‘২০ দিনে জ্ঞান ফিরেছিল ওঁর”, ঐন্দ্রিলাকে নিয়ে প্রথমবার মুখ খুলে বড় বয়ান তাঁর চিকিৎসকের

ফাইটার! লড়াকু! এই সমস্ত বিশেষণ ঐন্দ্রিলার (Aindrila Sharma) সাহসের কাছে ছোট। আজ সে এই দুনিয়ায় নেই বটে, কিন্তু উদাহরণ হয়ে গেছেন তিনি। একটা মানুষ কেবল মাত্র মনের জোরে কীভাবে নিজেকে বারবার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে সেই উদাহরণ তিনি। যাকে দেখে মাথা নত করে তাবড় তাবড় ডাক্তাররাও।

গত ২০ তারিখ রবিবারের বারবেলায় দিকপারের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছেন ঐন্দ্রিলা। সম্প্রতি তাঁকে নিয়েই নিজের মনের কথা উজাড় করে দিলেন এক চিকিৎসক। যিনি বিগত ৭ বছর ধরে অভিনেত্রীর চিকিৎসা করে আসছেন। যিনি একজন চিকিৎসক হয়েও মানেন, ‘অনেক কিছু শেখার আছে ঐন্দ্রিলার কাছে’‌।

সংশ্লিষ্ট ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের কথায়, ‘দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় দেখেছি, ক্যানসার হলে অনেকে গোপন করতে চান। ও কিন্তু সেই পথে হাঁটেইনি। কেমোথেরাপির নেওয়ার পর চুল উঠে গিয়েছে। কোনও দিন পরচুল পরেনি। রবীন্দ্রনাথকে আত্মস্থ করেছিল বোধহয়! ওই যে, ‘ভাল মন্দ যাহাই আসুক, সত্যেরে লও সহজে’।’

তিনি জানান, ঐন্দ্রিলার যখন প্রথম ক্যান্সার হয় তখন ও স্কুলে পড়ে‌। ঐ ছোট্ট বয়সেই কী অদম্য জেদ, কী অদম্য প্রাণশক্তি। দিল্লিতে চিকিৎসা করতে গিয়েই নাকি ঐন্দ্রিলাকে দেখেন তিনি। তখন থেকেই অভিনেত্রীর চিকিৎসার দায়িত্ব বর্তায় তার উপর। সেবার চিকিৎসার পর পুরোপুরি সুস্থও হয়ে যায় সে। কিন্তু আবার ৬ বছর পর ফিরে আসে সেই দূরারোগ্য ব্যাধি।

দ্বিতীয়বার একটু ভেঙে পড়লেও লড়াইটা ছাড়েনি। সেই সময় ফুসফুসে জটিল একটা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। ওটা নাকি এতটাই জটিল ছিল যে, ঐন্দ্রিলা অপারেশন থিয়েটারের টেবিলেই মারা যেতে পারত। ক্যান্সার স্পেশালিস্টের কথায়, তখন ঐন্দ্রিলা বলে, ‘‘আপনি ওটি করুন।!’’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চিকিৎসকেরা জানি, রোগী যদি ‘পজিটিভ’ ভাবনায় থাকেন তা হলে তার বাঁচার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ওর মধ্যে সেই ‘পজিটিভ’ মানসিকতা ছিল। তাই ও ‘ট্রু স্টার’। ও ‘ট্রু ফাইটার’ও।’ এবার যখন ব্রেইন স্ট্রোক হয় তখন অস্ত্রোপচার করে রক্ত বার করা হয়। ডাক্তাররা আশা‌ হারিয়ে ফেললেও ঐন্দ্রিলার শরীর আশা ছাড়েনি।

aindrila sharma

২০ দিন ধরে সাংঘাতিক লড়াই করেছিল। কিন্তু পর পর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। স্ট্রোক। তাতেই কাহিল হয়ে পড়ল মেয়েটা। বারবার রক্তক্ষরণেই চলে গেল সে। তিনি আরো জানান, ক্যান্সারের কারণেই হয়ত ঐন্দ্রিলার ব্রেনের ভেসেল ভঙ্গুর হয়ে পড়েছিল। তবে ২০ তম দিনে জ্ঞান ফিরেছিল ওর। যদিও মুখে পাইপ থাকায় কথা বলতে পারেনি। তবে ওর রুগ্ন শরীর সাড়া দিয়েছিল বহুবার।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button