৩২ বৎসর পর মাহেন্দ্রক্ষণ, শ্রীনগরের মন্দিরে পুজো দিয়ে হিন্দি নববর্ষ পালন কাশ্মীরি পণ্ডিতদের

শ্রীনগরঃ ১৯৯০ সালে উপত্যকা ছেড়েছিল কাশ্মীরি পণ্ডিতরা। কেটে গিয়েছে দীর্ঘ ৩২ বৎসর। তারপর এই প্রথম কাশ্মীরে কাশ্মীরি পণ্ডিতরা শ্রীনগর এর ডাল লেকের তীরে ‘নবরেহ’ উৎসব উদযাপন করেছেন। নবরেহ হল হিন্দি নতুন বছরের প্রথম দিন। হিন্দু ঐতিহ্যের মধ্যে সারাদেশেই এইসময় দেখা যায় বর্ষবরণ। পাঞ্জাবে বৈশাখী, তামিলনাড়ুতে পোঙ্গল, কর্নাটকে উগাড়ি , বাংলাতে নববর্ষ। ঠিক তেমনই কাশ্মীরের এই নবরেহ। কিন্ত দীর্ঘ ৩২ বৎসর কাশ্মীরে দেখা যায়নি এই অনুষ্ঠান।

কাশ্মীরি পণ্ডিতরা মাতা শারিকা দেবীর মন্দিরে পুজো দেন এই দিন। পুরনো শ্রীনগরের ‘হরি পর্বত’ নামক টিলার ওপর অবস্থিত এই মন্দির। দেশত্যাগের আগে কাশ্মীরে পণ্ডিতরা এখানেই নববর্ষ উদযাপন করতেন। সেখানেই জড়ো হওয়া কিছু মানুষকে জিজ্ঞেস করলে জানা যায় যে, গত কয়েক বছরে উপত্যকার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বহুলাংশে। তলানিতে এসে ঠেকেছে সন্ত্রাসী আক্রমণ। এবার কাশ্মীরি পণ্ডিতরা আবার তাদের স্বদেশে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

শুধুমাত্র কাশ্মীরেরই নয়, কাশ্মীরের বাইরে বসবাসকারী কাশ্মীরি পণ্ডিতরাও নববর্ষ উদযাপনের জন্য জড়ো হয়েছিল। অনেক ধন্যবাদ দিয়েছেন বিবেক অগ্নিহোত্রির মুভি দ্য কাশ্মীর ফাইলসকে। উপত্যকা থেকে কাশ্মীরি পন্ডিতদের নির্বাসনের ওপর তৈরি ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ ফিল্মটি প্রকাশের পরে ঘটে যায় অনেক কাণ্ড। সারা দেশ জানতে পরে কি হয়েছিল কাশ্মীরি পণ্ডিতদের সাথে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের গণহত্যার ওপর তদন্ত করতে চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করতে গেলে খারিজ হয়ে যায় সেটি। এরপর রিভিউ পিটিশনও হয়ে যায় খারিজ। এরপরে আসা ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ সমগ্র দেশবাসী তুলে ধরে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের নির্বাসনের চিত্র। তারপর থেকেই সারা দেশ সাথ দিয়েছে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের এবং সফল হয় মুভিটি।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button