বড় ঝটকা খেলেন আদানি, একরাতে খোয়া গেল ৫৬,২৬২ কোটি টাকা! চরম ক্ষতির মুখে আম্বানিও

ভারত (India) এবং এশিয়ার সবচেয়ে ধনীতম ব্যক্তি গৌতম আদানির (Gautam Adani) সম্পদ এ বছর বেড়েছে রকেট এর গতিতে। একসময় অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও এখন তিনি বিশ্বের ধনীদের তালিকায় অনেক এগিয়ে গেছেন। দেশের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির তকমা রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির (Mukesh Ambani) থেকে ছিনিয়ে নিয়ে নিজের নামে করছেন গৌতম আদানি। কিন্তু এবার আদানির জয়ের রথে বাধা পড়েছে।

গোটা বিশ্বই এখন সংকটজনক অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। আর তারই মধ্যে আমেরিকার শেয়ার বাজারে আসা টর্নেডোর মূল্য চোকাতে হচ্ছে বিশ্বের সমস্ত বিলিয়নিয়ারদের। রাতারাতি সম্পদ কমেছে শীর্ষ ৭০ বিলিয়নিয়ারের। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি ইলন মাস্কের (Elon Musk) ওপর। আর বিশ্বজুড়ে চলা এই সমস্যার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ভারতীয় বিলিয়নিয়াররাও। আদানি থেকে আম্বানি সবাই বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

   

কার কত সম্পদ কমেছে : সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন টেসলা কোম্পানির মালিক এবং বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি ইলন মাস্ক। লেটেস্ট ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার ইনডেক্স অনুযায়ী, ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ একধাক্কায় ডলার কমে গিয়েছে ৯.০৩ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ ২৪৫ বিলিয়ন ডলার। একইসময়ে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছেন আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি। একেবারে ৫৬,২৬২ কোটি টাকা বা ৬.৯১ বিলিয়ন ডলারের ধাক্কা খেয়েছেন তিনি।

এক ধাক্কায় এতটা সম্পদ খোয়ানোর কারণে ধনীদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে নেমে গিয়েছেন তিনি। বর্তমানে আদানির মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩৫ বিলিয়ন ডলার। তৃতীয় স্থানে থাকা জেফ বেজস ১.৩৬ বিলিয়ন ডলার হারিয়ে রয়েছেন ১৩৮ বিলিয়ন ডলারে। আপাতত আদনিকে হারিয়ে নিজের হৃত স্থান পুনরুদ্ধার করেছেন আমাজনের সিইও।

এদিকে এক ধাক্কায় ২.৮৩ বিলিয়ন ডলার খোয়া যাওয়ার কারণে প্রথম দশ থেকে ছিটকে গিয়েছেন মুকেশ আম্বানি। বর্তমানে ৮২.৪ বিলিয়ন ডলার সম্পদের সাথে ১১ তম ধনী ব্যক্তি হয়েছেন তিনি। তবে এই প্রথম নয়, এই বছর মোট ৭.৬০ বিলিয়ন ডলার সম্পদ কমেছে তার। একটা সময় তিনি বিশ্বের চতুর্থ ধনী থাকলেও আজ তিনি প্রথম দশের তালিকার বাইরে হয়ে গিয়েছেন।

mukesh ambani sad

পতনের কারণ: বিলিয়নেয়ারদের সম্পদ কমে যাওয়ার মূখ্য কারণ হলো আমেরিকাতে শেয়ারবাজারের বিপর্যয়। সেদেশের ফেড রিজার্ভ সুদের হার বৃদ্ধি করায় এবং ভবিষ্যত সম্পর্কে খারাপ ইঙ্গিত দেওয়ার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আর আদানি গ্রুপের বিভিন্ন শেয়ার খারাপ পারফর্ম করায় এই অবস্থা হয়।

সম্পর্কিত খবর