মারা গিয়েছেন স্বামী, পেট চালাতে বেছে নেন কৃষিকাজ! আজ চাষ করে বছরে ৩০ লাখ আয় সঙ্গীতার

নাসিকঃ মনে শক্তি ও ইচ্ছে থাকলে মানুষ কি না পারে, এরই এক জলজ্যান্ত উদাহরণ হলো মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা একজন মহিলা সঙ্গীতা পিঙ্গল। ভারতে যেখানে বেশির ভাগ মহিলারা এখনও বাড়ি থেকে বের হতে দ্বিধা বোধ করেন সেখানে সঙ্গীতা পিঙ্গল ট্র্যাক্টর চালানো থেকে শুরু করে কৃষিকাজ সবকিছুই আয়ত্ত করেন এবং আজ তিনি তার ১৩ একর জমিতে আঙ্গুর এবং টমেটোর এক বিশাল কৃষিক্ষেত্র তৈরি করেছেন।

পুরুষশাসিত সমাজে একজন নারীর স্বামী মারা গেলে মানুষ তাকে অসহায় ভেবে নেয়। সমাজ আগের থেকে ঠিক করে দেয় কোনটা মহিলার কাজ , কোনটা পুরুষের। কিন্তু সেটা যে ঠিক নয় সব কাজ সবার জন্য সমান তাই প্রমাণ করে দিলো সঙ্গীতা। সঙ্গীতা পিঙ্গল নাসিকের বাসিন্দা। ২০০৭ সালে একটি মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় স্বামীকে হারান। তারপর থেকেই শুরু হয় তার জীবন সংগ্রাম। সঙ্গীতা তখন ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন যখন তার স্বামী মারা যায়। এই দূর্ঘটনায় রীতিমত ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার চেয়েও বড় সংকট তার জীবনে এলো যে তার কাছের মানুষরাই তাকে বোঝা ভাবতে শুরু করলো এবং তার সব আত্মীয়স্বজনও একে একে তার থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করলো।

fchcubjvgaeiyuj 617bba2f09e5a

সঙ্গীতার স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার এবং তার দুই সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন। কিন্তু বিধি বাম, কিছুদিন পর তার শ্বশুরও মারা যান। এতো বড়ো পৃথিবীতে একা হাতে দুই সন্তানকে নিয়ে শুরু হয় তার লড়াই। তার স্বামীর রেখে যাওয়া ১৩ একর জমিতে কৃষিকাজ শুরু করার পরিকল্পনা করেন তিনি। এর আগে কখনোই মাঠের কাজকর্ম দেখেননি তিনি। শুরুতে চাষের কাজের জন্য ভাইয়দের পরামর্শ নেন তিনি। সঙ্গীতা নিজে বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী। নিজের জ্ঞান ও ভাইয়ের পরামর্শ নিয়ে ১৩ একর জমিতে চাষ শুরু করেন।

whatsapp image 2022 01 06 at 8.38.26 am 1

তবে লড়াইটা এতোটা সহজ ছিলোনা। মাঠে নেমে দেখলেন কাজটা এতোটাও সহজ নয়। কখনো ফসলে পোকামাকড় লেগে যাচ্ছে আবার কখনো অন্য কারণে ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পরিশ্রম করলেও ফলন ভালো হচ্ছে না। জীবনের এই সময়টা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু সমাজের কটূক্তির কথা মনে করে থামিয়ে রাখেননি নিজেকে। কৃষিকাজ সম্পর্কে আরও পড়াশোনা শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে নিজেকে ঘষে মেজে এতোটাই দক্ষ করে তোলেন যে আজ সেই জমি থেকে প্রতি বছর ৩০ লাখের বেশি মুনাফা অর্জন করেন।

সঙ্গীতা বলেন যে বর্তমানে তিনি তার ফসল বিদেশে রপ্তানি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং যদি তিনি তা করতে সক্ষম হন তবে এটি শুধু তার জন্যই নয় সমাজের সমস্ত নারীর জন্য একটি বড় সাফল্য হবে।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button