শ্রীলঙ্কার পর এবার কী বাংলাদেশ! পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে ঢাকায় লাখ লাখ মানুষের প্রতিবাদ

বিশ্বজুড়েই প্রভাব পড়েছে ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধের। বিশেষত তেলের দাম বাড়ায় নাকানি চোবানি খাচ্ছে দেশগুলো। তেলে দাম বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতি চরমে উঠেছে বিশ্বজুড়ে। বিশেষত ভারতের (India) প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে এই অবস্থা চরম বেহাল হয়েছে। শ্রীলংকা (Sri  lanka) এবং পাকিস্তানের (Pakistan) পর এবার সেই তালিকায় নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ (Bangladesh)।

বাংলাভাষী এই দেশটি এক লহমায় তেলের দাম বাড়িয়েছে ৫০ শতাংশেরও বেশি। তারপর থেকেই দেখা গিয়েছে একাধিক বিক্ষোভের সমাবেশ। মূলত বাংলাদেশের বিরোধী দল BNP এই বিক্ষোভ তৈরি করেছে। এরপর সেখানে বিপুল পরিমাণ লোক জড়ো হয়ে রাজধানীকে অচল করে দিয়েছে। বিরাট সংখ্যায় লোক জড়ো হওয়ায় রাজনৈতিক অবস্থা নিয়েও শঙ্কা শুরু হয়েছে।

সমাবেশে BNP নেতাদের দাবি যে, দেশের মানুষকে চরম কষ্টে ফেলে শাসক দল আওয়ামী লীগের নেতারা লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা লুটপাট ও পাচার করছেন। তাই সত্বর নেতাদের ইস্তফা দেওয়ার আহ্বান করেছে তারা। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির বলেন, “আপনারা মানুষের সমস্যা সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছেন। সুতরাং আপনাদের এই মুহূর্তে পদত্যাগ করে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচনের মাধ্যমে সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে নতুন পার্লামেন্ট গঠন করতে হবে, নতুন সরকার গঠন করতে হবে। বিএনপি এটা করিয়েই ছাড়বে।”

শাসকদল আওয়ামী লীগ আবার এই সময় বিরোধী দলের থেকে মানুষের আবেগ সরিয়ে নিতে বঙ্গবন্ধুর কথা স্মরণ করে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ দিন বল‌েন, “অগস্ট মাস শোকের মাস। এই মাসে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যা করা হয়েছিল। অগস্টে তাই আমরা রাজপথে নামি না। তবে সেই সুযোগ নিয়ে বিরোধীরা যদি আমাদের হুমকি-ধমকি দিতে শুরু করেন, তবে আমরাও রাজপথে নামতে পিছ-পা হবো না। ভুলে যাবেন না, আওয়ামী লীগ রাজপথ থেকেই ক্ষমতায় গিয়েছে।”

তবে তেলের দাম এক ঝটকায় ৫০ শতাংশ বাড়ানোর প্রভাবেই যে এই বিক্ষোভ তা মানতে নারাজ শাসকদল। এদিকে শাসকদলের সাথে জোটে থেকে শরিক দলগুলিও চাপে ফেলেছে আওয়ামী লীগকে। তারা জানিয়েছেন যে, সরকার দাম বাড়ানোর আগে তাদের সাথে কোনো যোগাযোগ করেনি। এদিকে শাসকদলের অবশ্য দাবী যে, শরিক দল চাইলে আন্দোলনে যেতে পারে।

BNP এর নেতারা সভা ডাকার সময়ের আগেই হাজার হাজার মানুষ সভাকে ভরিয়ে তোলেন। প্রসঙ্গত এর আগেও সেদেশের BNP নেত্রী খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতির দাবিতে গত বছর ২০ নভেম্বর আন্দোলনে সামিল হয়। তারপর থেকে আর এরকম আন্দোলন দেখা যায়নি। তবে এবার আগের চেয়েও বেশি ভিড় জমে অচল করে দেয় দেশকে।

এই প্রসঙ্গে শাসকদলের নেতা আব্দুল কাদের বঙ্গবন্ধুকে টেনে নিজেদের দিকে ঘোরাবার চেষ্টা করেন। তার বক্তব্য, “এই অগস্টে এরাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল। অগস্ট এলেই এদের উল্লাস শুরু হয়। এ বারেও তার ব্যতিক্রম নয়।” তবে ভোটের আগে যে তারা ইস্তফা দেবেন না সেবিষয়ে নিশ্চিত তারা।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button