এক আইডিয়ায় শেয়ার মার্কেটের এক্সপার্ট অটো ড্রাইভার! এখন টিপস দিচ্ছে সবাইকে

কথাতেই আছ, মানুষ পারে না এমন কোনো জিনিস নেই। সবথেকে বড় কথা, মানুষের কিন্তু কোনও কিছু শেখার নির্দিষ্ট বয়স নেই। কেউ যদি কোনোকিছু করে দেখানোর লক্ষ্য নিয়ে থাকে তাহলে সে যেনতেন প্রকারে কাজ করার চেষ্টা করবে। যার একদম জলজ্যান্ত উদাহরণ হলেন মুম্বইয়ের বিশাল পাইকরাও।

কোনওরকম বড় ডিগ্রি ছাড়াই, তিনি স্টক মার্কেট সম্পর্কে এতটাই বেশি জ্ঞান অর্জন করে ফেলেছেন যে এখন তিনি অন্যান্য মানুষকে পরামর্শ দেন। বিশাল পাইকরাও, যিনি মাত্র দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন, পেশায় একসময় অটো চালক। মুম্বইয়ের রাস্তায় অটো চালানোর পাশাপাশি বিশাল শেয়ার বাজারে যারা বিনিয়োগ করেন, তাঁদের পরামর্শ দেন। একজন অটোচালক যিনি বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ দিচ্ছেন তা নিয়ে এই স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা হচ্ছে।

   

আর পাঁচটা সাধারণ ছেলের মতো বিশালও চোখে অনেক স্বপ্ন নকয়ে মুম্বাইতে পৌঁছেছিলেন। যদিও সংসারের হাল ধরতে হবে, এই কথা ভেবে মুম্বাইয়ের রাস্তায় অটো চালাতে শুরু ককরেন বিশাল। তবে বিধাতা মনে হয় অন্যকিছুই লিখে রেখেছিল বিশালের কপালে। বিশাল দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তিনি কুরিয়ার বয় হিসেবে কাজ করতেন কিন্তু এই কাজ বেশিদিন করতে পারেননি।

vishal

এরপর অটোচালকের কাজ করেন বিশাল। তবে অটোচালক বিশাল টিভি ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ট্রেডিং শিখতে শুরু করেন। বিশাল প্রতিদিন সকালে বাজার খোলার আগে মুম্বাই জুড়ে অটো চালান। এটাই তাঁর কর্মসংস্থান। যাত্রীদের ওঠানো বা নামানোর সময়েও বিশালের ল্যাপটপ খোলা থাকে এবং কিভাবে ট্রেডিং করা যায় সেই নিয়ে কাজ করতে থাকেন। এমনও হয়েছে অটো চালাতে চালাতে তা এক সময় থামিয়ে ট্রেডিং করতে শুরু করেন বিশাল। এদিকে সামান্য অটোচালকের এহেন কান্ড দেখে সকলে অবাক হয়ে যান স্বাভাবিকভাবেই।

অটো চালক বিশাল পাইকরাও নিজে ট্রেডিংয়ের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বাজারে অর্থ বিনিয়োগের জন্য উপকারী পরামর্শ দেন। যারা শেয়ার বাজারে অর্থ বিনিয়োগ করতে চায় তাদের তারা ব্যবসা করা শেখায়। বিশাল বলছেন, ট্রেডিংয়ের ফলে তাঁর জীবনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। তার জীবন এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে। তিনি বলেন যে সামান্য অটো চালিয়ে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যে তার জীবন চালানোর জন্য যথেষ্ট উপার্জন করতে পারেন না। এ কারণে তিনি আয়ের দ্বিতীয় উৎসের জন্য ট্রেডিংকে বেছে নিয়েছেন।

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর