পান বিক্রেতা হয়ে পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর পরিচয় দিয়ে বিয়ে, ধরা পড়ে খেলেন প্যাঁদানি

ডেস্কঃ বর্তমানে সরকারি চাকুরীরত পাত্রের চাহিদা রয়েছে আকাশছোঁয়া। এরই সুযোগ নিচ্ছেন অনেক অসাধু মানুষ। তেমনই একজনের খোঁজ মিলল পড়শি দেশ বাংলাদেশে। জানা যাচ্ছে ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের বালিয়াকান্দি উপজেলায়। ধৃতের নাম উৎপল মন্ডল। পুলিশের এসআই পরিচয়ে এক কলেজ ছাত্রীর সাথে প্রেম করে সে। এবং পরবর্তীকালে বিয়েও করেন তিনি। এরপর প্রমোশনের কথা জানিয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে হাতিয়ে নেন প্রায় দুই লক্ষ টাকা।

তবে এরপরই জানা যায় আর সত্যতা আর মেলে গণধোলাই । আপাতত শ্বশুরবাড়ির লোকের কাছে গণধোলাই খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি তিনি। প্রতারণার শিকার হওয়া ওই ছাত্রী ফরিদপুরের রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষে পড়েন। তার বাড়ি বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়ন এলাকায়।

প্রতারক উৎপলেরও মেলে খোঁজ। তার বাবার নাম জানা গেছে নিরাপদ মণ্ডল। তরুণীর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করলে জানা যায় যে, তাদের পরিচয় হয় মোবাইলের দ্বারা। উৎপল নিজের পরিচয় গোপন করে নিজের নাম জানায় প্রসেনজিৎ। সে নিজেকে পুলিশের SI বলেও জানায়। এরপরই দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়েও করেন তারা। ছেলে পুলিশের SI শুনে বাধা দেননি তারাও।

সন্দেহের শুরু হয় যখন উৎপল তার বাড়ি মাগুরায় বললেও নিয়ে জাননি কাওকেই। জিজ্ঞেস করলে বলেন, এখন তাদের বাড়িতে যাওয়া যাবে না। গেলে সমস্যা হবে। চাইলে শুধু দেখে আসতে পারে।কিছুদিন আগে চাকরির প্রমোশনের কথা বলে উৎপল শ্বশুরবাড়ি থেকে হাতিয়ে নেয় দুই লাখ টাকা। তবে এরপর উৎপলের কথাবার্তায় বাড়তে থাকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকের সন্দেহ। শুক্রবার তাকে নানান রকম জেরার পর সে জানায় যে, সে আসলে একজন পান বিক্রেতা এবং তার তার নাম প্রসেনজিৎ নয় উৎপল। এরপরই তাকে গণধোলাই দিয়ে হাসপাতাল পৌঁছে থানাতে দায়ের করা হয় কেস।

এরপরই জানা যায় বাকি সমস্ত ঘটনা। নবাবপুর ইউপি চেয়ারম্যান বাদশা আলমগীর জানান, উৎপল কলেজছাত্রীর পরিবারের কাছে যে ঠিকানা দিয়েছিল সেখানে সত্যিই প্রসেনজিৎ নামের একজন পুলিশকর্মীর বাড়ি। তারই বাড়িঘর দেখিয়ে প্রতারণা করে উৎপল। শুধু এই নয় একইভাবে মাদারীপুরেও এক তরুণীকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে বিয়ে করেছে উৎপল। তাদের কাছ থেকেও বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। মাদারীপুর থানাতেও উৎপলের বিরুদ্ধে চলেছে প্রতারণা মামলা ।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button