‘ছেলেটার জীবন নষ্ট হয়ে গেল” মৃত সুতপার পরিবারকে নিয়েই অভিযোগ ঘাতক সুশান্তের পরিজনের

বাংলায় হিংসাজনিত ঘটনা যেন থামার নামই নিচ্ছেনা। একের পর এক খুন-ধর্ষণের পর আবার মালদাতে প্রণয় জড়িত খুনের ঘটনা সামনে এল। ঘটনার স্থান বহরমপুরের গোরাবাজার। গতকাল সোমবার ভরসন্ধেবেলা খুন হয় এক ছাত্রী। আর এরপরই খুনের সাথে উঠে এসেছে প্রণয়ের ঘটনা। ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন মুখ্য অভিযুক্ত সুশান্ত চৌধুরী। সোমবার রাতেই পুলিশ গ্রেফতার করে তাকে।

ধৃত সুশান্ত কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করতেন মালদহের গৌড় কলেজে। পুলিশসূত্রে জানা গিয়েছে যে, বিহারের পাটনাতে নিত্য যাতায়াত ছিল তার। কিন্তু সেইখানে গিয়ে সে কি করতো সেই নিয়ে ধন্ধে রয়েছে খোদ পুলিশ। এদিকে জানা যাচ্ছে যে, নিহত ছাত্রী সুতপা চৌধুরীর বাড়ি মালদহেরই বৈষ্ণবনগর থানার রাজনগরে। অবশ্য তারা ১২ বছর আগে নিজের গ্রাম ছেড়ে দিয়ে ইংরেজবাজারে এসে থাকতে শুরু করে। আর এইখানেই খুনি সুশান্তের সাথে দেখা হয় সুতপার। ঘটনাচক্রে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই পুলিশকে সমস্ত তথ্য দিয়েছেন তার পিসি শান্তিরানি।

আসলে সুশান্ত পড়াশোনা করতেন মালদহের গৌড় কলেজে। সেজন্য তিনি তার পিসি শান্তিরানি চৌধুরীর বাড়িতেই থাকতেন। তার বাড়ি থেকে সুতপাদের বাড়ির দূরত্ব ছিল খুবই সামান্য। এদিন ঘাতক সুশান্তের সাথে যে মৃতা সুতপার প্রেমের সম্পর্ক ছিল সেবিষয়ে নিশ্চিত করেন সুশান্তের কাকিমা পুতুল চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সুতপার সঙ্গে সুশান্তের সম্পর্ক ছিল। সুশান্ত সুতপাকে ভালবাসত। আমি জানি, ওদের সম্পর্কটা বছর দুয়েকের। কিন্তু ওর পরিবারের লোকজন সুশান্তের সঙ্গে বিয়ে দিতে চায়নি। এমনকি, ক্লাবের ছেলেদের দিয়ে মারধর করিয়েছে। সুশান্তের ল্যাপটপও কেড়ে নিয়েছিল। গতকাল খবরটা পাওয়ার পর থেকে, আমরা ভাবতে পারছি না কী ভাবে এমন কাণ্ড ঘটল। সুশান্ত পিসির বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত। ছেলেটার জীবনটাও তো নষ্ট হয়ে গেল।’’

জানা যাচ্ছে সুশান্তের বাবা নিখিল চৌধুরী পেশায় নিজেই একজন পুলিশ কনস্টেবল। বর্তমানে নিউ জলপাইগুড়িতে কর্মরত তিনি। তার তিন ছেলেমেয়ের মধ্যে সুশান্ত তার মেজ ছেলে। সুশান্ত বাড়ির সাথে খুব বেশি যোগাযোগ রাখতো না বলেই জানা গেছে। এছাড়া তার পাটনা যাওয়ার কারণ বিষয়ে অজ্ঞাত খোদ তার পরিবারের সবাই। তবে সুশান্তের দাদা শুভজিৎ চৌধুরী অবশ্য জানান যে, প্রেমের সম্পর্কের মাঝেও সুতপা তার ভাইয়ের সাথে খারাপ ব্যাবহার করত। অনেক দিন ধরেই নাকি খুবই মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে তার ভাই। অবশ্য মেধাবী ছাত্রের এমন কর্মকাণ্ডে হতচকিত খোদ তার শিক্ষকরাও। তারাও ভাবতে পারেননি এরকম করতে করে সুশান্ত।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button