বাবার সঙ্গে চায়ের দোকানে কাজ, ছিল না পড়ার টাকা! বহু সংগ্রাম করে আজ সফল IAS অফিসার

বিশ্বের অনেক মানুষ পরিস্থিতির কারণে তাদের জীবনের লক্ষ্য অর্জন করতে অক্ষম। একই সাথে, কিছু লোক আছে যারা কঠোর পরিশ্রম করে এবং তাদের বাধা বিপত্তিকে হারিয়ে জয় হাসিল করেছে। সাফল্যের শীর্ষস্তরে পৌঁছতে নেই কোনও শর্টকার্ট। আর সেই প্রতিযোগিতার নাম যদি হয় UPSC, তাহলে প্রস্তুতির জন্য পরিশ্রম ঠিক কতটা হতে হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে কি? সাফল্য পেতে পরিশ্রমের কোনও বিকল্প নেই, তা আবারও প্রমাণ করলেন বরেলির হিমাংশু গুপ্ত।

উত্তরপ্রদেশের একটি খুব ছোট গ্রামে বসবাস করেন হিমাংশু। হিমাংশুর লক্ষ্য ছিলো IAS হওয়া। তাই তিনি UPSC এর জন্য প্রস্তুতি শুরু করেন। তিনি ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় তিনবার চেষ্টা করেছিলেন। প্রথম প্রচেষ্টায় তিনি শুধুমাত্র IRTS-এর জন্য নির্বাচিত হন। তিনি তার প্রস্তুতি চালিয়ে যান এবং 2019 ইউপিএসসি পরীক্ষায় আইপিএস হন। এরপর তৃতীয়বার তিনি নিজের স্বপ্নের (IAS) এর জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হন।

হিমাংশু যখন ছোট ছিল তখন তার বাবা ছিলেন একজন দিনমজুর। তার শৈশব কেটেছে অত্যন্ত দারিদ্রের মধ্যে। বাবা একটি চায়ের দোকান খোলেন। হিমাংশু স্কুল শেষে এই চায়ের স্টলে বাবাকে সাহায্য করতেন। ছোটোবেলা থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী ছিল সে। হিমাংশু তার দ্বাদশ শ্রেণি শেষ হলে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। টিউশনি করে, পেইড ব্লগ লিখে এবং স্কলারশিপের জন্য আবেদন করে তিনি তার ফি পরিশোধ করতেন সেই সময়। স্নাতক শেষ হলে তিনি IAS কে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে ভেবে নেন। বাবার চায়ের দোকানে বসেই চলতে লাগলো পড়াশোনা। এবং শেষমেষ তিনবারের প্রচেষ্টায় নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করেই ফেলেন। আজ সমস্ত ভারতবাসীর গর্ব তিনি।

হিমাংশু UPSC পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত সমস্ত ছাত্রদের জন্য বলেছেন যে UPSC পরীক্ষা পাস করার জন্য কোনও প্রার্থীর কোনও বড় শহরে পড়াশোনা করার দরকার নেই। কোচিংয়ের সুবিধা না থাকলেও ঘাবড়ানোর কিছু নেই। ইন্টারনেটের দৌলতে হাতের কাছে সবকিছু। প্রয়োজনমতো সদ্ব্যবহার করে প্রিলিমিনারি থেকে ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে। শুধু দরকার সঠিক পরিকল্পনা।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button