকেই অবশ্য এরকম সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাকে সাবধান হতে বলেন। কিন্তু এই সময় পাশে থাকেন তার স্ত্রী। আসলে ১ সপ্তাহের ছুটিতে মন ভরেনি তার। তিনি বলেন, ”সন্তানের সঙ্গে বাবার টানও কম নয়। কিন্তু, অভিভাবকত্ব ছুটি মাত্র এক সপ্তাহের জন্য পাওয়া যায়। বাবার ভূমিকাকে খাটো করে দেখা হয়। স্পীতি (অঙ্কিতের মেয়ে) জন্মানোর পর আমি একটা লম্বা ছুটি চেয়েছিলাম। আমি জানতাম ওই কোম্পানি আমাকে লম্বা ছুটি দেবে না। তাই আমি পিতৃত্বকেই বেছে নিই এবং চাকরিতে ইস্তফা দিই।”

মেয়ের নামকরণের ব্যাপারটাও বেশ মজার। সম্প্রতি অঙ্কিত এবং তার স্ত্রী আকাঙ্ক্ষা হিমাচল প্রদেশের স্পীতি বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেই জায়গা তাদের এতই ভালো লেগে যায় যে, জায়গার নাম থেকেই মেয়ের নামকরণ করেন তারা। মেয়েকে নিয়ে খুবই উচ্ছসিত তারা। মেয়ে সাথে প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছেন তারা।

ankit joshi hob 770x435

অঙ্কিত বলেন, “স্পীতি জন্মানোর সময় থেকেই আমার জীবনের সমস্ত কিছুই ওকে নিয়ে। রাতে বাহুতে তুলে দোল দিয়ে, ছড়া শুনিয়ে ঘুম পাড়ানো থেকে জাগিয়ে তোলা- প্রতিটি মুহূর্ত আমি ভীষণভাবে উপভোগ করছি।” প্রসঙ্গত ১ মাস সম্পূর্ন হয়েছে স্পীতির।

সম্পর্কিত খবর