মা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, ফেসবুকে ১.৮৩ কোটি টাকার চাকরি পেলেন ছেলে! অসাধ্য সাধন রামপুরহাটের বিশাখের

জীবন আসলে এক লড়াই। লড়াই করে যারা এগিয়ে যেতে পারবে তারাই সফল হবে, এইকথা যেন আবারো প্রমাণ করে দিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিশাখ মন্ডল। ফেসবুক এবং গুগলে একসাথে বিরাট অংকের চাকরি পেয়ে অবাক করে দিয়েছেন তিনি। ফেসবুকে কাজ করার বিনিময়ে তিনি পেয়েছেন ১ কোটি ৮৩ লক্ষ টাকার অফার। আর গুগলের থেকে ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকার বিরাট অফার। স্বভাবতই এই সংবাদে খুশির ছোঁয়া সারা পরিবারে। কিন্তু কেমন ছিল তার বড় হয়ে ওঠা?

নিজেই জানালেন যে তার মায়ের কারণেই তিনি এই জায়গায় এসে পৌঁছতে পেরেছেন। বিশাখের যখন মাত্র ৩ বছর বয়স তখন থেকেই তার মা তাকে একা হতে সামলেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই বলেন যে, ‘‘আমার সাফল্যের পিছনে মায়ের অবদান বলে বোঝানো যাবে না।’’ রামপুরহাটের বাসিন্দা বিশাখ সেখানেরই স্থানীয় জিতেন্দ্রলাল বিদ্যাভবন থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। মেধাবী এই ছাত্র দ্বাদশ স্থান অধিকার করেন উচ্চমাধ্যমিকে। এরপর ইঞ্জিনিয়ারিং-র পরীক্ষা দিয়ে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে ভর্তি হন যাদবপুরে।

তার চাকরির প্যাকেজ শুনে স্তম্ভিত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও। বিশাখ প্রথমে গুগলের থেকে অফার পেলেও রাত ১২ টার সময় ফেসবুকে আরো বড় অংকের চাকরির প্রস্তাব পেয়ে যান। এরপরই তার মাকে ঘুম থেকে তুলে খবর দিলে তিনি আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান। তার কথায় সেদিন তিনি আনন্দে আর ঘুমোতে পারেননি। আগামী আগস্ট বা সেপ্টেম্বরে কাজে যোগ দেবেন তিনি। তার এই সাফল্যে তার মা শিবানি মন্ডল যিনি নিজে একজন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, তিনি আপ্লুত হয়ে পড়েন।

আসলে মাত্র তিন বছর বয়স থেকে বিশাখকে একা হতে মানুষ করেছেন তার মা। প্রথমের দিকে ভাড়াঘরে থাকলেও পরে আত্মীয়দের সহযোগিতায় একটি ছোট ফ্ল্যাটে ওঠেন তারা। শিবানিদেবী এদিন তার ছেলের সাফল্য সম্পর্কে বলেন যে, ‘‘ছেলেকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতাম। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর সামান্য বেতনে কুলোতে পারতাম না। বাপের বাড়ির সাহায্য ছাড়া এই জায়গায় পৌঁছনো মুশকিল ছিল।’’ আপাতত বিশাখের এই সাফল্যে বাড়িতে আনন্দের হওয়া বইছে।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button