ভারতের এই গ্রামেই ওঠে সবার আগে সূর্য, একবার গেলে ফিরে আসতে চাইবেন না

ভারত একটি বৈচিত্র্যময় দেশ। এখানে এমন কোনো জিনিস বা জায়গা নেই যা আপনি দেখতে পাবেন না। এখানকার আবহাওয়া, মানুষজন সকলের ট্যেকে আলাদা করে। বিশেষ করে ভ্রমণের ক্ষেত্রে। অনেকেই আছেন যারা ভারত থেকে বিদেশে ঘুরতে যান, আবার অনেকেই আছেন যারা বিদেশ থেকে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে আসেন পর্যটকরা।

এদিকে বর্তমানে যত সময় এগোচ্ছে ততই আরো নানাভাবে সেজে উঠছে পর্যটনস্থলগুলো। তাছাড়া এখানে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় এক নয়। কিন্তু আপনি কি জানেন ভারতের কোথায় প্রথম সূর্যোদয় হয়? প্রশ্নটা শুনে চমকে গেলেন তো? তাহলে উত্তর জানলেও হয়তো আপনি আকাশ থেকে পড়বেন।

   

এই জায়গাটি এমন এক রাজ্যে রয়েছে যার নাম হয়তো সকলেই জানেন। কিন্তু গ্রামের নামটি হয়তো কেউই জানেন না। তাহলে আসুন আপনিও এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে জেনে নিন কোন গ্রামে প্রথম সূর্য ওঠে। একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালে অরুণাচল প্রদেশে ডং নামে একটি জায়গা আবিষ্কৃত হয়েছিল, যা দেখিয়েছিল যে দেশের প্রথম সূর্যোদয় এই ডং গ্রামে। এমনই দাবি করা হয়েছিল।

dong

প্রথমে সূর্যোদয় হয় অরুণাচল প্রদেশে। এটা বিশ্বাস করা হয় যে এই রাজ্যের নামের মধ্যে সূর্যের অনেক স্বীকৃতি রয়েছে। অন্তত সেখানকার মানুষজন এই তত্ত্বে বিশ্বাসী। আসলে অরুণাচলের অর্থ ‘সূর্যের জেনিথ’। ডং অরুণাচল প্রদেশের এক উপত্যকায় অবস্থিত একটি সুন্দর গ্রাম। এই ডং গ্রামে প্রথম সূর্যোদয় হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে এখানে ভোর চারটে নাগাদ সূর্যোদয় হয় এবং বিকেল ৪টার মধ্যে সূর্যাস্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়। আনজাও জেলার এই পূর্বাঞ্চলীয় গ্রামটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১২৪০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। গ্রামটি নিজেই নিজের একটা আলাদা গল্প বলে যেন। যারা এখানে গেছেন তাঁরাই বুঝবেন এই অরুণাচল প্রদেশ ও ডং গ্রামের মাহাত্ম্য।

এই স্থানটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যও পরিচিত। যারা ঘুরতে ভালোবাসেন এবং বিশেষ করে ফটোগ্রাফি করতে পছন্দ করেন তাঁদের কাছে এই জায়গা স্বর্গের থেকে কিছু কম না। এটি ভারত, মায়ানমার এবং চীনের ত্রিদেশীয় সংযোগস্থলের মধ্যে তিনটি দেশ দ্বারা বেষ্টিত। ট্রেকিংয়ের জন্য এই জায়গাটি আদর্শ। এছাড়া আপনিও যদি একটু অফবিট জায়গায় ঘুরতে পছন্দ করে থাকেন তাহলে তো আর কথাই নেই, এখানে এলে জায়গাটির প্রেমে পড়ে যাবেন।

অরুণাচলের ডং-এ পৌঁছতে হলে আপনাকে প্রথমে যেতে হবে ডিব্রুগড়। এরপর অরুণাচলে পৌঁছে উয়ালং পৌঁছাতে হবে। ওয়ালং হল ট্রেকিংয়ের মূল পয়েন্ট, এখান থেকে আপনার ডং ভ্যালিতে পৌঁছাতে ৯০ মিনিট সময় লাগবে। সূর্যোদয়ের স্থানে যেতে হলে রাত ২টা থেকে হাঁটা শুরু করতে হবে। ট্রেকটি কিছুটা জটিল, তবে সুন্দর দৃশ্য এবং সবুজ তৃণভূমি আপনার সমস্ত ক্লান্তি দূর করে দেবে শরীর থেকে।

অরুণাচল প্রদেশ একটি সীমাবদ্ধ এলাকা, এবং রাজ্যটি ঘুরে দেখার জন্য একটি পারমিটের প্রয়োজন। আপনি অরুণাচল আইএলপি ওয়েবসাইটে গিয়ে পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারেন। পারমিট পেলে অরুণাচলের এই জায়গা ও অন্যান্য জায়গা ঘুরে আসতে পারেন। ক্যাম্পিং-এর শৌখিন হয়ে থাকলে তাহলে আপনি লোহিত নদীর পাড়ে ক্যাম্প করতে পারেন। তাহলে আর দেরি করছেন কেন? আজই প্লেন বা ট্রেনের টিকিট কাটুন আর ঘুরে আসুন ডং উপত্যকা থেকে।

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর