বাংলায় লিখে IAS, একগুঁয়ে এই বাঙালির কাহিনী অনুপ্রেরণা দেবে সবাইকে

কলকাতাঃ প্রথম শ্রেণীতে প্রথম বিটেক করার পর তিনি যোগদান করেছিলেন গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং কনসার্নে। সেখানে চাকরি করতে করতে তাঁর মাথায় হঠাৎই খেলে যায় অল ইন্ডিয়া সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বসার ভাবনা।

এই পর্যন্ত তো ঠিকই আছে। বহু ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় পাশ করেছেন সসম্মানে। কিন্তু তাঁর চিন্তাভাবনা ছিল একেবারে বৈপ্লবিক। তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি সর্বভারতীয় সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার পুরোটাই দেবেন তাঁর মাতৃভাষায় বাংলায়।

তাঁর সহপাঠীরা যখন এই সিদ্ধান্ত জানতে পারেন, বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান। তাঁকে বারংবার নিবৃত্ত করার চেষ্টাও করা হয়, কিন্তু তিনি দমেননি।

আসলে এই একটা ধারণা তো আমাদের মনগহ্বরে বদ্ধমূল থাকে যে, বাংলায় লেখাপড়া করে কিছু হবে না, বাংলায় পড়াশোনা চালালে একটা “ইন্টারভিউও ক্র্যাক” করা যাবে না। সেই সংকীর্ণ চিন্তনে উলটো স্রোতে দাঁড়িয়ে তিনি এই বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত নেন এবং সম্পূর্ণ সাফল্য অর্জন করেন।

আসলে বাংলা ভাষার প্রতি তার ভালোবাসাই যে এর একমাত্র কারণ তা কিন্তু নয়, বরং ২০১০ এর ১৭ জানুয়ারি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায় সাক্ষাতকারে জানিয়েছেন যে, তাঁর মাতৃভাষা যে কতটা সমৃদ্ধ, অন্তরসম্পদে ধনী, অন্য কোনো ভাষার থেকে কোনো অংশে পিছিয়ে নয়, সেটাও দেখানো তার লক্ষ্য ছিল সর্বভারতীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে।

এর জন্য তিনি পরিশ্রমও করেছেন অনেক বেশী। কারণ সমগ্র সিভিল সার্ভিস পরীক্ষাই তিনি দিয়েছেন বাংলায়। ইতিহাস এবং ভূগোল ছিল তার ঐচ্ছিক বিষয়। সমস্ত উত্তর তৈরী করে নিয়মিত বাংলায় লিখে লিখে অভ্যাস করতে হয়েছে। অবশ্য বাবার আশীর্বাদ এবং শিক্ষকেরা তাঁকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন সর্বক্ষণ।

২০০২ সালে যে ইচ্ছার সূচনা, ২০০৬ সালেই তাতে সিদ্ধিলাভ। ২০০৫ সালের সর্বভারতীয় সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়ে ২০০৬ সালে সর্বভারতীয় সিভিল সার্ভেন্ট হিসাবে চাকুরীতে যোগদান তার দৃঢ়চেতা সাফল্যের অলোকাসামান্য স্বীকৃতি।

তিনি হলেন তন্ময় চক্রবর্তী। আজ যখন আমাদের সমাজ “বাংলায় পড়ে চাকরি পাওয়া যাবে না” নামক তুচ্ছতর্কের ঘূর্ণিপাকে মত্ত, তখন তার বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত এবং অত্যুজ্জ্বল সাফল্যের গাথা আমাদের সামনে নির্ভীক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকুক। (ধন্যবাদান্তে অপূর্ব)

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button