ক্যান্সার আক্রান্ত শিক্ষিকার বেতন কেটে নিয়েছিলেন প্রধান শিক্ষক, নজিরবিহীন শিক্ষা দেয় হাইকোর্টও

আবারো অমানবিকতার অভিযোগ উঠল স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত এক শিক্ষিকার মোট ১২ দিনের বেতন কেটে নেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এবার সেই ঘটনার ভিত্তিতে অভিযোগ দায়ের করা হলে, হাইকোর্টের নির্দেশে কেড়ে নেওয়া হয় তার প্রধান শিক্ষকের পদ। শুধু তাই নয় বর্তমানে শুধু প্রধান শিক্ষকের পদ কেড়ে নেওয়া হলেও ভবিষ্যতে যে তার শিক্ষকতার চাকরিও খোয়া যেতে পারে এমনটাই নির্দেশ হাইকোর্টের বিচারতির।

আসলে ঘটনাটি হুগলির ভদ্রেশ্বর এলাকার। ঘটনাটি ঘটে সেখানেরই মহাত্মা গান্ধী বিদ্যাপীঠের ভূগোলের শিক্ষিকা সুনীতা শর্মার সাথে। হঠাতই তার ধরা পড়ে ক্যান্সার, আর এইজন্য তাকে চিকিৎসা করতে যেতে হতো সুদূর ভেলোরে, সেখানে গিয়ে কেমোথেরাপি করাতেন তিনি। অভিযোগ এই কারণে ১২ দিনের ছুটির আবেদন করলেও, ছুটি দিতে অস্বীকার করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এবং ১২ দিন ছুটি নেওয়ার কারণে তার বেতন থেকে কেটে নেওয়া হয় ৮৮৫০ টাকা।

শুধু তাই নয়, তিনি আরো বলেন, “এর আগেও আমি বহুবার এরকম ব্যবহারের শিকার হয়েছি। অতীতেও আমার প্রতি বিরূপ মনোভাব দেখিয়েছেন প্রধান শিক্ষক , সেই কারণেই ২০১৯ সালে আমার বেতনের বৃদ্ধিও করেননি তিনি।”

এবার এইসকল অভিযোগকে ভিত্তি করেই প্রধান শিক্ষক অজয় কুমার যাদবের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন নির্যাতিতা সুনীতা দেবী। এরপর এই মামলাটি যায় বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বেঞ্চে এবং শুনানি চলাকালীন এই ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে। এবং এরপরই তার প্রধান শিক্ষকের পদ কেড়ে নিতে নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। কড়া সুরে এও জানান যে, যেতে পারে শিক্ষকতার চাকরিও।

এদিকে সুনীতা দেবীর হয়ে মামলায় নাম আইনজীবী রণজিৎ চট্টোপাধ্যায় জানান যে, “অসুস্থতার কারণে সব মিলিয়ে মোট ৪৮৫ দিনের ছুটির বেতন পাননি সুনীতা দেবী। এবার সেই প্রাপ্য বেতন মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ এদিন দিয়েছেন বিচারপতি। এদিন এই রায়ে আমরা সবাই খুব খুশি।”

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button