ভারতের একমাত্র রেল স্টেশন যার দায়ভার ভারতীয় রেলের নয়, চলে সৈন্যদের গ্রামের টাকায়

আমাদের দেশের প্রতিটি রেলস্টেশন (Train Station) ইন্ডিয়ান রেলওয়ের (Indian Railways) অধীনে। প্রতিটি রেল স্টেশনের লাভ-ক্ষতির সম্পর্কিত যাবতীয় খরচ ইন্ডিয়ান রেলের অ্যাকাউন্টে যায়। এমতাবস্থায় কোন রেল চালু থাকবে কোন রেল বন্ধ হবে সেই সিদ্ধান্ত নেয় স্বয়ং ইন্ডিয়ান রেলওয়ে। কিন্তু জেনে অবাক হবেন যে ভারতে এমন এক রেল স্টেশন রয়েছে যার কোনো দায়িত্বই ইন্ডিয়ান রেলওয়ের নয়। দেশের এই একটি স্টেশন ছাড়া বাকি সমস্ত স্টেশনের দায়ভার বহন করে ইন্ডিয়ান রেলওয়ে। আজ এই প্রতিবেদনে আমরা জানাবো এই স্টেশনের নেপথ্য কাহিনী।

জানিয়ে রাখি আমাদের দেশের এই রেল স্টেশনটি ইন্ডিয়ান রেলওয়ের বদলে একটি গ্রামের মানুষ চালায়। রাজস্থানের নগৌর জেলার অন্তর্গত জলসু নানক হল্ট রেলওয়ে স্টেশনটি দেশের একমাত্র স্টেশন, যেটি গ্রামবাসীদের দ্বারা সংগৃহীত অনুদানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এখানকার গ্রামবাসীরা ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই রেলস্টেশনটির যত্ন নিচ্ছেন। এছাড়া এখানকার টিকিট কালেক্টরও এই গ্রামবাসীদের একজন।

তবে সম্প্রতি গ্রামবাসীরা এই দায়ভার থেকে মুক্তি চেয়ে রেল কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, একসময় যে রেল স্টেশনটি ব্যাপক লোকসানের কারণে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিলো বর্তমান দিনে এই স্টেশনটি থেকেই প্রায় ৩০ হাজার টাকার মুনাফা আসে। আর এই গোটাটাই সম্ভব হয়েছে এখানকার বাসিন্দাদের সহোযোগিতায়।

আসলে, রেলের নিয়ম অনুযায়ী ব্যাপক লোকসানের কারণে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে যোধপুর রেল বিভাগের অন্তর্ভুক্ত এই স্টেশনটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিলো। এমতাবস্থায় ২০০৫ সালে জলসু নানক হল্ট স্টেশন বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর হয় রেল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু গ্রামবাসীদের কাছে এই সিদ্ধান্ত মোটেও গ্রহণযোগ্য ছিলোনা। ফলে প্রতিবাদস্বরূপ তারা ১১ দিন ধরে ধর্ণা দেন। এমতাবস্থায় রেল কর্তৃপক্ষ জানায় তারা একটি শর্তেই স্টেশন বন্ধ করবেনা।

কর্তৃপক্ষ জানায়, এই স্টেশনের যাবতীয় দায়ভার গ্রামবাসীকেই নিতে হবে, ভবিষ্যতে ইন্ডিয়ান রেল এতে হস্তক্ষেপ করবেনা এবং এর পাশাপাশি দৈনিক নূন্যতম ৫০টি হিসেবে মাসে ১৫০০টি টিকিট বিক্রি করতে হবে। গ্রামবাসীরা তাদের স্টেশন বাঁচাতে যে কোনও কিছু করতে প্রস্তুত ছিল, তাই তারা রেলের এই শর্ত মেনে নিয়ে নিজেদের দায়িত্বে এই স্টেশনটি চালাতে শুরু করে। এই স্টেশনটি চালানোর জন্য গ্রামের প্রতিটি বাড়ি থেকে অনুদানও সংগ্রহ করেন গ্রামবাসীরা। এরপর ১৫০০টি টিকিটও দেড় লাখ টাকায় কেনা হয় এবং বাকি টাকা সুদ হিসেবে বিনিয়োগ করা হয়। টিকিট বিক্রির জন্য গ্রামবাসীরা তাদেরই একজনকে ৫০০০ টাকা বেতনে টিকিট সংগ্রাহকের চাকরিতে নিয়োগও করেন।

jalsu nanak

শুরুতে বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হলেও বর্তমানে এখানে ১০টিরও বেশি ট্রেন থামে। এই গ্রামের আরও একটি বিশেষ ব্যাপার হল এই যে, গ্রামটি আসলে সৈন্যদের গ্রাম। শোনা যায় এখানে প্রতিটি বাড়িতে একজন করে সৈনিক আছে। আজকের দিনে এই গ্রামের প্রায় ২০০ জনের বেশি মানুষ, সেনাবাহিনী, বিএসএফ, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং সিআরপিএফ-এর মতো মর্যাদাপূর্ণ শাখায় নিযুক্ত রয়েছে। এছাড়া এখানে আড়াই শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা রয়েছে। এই সৈন্যদের সুবিধার জন্য ১৯৭৬ সালে অর্থাৎ প্রায় ৪৫ বছর আগে রেলওয়ে এখানে হল্ট স্টেশন চালু করে।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button