প্যারাসুট থাকতেও করেননি ব্যবহার, ২৫০০ প্রাণ বাঁচাতে নিজেদের প্রাণ বলিদান দুই ভারতীয় পাইলটের

গত বৃহস্পতিবার এক মর্মান্তিক দূর্ঘটনার সম্মুখীন হয় দেশবাসী। রাজস্থানের বারমেরের ভিমরার কাছে ভেঙে পড়ে ফ্লাইং কফিন মিগ-২১ যুদ্ধবিমান। ঘটনাস্থলের চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিমানের ধ্বংসাবশেষ। তবে এর চেয়েও দুঃখের বিষয় হলো ফাইটার জেটের দুই পাইলট শহীদ হয়েছেন এই দূর্ঘটনায়।

মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, বিমানটিতে প্রথমে আগুন ধরে যায় এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিমানজুড়ে। এরপরই ভেঙে পড়ে বিমানটি। সংবাদ সংস্থা পিটিআই থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, বারমারের ভিমদা গ্রামে প্রায় ৫০০ মিটার জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে বিমানের ধ্বংসাবশেষ। এমনকি যে জায়গায় বিমানটি পড়েছে সেখানে মাটিতে প্রায় ১৫ ফুট গর্ত হয়ে গেছে। এমনকি বিষ্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিলো যে, আশেপাশের এলাকায় ৮-১০ কিঃমিঃ দূরের মানুষের কাছেও পৌঁছে ছিল সেই আওয়াজ।

যদি খালি জায়গায় না পড়ে বিমানটি আশেপাশের কোনো গ্রামের ওপরে পড়ত সেক্ষেত্রে প্রায় আড়াই হাজার মানুষের জীবন বিপন্ন হতে পারতো। আর চরম বিপদের মধ্যেও এই কথা মাথায় রেখে ঐ দুই পাইলট নিজেদের জীবনের বলিদান দিয়ে বিমানটিকে খালি জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

এই প্রসঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মাঝ আকাশেই আগুন ধরে যায় বিমানটিতে। এমতাবস্থায় বিমানটি যাতে আশেপাশের কোনো গ্রামের উপর না পড়ে তাই একটি বালুকাময় মাঠের উপর নিয়ে যায়। রিপোর্ট অনুযায়ী, উইং কমান্ডার মোহিত রানা এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট অদ্বিতীয় বল ছিলেন এই বিমানটির দায়িত্বে। এরপরই হঠাৎ করেই আগুন ধরে যায় বিমানটিতে।

চোখের সামনে বিপদ দেখে মুহুর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেন যে, বিমানটিকে কোনোভাবেই গ্রামের উপর ফেলা চলবেনা। সেই ভাবনাকে অনুসরণ করেই সেখান থেকে দুই কিলোমিটার দূরে উড়িয়ে নিয়ে যায় বিমানটিকে। পাশাপাশি মিডিয়া রিপোর্ট থেকে জানা গেছে বিমানের মধ্যে দুটি প্যারাসুট থাকলেও নিজেদের জীবন বাঁচাতে তার ব্যবহার করেননি তারা।

প্যারাসুট দুটিকে বন্ধ অবস্থাতেই পাওয়া গেছে, এর থেকে এটা স্পষ্ট যে, যাতে আশেপাশের কোনো গ্রামের উপর বিমানটি না পড়ে তাই নিজেদের জীবন বাজি রেখে যেভাবেই হোক সেটাকে দূরে খালি জায়গায় নিয়ে গেছিলেন তারা। হ্যাঁ তাঁরা নিজেরা শহীদ হয়েছে ঠিকই কিন্তু বাঁচিয়ে দিয়ে গেছে প্রায় ২৫০০ মানুষের প্রাণ।

তবে মর্মান্তিক এই দূর্ঘটনায় ভেঙে গেছে দুটি পরিবারই। ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট অদ্বিতীয় বলের মা’য়ের প্রায় মরমর অবস্থা। কৃতী সন্তানের এহেন মৃত্যুর খবর তাকে ভেঙে রেখে দিয়েছে। পাশাপাশি খবর প্রকাশ্যে আসতেই শোকের ছায়া নেমেছে দেশজুড়েও।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button