সবুজ ঝড় উড়িয়ে দু’বার গেড়েছেন লাল পতাকা! চিনে নিন আসানসোলের বাম প্রার্থী জাহানারাকে

দেশের ১৮তম লোকসভা ভোটকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে রয়েছে সর্বত্র। আর আসন্ন এই লোকসভা ভোটকে পাখির চোখ করে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলি প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে ফেলেছে। প্রতিবারের মতো এবারেও প্রার্থী তালিকায় বেশ চমক দিয়েছে দলগুলি। পিছিয়ে নেই CPIM-ও।

বামেরা বৃহস্পতিবার এপ্রিল-মে লোকসভা নির্বাচনের জন্য পশ্চিমবঙ্গের ১৬টি আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। কলকাতায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেন, ১৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জনই নতুন ও তরুণ। তবে এই তালিকায় আরও একজনের নাম রয়েছে যাকে নিয়ে এখন আলোচনা তুঙ্গে রয়েছে। আর তিনি হলেন জাহানারা খান। চলতি বছরের লোকসভা ভোটে আসানসোল থেকে প্রার্থী করা হয়েছে সিপিআইএম-এর তরফে। এদিকে তৃণমূলের তরফে এই কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী করা হয়েছে তারকা মুখ তথা অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহা। ফলে লড়াই যে জোরদার হবে সেটা আর আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না নিশ্চয়ই।

   

কিন্তু তৃণমূলের প্রার্থীর জীবন চাকচিক্যে ভরা থাকলেও বাম প্রার্থীর জীবনটা একেবারেই সাদামাটা। খনি পরিবার থেকে উঠে এসেছেন জাহানারা খান। তিনি আবার কোনও সেলেবও নন। মানুষ যখনই চান তাঁর দেখা পান। প্রশ্ন উঠছে, তাঁর এই সাদামাটা জীবন কী আসানসোলের মানুষের মনে আলাদা জায়গা করতে পারবে?

যাইহোক জাহানারার গলায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বারবার উঠে এসেছে। তাঁর মতে, বিগত দশ বছর ধরে বঞ্চিত আসানসোল। বিজেপির বাবুল সুপ্রিয় বা হোক বা শত্রুঘ্ন সিনহা, কয়েনের এপিঠ আর অপিঠ। কেউই লোকসভাতে আসানসোলের জন্য আওয়াজ তোলেননি। এই দশ বছরে বন্ধ হয়েছে রাষ্ট্রয়ত্ব কারখানা হিন্দুস্তান কেবলস, বার্নপুর বার্নস্ট্যান্ডার্ড, ব্লু ফ্যাক্টরি সহ বহু কারখানা। মেলেনি ধস পুনর্বাসন। নিজের স্বার্থসিদ্ধি করে চলে যাচ্ছেন। বামপন্থীরা রাস্তায় রয়েছেন। জাহানারা জানাচ্ছেন, ‘মজদুর মেহনতি সাধারণ মানুষের পাশে লালঝান্ডা আছে থাকবে।’

জাহানারা খানের রাজনৈতিক জীবন

৫৫ বছর বয়সী জাহানারা খান জামুরিয়া বিধানসভায় ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল এবং ২০১৬ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বাম বিধায়ক ছিলেন। এরপর ২০১১ সালে তৃণমূল প্রার্থী প্রভাত চট্টোপাধ্যায়কে সিপিএম প্রার্থী জাহানারা খান প্রায় ১০ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করেছিলেন। এমনকী, ২০১৬ সালের ভোটেও সাড়ে ৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন সিপিএম-এর জাহানারা খান। ২০২২ সালে সিপিএম-এর মহিলা সংগঠনে ২৯তম রাজ্য সম্মেলনে জামুড়িয়ার প্রাক্তন বিধায়ক জাহানারাকে রাজ্য সভানেত্রী করা হয়। রানিগঞ্জ গার্লস কলেজ থেকে পড়াশুনা করেন। ১৯৯০ সালে স্নাতক হন। মূলত যুব সংগঠন থেকে তার রাজনীতিতে হাতে খড়ি।পরবর্তীকালে জামুরিয়া মহিলা সংগঠনের নেত্রী হয়ে ওঠেন।

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর