২০০ বছরের অত্যাচারের প্রতিশোধ! ইংরেজদের কয়েক লক্ষ কোটি টাকার লুঠের জবাব দিল ভারত

ভারত (India) আবারো পূর্ন উদ্যোগে জেগে উঠেছে। প্রায় ৮০০ বছরের বহিরাগত শাসন আর ২০০ বছরের ব্রিটিশদের অত্যাচারের পর অবশেষে ১৯৪৭ সালে ১০০০ বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয় ভারত। আর স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই নিজেদের হৃত গৌরব ফিরে পেতে চেষ্টা করেছে পবিত্র এই ভারতভূমি। কিন্তু ২০১৪ সালের পর থেকে ভারত যে পরিবর্তন দেখিয়েছে তা সারাবিশ্ব তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে বাধ্য হচ্ছে।

আজ যে ব্রিটেন ভারতকে ২০০ বছর পরাধীনতার অপমানে লজ্জিত করেছিল তাদের হেলায় হারিয়ে পঞ্চমস্থানে উঠে এসেছে। গত ত্রৈমাসিকের হিসেবে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিকে পিছনে ফেলে দিয়ে নিজের লক্ষ্যের দিকে দৃঢ় সংকল্পের সাথে এগিয়ে যাচ্ছে ভারত। বর্তমানে বিশ্বের অর্থনীতির নিরিখে আমেরিকা, চিন, জাপান ও জার্মানিপর পরই নিজের জায়গা করে নিয়েছি আমরা।

অর্থনীতির হিসাবে ব্রিটেন কে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়া ভারতের জন্য খুবই গর্বের বিষয়। ভারতকে যারা একসময় নিজেদের ক্ষমতার দাপটে দমিয়ে রাখতে চেয়েছিল তাদের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আবারো ঘুরে দাঁড়াচ্ছে নয়া ভারত। ২০০ বছর ধরে ব্রিটিশরা ভারতে নিজেদের রাজত্ব চালায়। আর এই সময়কালে সারা ভারত জুড়ে দেদার লুঠপাটও চালিয়েছে তারা। ভারতের গরিমা ক্ষুন্ন করে ব্রিটিশ শাসকরা। ইসলামি শাসনকালেও ভারতের অর্থনীতি যথেষ্ট সবল থাকলেও ব্রিটিশরা শুন্য করে দেয় আমাদের দেশ।

ধন সম্পত্তি তো বটেই, সাথে সাথে তারা নিয়ে গিয়েছে হিরে জহরত, কোহিনূর এর মত মহা মূল্যবান হীরে এমনকি বিভিন্ন স্থাপত্যও ভেঙে নিয়ে গিয়েছে তারা। তাই ব্রিটেনকে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে হারানোর পর প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন যে, যারা ২৫০ বছর ধরে আমাদের শাসন করে গিয়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে আমরা তাদের পিছনে ফেলে দিয়েছি। সমস্ত প্রকার লুণ্ঠন, বিপর্যয় কাটিয়ে আজ আমরা আবারো ঘুরে দাঁড়িয়েছি।

আজ ব্রিটেনকে যে রূপে দেখা যায় তা আসলে ভারতের অর্থের জোরেই দেখা যায়। যদিও ব্রিটিশরা মনে করে ভারত থেকে ব্রিটেন সেরকম কিছু লাভ করতে পারেনি, বরঞ্চ ব্রিটিশরা নিজেদের টাকায় ভারতকে শাসন করেছে। কিন্তু এবার বিশিষ্ট ভারতীয় অর্থনীতিবিদ উষা পট্টনায়েক ব্রিটিশদের সেই দাবীকে নস্যাৎ করে দিয়ে কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি প্রেসে একটি পেপার প্রকাশ করেছেন।

নিজের পেপারে উষা পট্টনায়েক ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনকালের তথ্য, কর ও বাণিজ্যের ছক বিশ্লেষণ করেছেন। সেখান থেকে জানা যাচ্ছে যে, ১৭৬৫ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশরা প্রায় ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি টাকা ভারত থেকে নিয়ে নিজেদের পকেটে পুরেছে। আজ ব্রিটেনের যা অর্থনৈতিক সক্ষমতা তার থেকে অন্তত ১০ থেকে ১২ গুণ বেশি এই সংখ্যাটা। কিন্তু কীভাবে ভারত থেকে ব্রিটেনে অর্থ পাচার হয়েছে সেটাই খুব ইন্টারেস্টিং।

ব্রিটিশরা এক্ষেত্রে বেশ ঘুরিয়ে লুটেছে ভারতকে। ব্রিটিশরা এদেশ থেকে ৩৭৮০ লক্ষ কোটি টাকা লুঠ করেছে, তার সবটাই হয়েছে বাণিজ্য পদ্ধতির মাধ্যমে। উষা পট্টনায়েক তার পেপারে জানিয়েছেন যে, ভারতে ব্রিটিশদের ঔপনিবেশিক শাসনের আগে ব্রিটেন ভারতীয়দের থেকে বস্ত্র ও চাল আমদানি করতো। সেসময় রুপোর বিনিময়ে এই আদান প্রদান চলতো। এই প্রথায় প্রথম পরিবর্তন আসে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনকালে।

১৭৬৫ সাল থেকে আসলে রাজস্ব আদায়ে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। ভারত থেকে তখন রাজস্ব আদায় শুরু করেছে ব্রিটিশরা। শুরুর দিকে তারা যে রাজস্ব আদায় করতো সেই টাকা দিয়েই ভারতীয় পন্য কিনে নিয়ে যেত। এদিকে ভারতীয়রা এই চুরির ব্যবসা বুঝতে পারেনি। তারপর থেকে ব্রিটেনের হানাদারদের থেকে পরপর আক্রমণ ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল ভারতীয় অর্থনীতিকে।

modi india britain

কিন্তু আজ স্বাধীনতার ৭৫ বছরে স্বৈরাচারী শাসকদের পিছনে ফেলে দিয়ে নিজেকে আবারো বিশ্বের আঙিনায় প্রতিষ্ঠা করেছে ভারতবর্ষ। যে দেশ আমাদের ওপর এত আক্রমণ করেছে তাদের হারিয়ে বড় হয়ে ওঠার চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে। সেইসাথে আজ নিস্তব্ধ থেকেও ভারত যোগ্য প্রত্যুত্তর দিয়েছে ব্রিটেনকে। যদিও এখনো অনেক যাওয়া বাকি, অনেক পথচলা বাকি কিন্তু শুরুতেই যদি স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীকে হারিয়ে পথচলা শুরু হয় তার থেকে ভালো আর কিইবা হতে পারে।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button