জলের তলা দিয়ে একসঙ্গে ছুটবে ট্রেন, গাড়ি! বিশ্বকে তাক লাগিয়ে ভারতে তৈরি হবে রোড-রেল টানেল

দেশের পরিকাঠামো ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব পরিবর্তন হয়েছে ২০১৪ সালের পর থেকে। মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে যেন এক নব ভারত (India) নির্মিত হয়েছে। দেশের পরিকাঠামো নির্মাণে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে কেন্দ্র। এমনকি সারা বিশ্বকে ভারত তাক লাগিয়ে দেয় দ্রুততম হাইওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। আর এবার আরো এক বিস্ময়কর স্থাপত্য গড়ে ওঠতে চলেছে চিন সীমান্তের কাছে ব্রহ্মপুত্র (Brahmaputra) নদীর ওপর।

এতদিন জলের ওপরে নানান ব্রিজ (Bridge) সহ হাওইয়ে তৈরী করার পর এবার লক্ষ্য মাটির গভীরে টানেল তৈরি করা। আর সেইরকমই প্রস্তাব এসেছে কেন্দ্রের থেকে। চিন সীমান্তের কাছে ব্রহ্মপুত্র নদের নিচে গড়ে উঠবে দেশের প্রথম ‘Underwater Road-Rail Tunnel’। কেন্দ্র সরকারকে ইতিমধ্যেই এব্যাপারে প্রস্তাব দিয়েছেন অসমের মূখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা।

   

জানা যাচ্ছে টানেল শুরু হবে নগাঁও এলাকা থেকে। এরপর সেখান থেকে প্রথমে কালিবর চা বাগান তারপর জামুগুড়ি পর্যন্ত ওই টানেল নির্মিত হবে। প্রায় ৭,০০০ কোটি টাকার নির্মাণ খরচ ধরা হয়েছে ওই টানেলের জন্য। একইসাথে রেল এবং রোড উভয়ের সুবিধা থাকবে সেখানে। ১০ কিমি লম্বা এই টানেল তৈরি করতে সরকার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধেছে মাত্র ২.৫ বছর। সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব বর্তেছে Border Road Organisation (BRO) এর ওপর।

আধুনিক কারিগরীতে তৈরী করা হবে ওই টানেল। সেখানে সমান্তরালভাবে রাখা হবে তিনটি পথ, প্রথমটি হবে রেলপথ এরপর থাকবে সড়ক পথ আর যেকোনো বিপদ অপদের জন্য একটি এমার্জেন্সি পথ রাখা হবে সেখানে। দেশের পথম এই Rail and Road Tunnel তৈরি হলে এবার উত্তর অসম, অরুণাচল প্রদেশ এবং তাওয়াং-এর মধ্যেকার যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি হবে।

দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে টানেল গড়তে রাজি হয়েছে কেন্দ্র সরকার। কিন্তু এক্ষুনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কিন্তু যেহেতু ওই এলাকার খুবই কাছে রয়েছে অরুণাচল প্রদেশ এবং চিনের সীমান্ত, এবং মাঝেমধ্যেই চিনের হানাদাররা এসে হানা দেয় সেখানে তাই এই দিকটাও মাথায় রাখছে সরকার। প্রসঙ্গত চিন তাদের ফিকের এলাকাতে ‘আণ্ডার ওয়াটার টানেল’ বানিয়েছে , এবার ভারত এই প্রজেক্ট সম্পন্ন করলে সেই টানেল চিনের চেয়েও লম্বা হওয়ায় যোগ্য প্রত্যুত্তর পাবে তারা।

brahmaputra tunnel1

জানা যাচ্ছে ওই টানেল তৈরি করার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। ভারী যানবাহন তো বটেই, চিনের লালফৌজ কোনো Miss Adventure করলে সেনাবাহিনীও যাতে সেখানে পৌঁছাতে পারে সেদিকেও খেয়াল রাখছে ভারত সরকার। জানা যাচ্ছে যাতে এই রাস্তায় সেনাবাহিনী অন্তত ৮০ কিমি বেগে গাড়ি ছোটাতে পারে সেইরকম ভাবেই নির্মাণ করে হবে এই টানেল। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের থেকে শুরু হতে পারে এই টানেলের কাজ।

সম্পর্কিত খবর