পাকিস্তানে এয়ারস্ট্রাইক করতে পারে ড্রাগন! তড়িঘড়ি চীনের দূতাবাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

কলকাতাঃ একের পর এক হামলায় কেঁপে উঠছে পাকিস্তান। পরপর জঙ্গি হামলায় অচলাবস্থা সারা পাকিস্তান জুড়ে। তবে এদিন হামলার কেন্দ্রস্থল ছিল করাচি বিশ্ববিদ্যালয়। এই মুহূর্তে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অবস্থাও তথৈবচ। এরই মধ্যে আতংকবাদীদের বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে করাচি বিশ্ববিদ্যালয়। এতে আবার তিন চিনা নাগরিকের মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার পর অনেক বিশেষজ্ঞরা বলতে শুরু করেছেন যে, পাকিস্তানের তৈরি করা বিষে সবথেকে বেশী আহত হচ্ছে পাকিস্তানই।

বর্তমানে সারা পৃথিবীতে কার্যত একঘরে হয়ে পড়েছে পাকিস্তান। একমাত্র ভরসা ড্রাগনের দেশ চীন। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে যেভাবে একের পর এক চিনা নাগরিকদের হামলার শিকার হতে হচ্ছে, তাতে এবার হয়তো পাকিস্তানের কাছ থেকে সেই ঘুঁটিও যেতে বসেছে। করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ঙ্কর হামলায় মৃত্যু হয় মোট ৪ জনের। এদের মধ্যে তিনজন চীনা নাগরিক বলে জানা যাচ্ছে। এই ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই সেখানে এসে পৌছায় বিরাট সংখ্যায় পুলিশ এবং সেনাবাহিনী। কিন্তু একের পর এক চিনা নাগরিকদের ওপর হামলার কারণে এবার নড়ে বসেছে চীন সরকার। জানা যাচ্ছে পাকিস্তানের ওপর হতে পারে এয়ার স্ট্রাইক। খবর পাওয়া মাত্র নড়েচড়ে বসে পাকিস্তানি সরকার।

যদিও গত মঙ্গলবার সেই ভয়ংকর হামলার পরই পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ পাকিস্তানের চিনা দূতাবাসে গিয়ে পৌঁছে সেখান থেকে বার্তা দেন যে, দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্ত অভিজ্ঞ মহলের ধারণা চিন সরকারের ক্রোধ কমানোর জন্যই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। সেই একই সময়ে চীনের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান যে, “করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বিস্ফোরণ এবং এর ফলে তিন চীনা নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনার আমরা নিন্দা করছি। তবে এই ঘটনার কারণে পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব কখনোই নষ্ট হবে না।” এছাড়া এই ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন রাষ্ট্রসংঘে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধিও।কিন্তু এসকলের ঊর্ধ্বে উঠে যায় চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা গ্লোবাল টাইমস।

গ্লোবাল টাইমসকে অনেকে চীন সরকারের নিজেরই ভাষা বলে মনে করা হয়। অনেক সময় সরাসরি না লিখে তারা গ্লোবাল টাইমস এর দ্বারা হুমকি দেয় বিপক্ষকে। এদিন গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদক হু জিজিন লিখেন যে, “গতকালের ঘটনায় বালোচ লিবারেশন আর্মি হামলার দায় স্বীকার করেছে। যদি পাকিস্তান সরকার অনুমতি দেয়, তবে এই সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে সরাসরি এয়ার স্ট্রাইক চালাতে আমি চীনা সামরিক বাহিনীকে সমর্থন করছি।”

প্রসঙ্গত হু জিজিন চিন সরকারের কেও না হলেও তিনি চিনা কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম গুরুত্বপূর্ন সদস্য হওয়ায় তার মন্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে। অনেকের মতে গ্লোবাল টাইমস এর দ্বারা চিন সরকার পাকিস্তানকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তাদের নাগরিকদের যদি পাকিস্তান নিরাপত্তা দিতে না পারে তাহলে পাকিস্তানের ওপর এয়ার স্ট্রাইক করতে তারা বাধ্য থাকবে। এবং নিজেদের নাগরিকদের জন্য এই হামলা করা চিনা সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button