ভুলে যান দিঘা, মন্দারমণি! কলকাতার কাছেই রয়েছে নির্জন সমুদ্র সৈকত! ফিরতে চাইবেন না

শীত (Winter) আসছে। আর শীত আসা মানেই হল অনেকের অনেক রকম প্ল্যান। শীত এলেই মানুষ ছুটি কাটানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের জায়গার পরিকল্পনা করতে শুরু করে দেন। কিছু মানুষ আছেন যারা পাহাড় (Hill), জঙ্গল (Jungle) ভালোবাসেন। তো আবার কিছু মানুষ এমন রয়েছেন যারা একটু সমুদ্র (Sea) ভালোবাসেন।

khejuri

   

যারা পাহাড় ভালোবাসেন তারা হিমাচল, উত্তরাখণ্ড, দার্জিলিং, সিকিমের দিকে ঝুঁকে পড়েন। আবার কেউ কেউ সমুদ্রের ঢেউয়ের প্রতি বেশি যারা আকৃষ্ট হন। তাঁরা ভারতের কিছু সি বিচ বা সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগেন। আপনিও যদি এই শীতকালে কোনও সমুদ্র সৈকতে গিয়ে কয়েকটা দিন একটি নিরিবিলিতে কাটাতে চান তাহলে এই প্রতিবেদনটি রইল শুধুমাত্র আপনার জন্য।

আপনিও যদি বাঙালি হয়ে থাকেন তাহলে দিঘা (Digha), পুরী (Puri) তো গিয়ে থাকবেন নিশ্চয়ই। তবে এই শীতেও কি আপনি কি কোনও সমুদ্র সৈকতে যেতে ইচ্ছুক? অথচ ভিড় ভাট্টা চান না? তাহলে এই বছর আপনার ডেস্টিনেশন হিসেবে বেছে নিতে পারেন খেজুরি সমুদ্র সৈকত (Khejuri Sea Beach)। দিঘা তো অনেকবার গিয়েছেন নিশ্চয়ই, কিন্তু সেখানকার ভিড় যে কাউকে বিরক্ত করে দিতে পারে।

তবে আপনি যদি কোনও নতুন সমুদ্র সৈকতের খোঁজ করে থাকেন তাহলে এই খেজুরি সৈকত একদম আপনা জন্য পারফেক্ট স্পট। এখানে গেলে আপনি আর ফিরে আসতে চাইবেন না। এখানকার পরিবেশ দেখে আপনি প্রেমে পড়ে যাবেন। সমুদ্র সৈকতে ঘোরার পাশাপাশি এখানে থাকা প্রথম ডাকঘর, রাজা রামমোহন রায়, প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত জায়গাগুলো ঘুরে নিতে পারবেন।

এই খেজুরিতে এলে আপনি হুগলি নদীর মোহনা দেখতে পাবেন। এর পাশাপাশি এখানে রয়েছে হিজলী শরীফ, প্রাচীন ডাকঘরের ধ্বংসাবশেষ দেখে আসতে পারেন, এছাড়া অন্যতম আকর্ষণ কপালকুণ্ডলা মন্দির দেখে আসতে পারেন। এছাড়া এখানে রয়েছে একটি প্রাচীন লাইট হাউস। এখানে থাকা ডাকগর বহু পুরনো। ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ বণিকদের ইন্ডিয়া কোম্পানির খবর আদান প্রদানের জন্য খেজুরিতে প্রথম ডাকঘর স্থাপন হয়।  বলা হয়, ১৮৩০ সালের ১৯ নভেম্বর রাজা রামমোহন রায় এই ডাকঘরে নাকি রাত্রি যাপন করেছিলেন। ফলে আপনিও যদি কোনওদিন খেজুরি যান তাহলে এই ডাকঘরে যেতে কিন্তু ভুলবেন না।

khejuri dakghar

এখন নিশ্চয়ই ভাবছেন এখানে যাবেন কীভাবে? তাহলে আপনাদের জানিয়ে রাখি, কলকাতা থেকে খেজুরির দূরত্ব মাত্র ১৩০ কিলোমিটার। কলকাতা বা হাওড়া থেকে সরাসরি বাসে করে আসা যায় এখানে। এছাড়া দিঘা হাওড়া রেল লাইনে লোকাল ট্রেনে হেঁড়িয়া স্টেশনে নেমে বাস ধরে খেজুরি আসা যায়।

সম্পর্কিত খবর