দ্বাদশ ফেল, চালিয়েছেন ট্যাম্পো, শুয়েছেন ভিখারিদের সঙ্গে! বান্ধবী সঙ্গ দেওয়ায় আজ IPS অফিসার

সফলতা এক রাতের খেলা নয়। যে বারংবার ধাক্কা খেয়ে জীবনের সাথে লড়াই করে ফিরে দাঁড়ায় গোটা বিশ্ব তাকে কুর্নিশ জানায়। সংগ্রামই যে শেষ কথা তা প্রমাণ করে দিয়েছেন ২০০৫ সালের আইপিএস ক্যাডার মনোজ শর্মা।এক সময় ধনী ব্যক্তিদের বাড়ির কুকুর দেখাশোনা করা, আবার কখনো ট্যাম্পো চালিয়ে দিন গুজরান করতেন তিনি। প্রেমিকার উৎসাহে আজ তিনি IPS অফিসার। আজ আমরা আইপিএস অফিসার মনোজ কুমার শর্মার কথা বলতে যাচ্ছি, যিনি দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। অনেক ব্যর্থতা সত্ত্বেও, মনোজ নিজের উপর বিশ্বাস না হারিয়ে করে গেছেন লড়াই। তিনি নিজের লক্ষ্যে অবিচল থেকে দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পরীক্ষা ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস-এর জন্য প্রস্তুতিও শুরু করেন এবং তাতে সফলও হন।

মনোজের জীবন কাহিনী লেখা হয়েছে ‘Twelfth Fail’ নামক একটি বইতে। বইটি মহারাষ্ট্র ক্যাডার আইপিএস মনোজ শর্মার জীবনের উপর লেখা একটি বাস্তব গল্পের উপর ভিত্তি করে। বইটির লেখক মনোজের বন্ধু অনুরাগ পাঠক।

মনোজ শর্মা মধ্যপ্রদেশের মোরেনা জেলার বাসিন্দা। শৈশব থেকেই আইএএস অফিসার হতে চেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, তিনি দ্বাদশ শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হতে পারেনি। শুধু তাই নয়, তিনি নবম, দশম এবং একাদশ শ্রেণীতেও কোনোভাবে তৃতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। রেজাল্ট ভালো না হওয়ায় তিনি ঠিক করেছিলেন দ্বাদশ পাস করার পর টাইপিং শিখে কোথাও চাকরি শুরু করবেন। মনোজের কথা থেকেই জানা যায়, একাদশ শ্রেণী পর্যন্ত তিনি নকল করে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতেন। কিন্তু দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষায় এলাকার এসডিএমএর নির্দেশে পরীক্ষার হলে কড়া পাহারা বসায় নকল করার সুযোগ পাননি তিনি। ফলস্বরূপ দ্বাদশ শ্রেণীতে হিন্দি বাদে সব বিষয়ে ফেল করেছিলেন মনোজ।

এই প্রসঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘এসডিএমের ওই সিদ্ধান্ত আমার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। ভাবলাম এত ক্ষমতাবান কে? ঠিক তখনই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে আমিও এসডিএম হতে চাই।’

“Twelfth Fail” এই বইটিতে মনোজ বলেছেন, ‘পরীক্ষায় ফেল করার পর তিনি জীবনে কী করবেন তা আর ভাবতে পারেননি। অবশেষে উপায় না দেখে তিনি ট্যাম্পো চালানো শুরু করলেন এবং তার বাড়ির অবস্থাও ভাল ছিল না যাতে তিনি আর পড়াশোনা করতে পারেন। এমতাবস্থায় একবার এসডিএম দ্বারা তার ট্যাম্পো বাজেয়াপ্ত করা হয়।‌ ট্যাম্পো ছাড়ানোর জন্য ছুটে যান এসডিএম’এর কাছে, এবং সেই মুহূর্তে এসডিএম’এর ক্ষমতা তাকে এতোটাই প্রভাবিত করে যে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন যে তার এই পদটাই চাই।

এরপর তিনি দিল্লি পাড়ি দেন ইউপিএসসির প্রস্তুতির জন্য। পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতোটাও ভালো নয় যে তার পড়াশোনার খরচ যোগাতে পারে। এই সময় অবস্থা এতোটাই খারাপ ছিলো যে রাস্তার পাশে ভিক্ষুকদের পাশে শুয়েও রাত কাটিয়েছেন তিনি। এমতাবস্থায় ভাগ্য কিছুটা মুখ তুলে চাইলে একটি লাইব্রেরীতে পিওনের চাকরি পান‌। এতে সবচেয়ে বড়ো সুবিধা হয়, তিনি রাতে ডিউটি দেওয়ার সময় বই পড়তে পারতেন। এরপর জায়গা পরিবর্তন করেন তার পরবর্তী পড়াশোনার জন্য। দিল্লিতে গিয়ে থাকা খাওয়ার খরচ জোগানোর জন্য টাকার বিনিময়ে শহরের ধনী ব্যক্তিদের পোষা কুকুর দেখাশোনার কাজ নেন তিনি। এরই মধ্যে একজন শিক্ষক তার প্রচেষ্টা দেখে বিনা পারিশ্রমিকে টিউশনি পড়াতে থাকেন। প্রথম প্রচেষ্টায় ভাগ্য সাথ না দিলেও হাল ছেড়ে দেননি তিনি।

955951 manoj kumar sharma ips 4565

সেই সময় দিল্লিতে তিনি প্রেমে পড়েন এক যুবতীর। কিন্তু তার পূর্ব জীবনের ব্যর্থতার কারণে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারেননি। অপ্রাপ্ত ভালোবাসায় তিনি ভীত ছিলেন। অবশেষে মেয়েটিকে প্রস্তাব দিয়ে বললেন, “তুমি হ্যাঁ বলো, আমরা পুরো বিশ্বকে ঘুরিয়ে দেব।” এরপরই ঐ যুবতীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে আবদ্ধ হন। প্রেমিকার উৎসাহ আর নিজের অদম্য জেদের কারণে তিনবার ব্যর্থ হওয়ার পরও আবার ইউপিএসসিতে বসেন তিনি। তারপরে মনোজ চতুর্থ প্রয়াসে ইউপিএসসিতে উত্তীর্ণ হয়ে আইপিএস হন।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button