পাত্তা পাবেনা বলিউড, বাঙালির গরিমা বঙ্কিমচন্দ্রের ‘আনন্দমঠ’ নিয়ে সিনেমা হচ্ছে সাউথে

ভারতীয় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির দখলের জন্য বলিউডকে (Bollywood) বহু পিছনে ফেলে দিয়ে এগিয়ে গিয়েছে দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রি। একদিকে যেখানে বলিউডকে মানুষ বয়কট করে চলেছে, তেমনই অন্যদিকে দক্ষিণী ছবিগুলি দেখার জন্য এতটাই ভিড় জমেছে যে, সিনেমা হলের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রির নব সূর্যোদয়ের কারণে তারা একের পর এক চমক নিয়ে এসেছে দর্শকদের জন্য। এবার আসতে চলেছে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের (Bankim Chandra Chatterjee) উপন্যাস আনন্দমঠ (Ananda Math) অনুকরণে সিনেমা।

সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিচন্দ্রের তৈরি করা এক অমর উপন্যাস আনন্দমঠ। আর বাঙালির গর্বের সেই ‘আনন্দমঠ’ নিয়েই সিনেমা তৈরি হচ্ছে দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে। ১৭৭৩ সালে ঘটে যাওয়া উত্তরবঙ্গের সন্ন্যাসী আন্দোলনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে বঙ্কিমচন্দ্রের আনন্দমঠ। ১৮৮২ সালে এই রাজনৈতিক উপন্যাস প্রকাশ্যে আসে বঙ্গদর্শন পত্রিকায়।

এবার সেই আনন্দমঠকেই বড় পর্দায় তুলে আনছেন পরিচালক অশ্বিন গঙ্গারাজু। রাম কমল মুখোপাধ্যায়ের কনসেপ্টের ওপর তৈরি করে ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন বিখ্যাত চিত্রনাট্য পরিচালক ভি বিজয়েন্দ্র প্রসাদ। ছবিটি তামিল, তেলগু, কন্নড়, মালায়লম ও বাংলা মিলিয়ে মোট ৬ টি ভাষায় মুক্তি পেতে চলেছে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১২৮ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গত ৮ এপ্রিল এই সিনেমার কথা ঘোষনা করেছিলেন সুজয় কুট্টি, রামকমল মুখোপাধ্যায় এবং শৈলেন্দ্র কুমার। এই ত্রয়ীর উদ্যোগেই শুরু হয়েছিল সিনেমাটি। আর তার প্রথম টিজার সামনে এল এই বুধবার। যেখানে দেখা যাচ্ছে গেরুয়া বসন পরিহিত এক যোদ্ধা হাতে রুদ্রাক্ষের মালা নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে তলোয়ার হতে এগিয়ে যাচ্ছেন। আর তারই ব্যকগ্রাউন্ড থেকে আসছে ‘বন্দেমাতরম’ ধ্বনি।

এই উপন্যাসে বন্দে মাতরম ধ্বনির সাথে পরিচয় হয় দেশবাসীর। বাঙালির গর্বের এই উপন্যাসকে যে, গৌরবময় করেই দেখানো হবে সেই নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রির খ‍্যাতনামা সব চলচ্চিত্র নির্মাতারা যুক্ত রয়েছেন এই ছবির তৈরিতে। আপাতত এই ছবির নাম দেওয়া হয়েছে ‘১৭৭০’।

whatsapp image 2022 08 17 at 2.46.21 pm

প্রখ‍্যাত চিত্রনাট‍্যকার সিনেমা প্রসঙ্গে বলেন, “সত‍্যি কথাই বলছি, আমার মনে হয়নি যে এই প্রজন্ম উপন‍্যাসের বিষয়বস্তুর সঙ্গে একাত্ম হতে পারবে বলে। কিন্তু যখন আমি রাম কমলের সঙ্গে কথা বলি আর ও আমাকে ওর দৃষ্টিভঙ্গিটা বলে। তখন আমি দেখি যে ওর দৃষ্টিকোণটা একেবারে আলাদা। সেটা অনেকটাই বাণিজ‍্যিক এবং মানুষের ভাবাবেগের সঙ্গে যুক্ত ছিল।” তবে এই উপন্যাসের চিত্রনাট্য লেখা যে অতটাও সহিন থাকেনি সেটাও বলেন বিজয়েন্দ্র প্রসাদ। আসলে এই গল্প যে, স্বয়ং সাহিত্যসম্রাটের লেখা। বলে দিই, বাংলা সহ ৫টি ভাষায় বড়পর্দায় মুক্তি পাবে এই সিনেমাটি।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button